২২ বছরে ১৫ হাজারেরও বেশি দোকানে একই ব্যক্তির কফি পান!

Send
জার্নি ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৯:৩৫, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৪৭, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯

স্টারবাকসের একটি কফির দোকানের সামনে উইন্টারবিশ্বে আমেরিকান কফি প্রতিষ্ঠান স্টারবাকসের যত শাখা আছে, সবক’টিতে ঢুঁ দেওয়ার জন্য আন্তরিকতা, ধৈর্য ও ক্যাফিনে খুব আসক্তি থাকা চাই। উইন্টার নামে এক লোক এদিক দিয়ে সম্ভবত সবার ওপরে। তার দাবি, ১৯৯৭ সাল থেকে চার মহাদেশে স্টারবাকসের ১৫ হাজার ৬১টি দোকানে কফি পান করেছেন তিনি!

এসপ্রেসো পান করে শুরু, এরপর কফির টানে বিশ্বের নানান প্রান্তে ঘুরে বেড়িয়েছেন লোকটি। তার কথায়, ‘এটা আমার চরম একটি শখ।’

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের প্লানো শহরে ২২ বছর আগে উইন্টারের এই মিশন শুরু হয়। তখন আমেরিকায় দেড় হাজার জায়গায় স্টারবাকসের কফির দোকান ছিল। তিনি ভাবতেন, প্রতিটিতে একবার করে ঢুঁ দেওয়া তার পক্ষে কোনও ব্যাপারই না!

কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে স্টারবাকসের শাখা বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি চীনের শেনজেনে ৩০ হাজারতম কফির দোকান খুলেছে প্রতিষ্ঠানটি। ছোট্ট এক কাপ কফির জন্য সবক’টিতে যাওয়া একরকম অসম্ভব। উইন্টার এটা ভালোই জানেন। তবুও যতটা সম্ভব ঘুরে দেখার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ‘এটাকে কাজ হিসেবে দেখি না। স্টারবাকসের দোকানগুলোতে যাওয়া আমার একধরনের লক্ষ্য।’

উইন্টার যেখানেই যান না কেন, কফি চেয়ে কয়েকটি ছবি তুলে নিজের ওয়েবসাইটে তা যুক্ত করেন। ইতোমধ্যে সব স্টারবাকস ঘুরে দেখার মিশনে অর্ধেক সফল হয়েছেন তিনি। প্রতিটি দোকানে কীভাবে কফি তৈরি হয় তা দেখার নেশা তার।

মনের ভেতর লক্ষ্যপূরণে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা ধরে রেখেছেন উইন্টার। এজন্য প্রতি সপ্তাহের ছুটির দিন স্টারবাকসের দোকানে কাটান তিনি। এজন্য শত শত মাইল পাড়ি দিতে হয় তাকে। কখনও নিজেই গাড়ি চালিয়ে যান। কখনওবা ডেনমার্ক ও কাতারসহ অন্য দেশে যেতে উড়োজাহাজে চড়তে হয়।

তবে এতসংখ্যক দোকানে ঘুরে ক্লান্তি ভর করেছে। এ কারণে আগের মতো গতি নেই উইন্টারের মধ্যে। তাছাড়া পানামায় অসুস্থ মাকে দেখাশোনা করার জন্য চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে রোজগার করে পাওয়া অর্থের অনেকাংশ ব্যয় করতে হয় তাকে। তাই বেড়ানোর মতো টাকাও অবশিষ্ট থাকে কম।

প্লানো শহরের স্টারবাকস হলো উইন্টারের দ্বিতীয় বাড়ি। সেখানে তার বেশ কয়েকজন কফিবন্ধু আছে। বিভিন্ন মহাদেশের কফিপ্রেমীদের সঙ্গে আড্ডাটা বেশ উপভোগ করেন তিনি। তার মন্তব্য, ‘স্টারবাকসের সুবাদে বন্ধুদের একটা বৃত্ত তৈরি করতে পেরেছি।’

সূত্র: সিএনএন ট্রাভেল

/জেএইচ/
টপ