বিশ্বসেরা রেস্তোরাঁর পুরস্কার জিতলো ফ্রান্সের মিরাজুর

Send
জার্নি ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৯:০০, জুন ২৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:২৪, জুন ২৬, ২০১৯

মিরাজুরে পুরস্কার জয়ী খাবারের পাশাপাশি উপভোগ করা যায় ভূমধ্যসাগরের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যবিশ্বসেরা রেস্তোরাঁর মুকুট জিতলো ফ্রান্সের মেনতন শহরে অবস্থিত মিরাজুর। সিঙ্গাপুরের মেরিনা বে স্যান্ডসে মঙ্গলবার (২৫ জুন) ওয়ার্ল্ড ফিফটি বেস্ট রেস্টুরেন্টসের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে চ্যাম্পিয়ন হলো এটি। এর পরিচালক আর্জেন্টাইন-ইতালিয়ান শেফ মাওরো কোলাগ্রেকোর নেতৃত্বে তার রন্ধনশিল্পীর দল ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, ইতালি ও ব্রাজিলের পতাকা নিয়ে মঞ্চে ওঠেন। তখন মাওরো বলেন, ‘ফ্রান্স আমাকে নিজের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ দিয়েছে। তবে রান্না সব ধরনের সীমান্তকে ছাড়িয়ে যায়।’

গত বছর বিশ্বসেরা ৫০ রেস্তোরাঁর তালিকায় তিন নম্বরে ছিল মিরাজুর। ২০০৬ সালে ইতালিয়ান সীমান্তবর্তী ফরাসি উপকূলে এই খাবারের দোকান প্রতিষ্ঠিত হয়। এর ঝুলিতে আছে তিনটি মিশেলিন তারকা। এটি পরিচালনা করেন আর্জেন্টাইন-ইতালিয়ান শেফ মাওরো কোলাগ্রেকো। তার বিভিন্ন মেন্যু ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। এর মধ্যে পছন্দের শীর্ষে আছে তার নিজের বাগানে উৎপাদিত বিট্রুট দিয়ে ক্যাভিয়ার ক্রিমসহ সল্ট-ক্রাস্টেড বিট্রুট।

২০০২ সাল থেকে দেওয়া হচ্ছে রেস্তোরাঁ শিল্পের ‘অস্কার’তুল্য ওয়ার্ল্ড’স ফিফটি বেস্ট রেস্টুরেন্টস পুরস্কার। আয়োজকরা জানায়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ১ হাজার রন্ধন বিশেষজ্ঞের বিচারে বিজয়ী তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে।

ওয়ার্ল্ড’স ফিফটি বেস্ট রেস্টুরেন্টস প্রকাশ করে ব্রিটিশ ভিত্তিক উইলিয়াম রিড বিজনেস মিডিয়া। তাদের দৃষ্টিতে, ভোজনরসিকদের মুগ্ধকর অভিজ্ঞতা দিয়ে থাকে মিরাজুর। ভূমধ্যসাগরের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় সেখানে। এছাড়া তিন স্তরের সবজি বাগান দেখার মতো। মিরাজুরে একদল প্রতিভাবান রন্ধনশিল্পী কাজ করে। সেজন্যই এটি এখন বিশ্বসেরা রেস্তোরাঁর মধ্যে শীর্ষে।

মিরাজুরের শেফ মাওরো কোলাগ্রেকোপুরস্কারজয়ের পর শেফ মাওরো কোলাগ্রেকো বলেন, ‘মনে হচ্ছে আকাশে উড়ছি! এই অর্জন অবিশ্বাস্য। সত্যি বলতে মনের কথা বোঝানোর ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। পুরস্কারটি খুব স্পেশাল। রান্নার প্রতি আমার টিমের পরিশ্রম ও ভালোবাসার সুবাদে আমি ও আমার স্ত্রী জুলিয়া বিশেষ কিছু পেলাম। এমন মর্যাদাসম্পন্ন পুরস্কার জয়ে বিশ্ব দেখলো স্বপ্ন থাকলে তা সত্যি হয়।’

শীর্ষ দশে আছে স্পেনের সর্বাধিক তিনটি রেস্তোরাঁ। ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও পেরুর আছে দুটি করে রেস্তোরাঁ। তালিকার দুই নম্বরে আছে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনের নোমা। একই শহরের জেরানিয়াম স্থান পেয়েছে পাঁচে। স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ আসাদর এতসেবারি ১০ থেকে একলাফে তিন নম্বরে উঠে গেছে। আক্সপে শহরের এই দোকান কাঠে পোড়ানো বারবিকিউর জন্য বিখ্যাত। সেখানকার সব মেন্যু এমনকি ডেজার্টও গ্রিল্ড করা হয়। স্পেনের সান সেবাস্তিয়ান শহরের ‘মাগারিৎজ’ (শেফ আন্দোনি লুই আদুরিস) ৯ নম্বর থেকে উঠে এসেছে সাতে। স্প্যানিশ আরেক রেস্তোরাঁ দিসফ্রুতার ১৮ থেকে চলে এসেছে ৯ নম্বরে।

থাইল্যান্ডের রাজধানীর ব্যাংককের ‘গাগান’ পাঁচ নম্বর থেকে উঠে এসেছে চারে। এশিয়ার সেরা রেস্তোরাঁর খেতাব পেয়েছে এটি। শেফ গগন আনন্দ ২০১০ সালে এই দোকান চালু করেন।

ছয় নম্বর স্থানটি ধরে রেখেছে পেরুর রাজধানীর লিমার ‘সেন্ট্রাল’। এর দুই শেফ ভিরজিলিও মার্তিনেস ও পিয়া লিওন। লাতিন আমেরিকার দেশটির আরেক রেস্তোরাঁ ‘মাইদো’ সাত থেকে নেমে গেছে ১০ নম্বরে। দোকানটির শেফ মিতসুহারু সুমুরা পেরু ও জাপানের খাবারের সম্মিলন ঘটান।

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ১৯৮৬ সালে শেফ আলা পাসার গড়া ‘আরপেজ’ আট নম্বর স্থান অক্ষুণ্ণ রেখেছে। বিভিন্ন দেশের রন্ধনশিল্পীদের ভোটে শেফস চয়েস অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন আলা পাসা। জাপানের রাজধানী টোকিওর রেস্তোরাঁ ডেন জিতেছে আর্ট অব হসপিটালিটি অ্যাওয়ার্ড। এটি ১৭ থেকে উঠে এসেছে ১১ নম্বরে।

বিশ্বসেরা ৫০ রেস্তোরাঁর তালিকায় যুক্তরাজ্যের দুটি রেস্তোরাঁ স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে দ্য ক্লোভ ক্লাব ২৭ নম্বরে ও লাইল আছে ৩৩ নম্বরে। দুটোই লন্ডন শহরের শোরডিচে অবস্থিত। ২৮ থেকে ১৮ নম্বরে উঠে এসেছে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল গ্যালারিতে অবস্থিত জুলিয়েন রয়ারের ওডেট।

মেক্সিকান বংশোদ্ভুত ড্যানিয়েলা সতো-ইনেস বিশ্বসেরা নারী শেফ নির্বাচিত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানে তার রেস্তোরাঁ কজমা সেরা ৫০ রেস্তোরাঁর তালিকায় ২৫ থেকে নেমে গেছে ২৮ নম্বরে। বিশ্বসেরা প্যাস্ট্রি শেফ পুরস্কার পেয়েছেন জেসিকা প্রেয়ালপাতো। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে আলা দুকাসো প্লাৎজা আতিনিতে তার মেন্যু উপভোগ করা যায়।

ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের প্রতিষ্ঠাতা স্প্যানিশ-আমেরিকান শেফ জোসে আন্দ্রেস পেয়েছেন আইকন অ্যাওয়ার্ড। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিনামূল্যে খাবার সরবরাহ করে থাকে এই অলাভজনক সংগঠন। অ্যান্থনি বুরডেইনের জন্মদিনে পুরস্কার বিতরণী হওয়ায় তাকে স্মরণ করেন তিনি। এবারই প্রথম পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হলো এশিয়ায়।

গতবারের শিরোপা জয়ী ইতালির মোদেনা শহরের ‘ওস্তেরিয়া ফ্রান্সেসকানা’ এবার সেরা ৫০ রেস্তোরাঁর তালিকায় নেই! এ বছর নিয়মনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনা হয়। এ কারণে নিউ ইয়র্কের ইলেভেন ম্যাডিসন পার্ক, ক্যালিফোর্নিয়ার দ্য ফ্রেঞ্চ লন্ড্রি ও লন্ডনের দ্য ফ্যাট ডাক তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এগুলোকে পরবর্তী সময়ে ‘বেস্ট অব দ্য বেস্ট’ পুরস্কারের জন্য বিবেচনা করে হতে পারে।

বিশ্বের শীর্ষ ১০ রেস্তোরাঁ
১. মিরাজুর (মেনতন, ফ্রান্স)
২. নোমা (কোপেনহেগেন, ডেনমার্ক)
৩. আসাদর এতসেবারি (আক্সপে, স্পেন)
৪. গাগান (ব্যাংকক, থাইল্যান্ড)
৫. জেরানিয়াম (কোপেনহেগেন, ডেনমার্ক)
৬. সেন্ট্রাল (লিমা, পেরু)
৭. মাগারিৎজ (সান সেবাস্তিয়ান, স্পেন)
৮. আরপেজ (প্যারিস, ফ্রান্স)
৯. দিসফ্রুতার (বার্সেলোনা, স্পেন)
১০. মাইদো (লিমা, পেরু)

সূত্র: বিবিসি, সিএনএন

/জেএইচ/
টপ