ট্রাভেলগ ফাগুনের আগুন লাগা শিমুল বনে

Send
দেবাশীষ রনি
প্রকাশিত : ১৮:০৯, ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:০৯, ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০১৯

‘আহা আজি এ বসন্তে এত ফুল ফোটে, এত বাঁশি বাজে, এত পাখি গায়’— বৃক্ষপ্রেমী জয়নাল আবেদীনের শিমুল বাগানে গিয়ে প্রথম দেখাতেই মনে হলো, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেন এখানে বসেই কথাগুলো লিখেছিলেন। বসন্ত আসার আগেই ফাগুনের আগুন লেগেছে সেখানে। প্রকৃতি আর কল্পনার অপরূপ মেলবন্ধন বলা যায়।

তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট (উত্তর) ইউনিয়নের সুদৃশ্য জাদুকাটা নদীর তীরঘেঁষে মানিগাঁও গ্রাম। সেখানে জয়নাল আবেদীনের ২ হাজার ৪০০ শতক জমি আছে। সেই জমিতে প্রায় তিন হাজার শিমুল গাছ। গাছে গাছে টকটকে লাল শিমুল ফুল যেমন আছে, তেমনই হালকা কমলা রঙের ফুলও আছে।

বিশাল শিমুল বাগানের একপ্রান্তে দাঁড়ালে অন্যপ্রান্ত দেখা যায় না। বাগানের মাঝখানে অনেক লেবু গাছ। সেগুলো বাগানকে দুটি ভাগে বিভক্ত করেছে। বোঝা যায়, সারিবদ্ধভাবে সুন্দর পরিকল্পনা করে এটি সাজানো হয়েছে। বাগানের ভেতর যেদিকেই চোখ যায় সেদিকেই শিমুল গাছের সারির সৌন্দর্য। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এত বিশাল শিমুল বাগান দেশের আর কোথাও নেই।

শিমুলের রক্তরাঙা সৌন্দর্য দেখতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি কাকডাকা ভোরে সিলেট নগরীর কুমারগাঁও থেকে বাসে যাত্রা শুরু করি। ঘোরাঘুরির সঙ্গী যথারীতি বন্ধু বিশ্বজিৎ সূত্রধর ও তাপস সূত্রধর। সুনামগঞ্জ পৌঁছে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আবদুজ জহুর সেতু থেকে মোটরবাইকে করে গ্রামের ধুলোমাখা পথ ধরে দুপুরবেলা পৌঁছাই শিমুল বাগানে। শতসহস্র রক্তিম লাল শিমুল দেখে ক্লান্তি অনেকটা ভুলে মন জুড়ালো।

বাগানের ভেতরে যেদিকে তাকাই শুধু লাল আর লাল। গাছে গাছে লাল ফুল। গাছের নিচে মাটিতেও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ফুল। গাছ থেকে ফুল মাটিতে পড়ছে, থপ করে শব্দ হচ্ছে। ধুলোমাখা মাটি যেন ফুলে ফুলে সাজানো লালগালিচা! রূপকথার কোনও রাজ্য মনে হতে পারে একঝটকায়। বসন্ত আসার আগেই অজস্র ফুটন্ত শিমুল ফুল যেন বলে দিচ্ছে, বসন্ত এসে গেছে!

যেভাবে যাবেন
সিলেট শহরের কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড থেকে সরাসরি সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কপথে বাসে চড়ে সুনামগঞ্জ যেতে হবে। বাস ভাড়া জনপ্রতি ১০০ টাকা। সুনামগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আবদুজ জহুর সেতু থেকে মোটরবাইকে করে যেতে হবে শিমুল বাগানে। প্রতিটি মোটরবাইক ভাড়া নেবে যাওয়া-আসা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। চাইলে প্রাইভেট গাড়িতে চড়েও যেতে পারবেন।

গাড়িতে করে জাদুকাটা নদী পাড়ের লাউয়ের গড় বাজার পর্যন্ত যাওয়া যায়। নৌকায় নদী পার হয়ে টিলার রাস্তা ধরে কিছুটা ওপরে উঠলেই একটি ছোট বাজার পাওয়া যায়। এর বাঁ-দিকে কাঁচা রাস্তা ধরে কিছুক্ষণ হাটলেই পৌঁছে যাবেন শিমুল বাগানে।

সচেতনতা
পরিবেশ হুমকিতে পড়ে এমন কিছু অবশ্যই করা যাবে না। পলিথিন বা প্লাস্টিকের বোতলসহ পরিবেশ বিপন্ন হয় তেমন কিছু মনের অজান্তে ফেলে আসবেন না। প্রকৃতিকে বেঁচে থাকতে দিন তার নিজের মতো করে।

ছবি: লেখক

/জেএইচ/
টপ