দিল্লিতে বিনামূল্যে খাওয়ার ৫ জায়গা!

Send
সাদ তারেক
প্রকাশিত : ০০:০৭, নভেম্বর ০৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:১৮, নভেম্বর ০৫, ২০১৯

টাকা-পয়সা ছাড়া খাবার পাওয়া যায় নাকি! তবে দিল্লি হলে আলাদা কথা। ভারতের রাজধানীতে দিব্যি বিনা পয়সায় পেট ভরে খাওয়ার সুযোগ আছে। তবে এজন্য সঠিক জায়গা জানা থাকা চাই। বিশ্বাস করুন, দিল্লিতে পাঁচটি ঠিকানায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পাবেন, খেতেও পারবেন।

গুরুদুয়ারা বাংলা সাহেব
পকেটে হাত দিয়ে দেখলেন টাকা নেই! কিন্তু পেটপুরে ভারতীয় থালিতে নিরামিষ খাবার খাওয়ার ইচ্ছে হলে চিন্তার কারণ নেই। নয়াদিল্লির বাণিজ্যিক এলাকা কনট প্লেসে অবস্থিত গুরুদুয়ারা বাংলা সাহেবের ডাইনিং মিলনায়তনে চলে যেতে পারেন। ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের যথাযথ সম্মানের সঙ্গে পরিপূর্ণ খাবার পরিবেশন করা হয় এই বিশাল শিখ ধর্মশালায়। দিন-রাত মিলিয়ে তিন ধাপে চলে এখানকার ‘ফ্রি’ খাবার ঘর।

অবশ্য কেউ চাইলে খাবারের মূল্য অন্যভাবে পরিশোধের সুযোগ আছে। এখানকার বাসনপাত্র পরিষ্কার করে কিংবা গুরুদুয়ারায় অন্য যেকোনও কাজে অংশ নিয়ে বিনামূল্যে খাওয়ার প্রতিদান দেন অনেকে। দিল্লির দর্শনীয় জায়গার তালিকায় গুরুদুয়ারা বাংলা সাহেব অন্যতম।

ছাত্তারপুর মন্দির
দক্ষিণ দিল্লির বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে আছে ছাত্তারপুর মন্দির। শ্রী অদ্য কাত্যায়ানি শক্তিপীঠ নামেও এটি পরিচিত। কেউ প্রথমবার এতে গেলে পুরো কমপ্লেক্সের স্থাপত্যশৈলী উপভোগ ও ভক্তিমূলক আবহে দিনের অর্ধেকটাই চলে যায়। মন্দিরে অনেকটা সময় কাটানোর পর বেশিরভাগ দর্শনার্থীর ক্ষুধা লাগাটাই স্বাভাবিক। তবে খাবারের জন্য বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। মন্দিরেই বিনামূল্যে খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। প্রসাদ গ্রহণে ইচ্ছুক সবার জন্য প্রতিদিন বিনীতভাবে দেওয়া হয় ভারতীয় খাবার।

ক্যাফে এক্সকো
উত্তর দিল্লির ছোট্ট খাবারের দোকান ক্যাফে এক্সকো। মহৎ উদ্দেশে বিনামূল্যে খাবার ও পানীয় দেওয়া হয় এতে। দোকানটি থেকে ফ্রি খাবার পেতে প্রতিদানে বই দিতে হয়। এছাড়া ক্যাফেতে আসা ভোজনরসিকরা নিজেদের মধ্যে বই বিনিময় কিংবা ভাগাভাগি করে থাকেন। ক্যাফেটি পরিচালনা করেন তরুণ তুর্কিরা। তাদের বিশ্বাস, খাবারের জন্য জ্ঞান বিনিময় হতে পারে।

ইসকন মন্দির
দিল্লির ইসকন মন্দির বিনামূল্যে খাবার বিতরণের প্রকল্প পরিচালনা করে থাকে। প্রতিদিন ভক্তদের প্রসাদ হিসেবে সুস্বাদু নিরামিষ খাবার দেওয়া হয়। উৎসবের সময় এর পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। ভক্ত ও স্বেচ্ছাসেবীদের দিয়েই পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে খাবারগুলো প্রস্তুত করা হয়। প্রসাদ হিসাবে বিতরণের আগে প্রথমে দেবতা উদ্দেশে খাবার দেওয়া হয়।

হোটেল রয়েল প্লাজা
কোনও ভেদাভেদ না রেখে বিনামূল্য খাবার পরিবেশনের ক্ষেত্রে দারুণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে হোটেল রয়েল প্লাজা। টাটকা খাবার রান্না করে প্রতি সপ্তাহে বিনামূল্যে বিতরণ করে থাকে এটি। ট্যাক্সি কিংবা অটো ড্রাইভার থেকে শুরু করে ক্ষুধার্ত পর্যটকসহ যে কেউ হোটেলের বুফেতে টাকা ছাড়াই পেটপূজা উপভোগ করতে পারেন।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

/জেএইচ/
টপ