ঢাকায় প্রথমবারের ‘ওয়াও ফেস্টিভ্যাল’

Send
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৪:০০, এপ্রিল ০১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:২৭, এপ্রিল ০১, ২০১৯

যুক্তরাজ্যের ‘ওয়াও ফাউন্ডেশন’ এর অংশীদারিত্বে ব্রিটিশ কাউন্সিল রাজধানী ঢাকাতে প্রথমবারের মতো আয়োজন করতে যাচ্ছে ‘ওয়াও- উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড ফেস্টিভ্যাল।’ বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আগামী ৫ ও ৬ এপ্রিল এ ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হবে।

আজ ১ এপ্রিল ব্রিটিশ কাউন্সিল মিলনায়তনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংস্থাটি। সম্মেলনে প্যানেল আলোচকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ কাউন্সিলের ডেপুটি ডিরেক্টর অ্যান্ড্রিউ নিউটন, হেড অব আর্টস নাহিন ইদ্রিস, মঙ্গলদীপের প্রতিষ্ঠাতা সারা যাকের, লিপিং বাউন্ডারিজের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সাগুফে হোসেন এবং বহ্নিশিখার প্রতিষ্ঠাতা তাশাফি হোসেন। সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন প্যানেল আলোচকরা ওয়াও ফেস্টিভ্যাল নিয়ে ধারণা প্রদান করেন। নারী ও কিশোরীদের সফলতা ও অর্জনসমূহ উদযাপন এবং বিশ্বজুড়ে তারা যে ধরনের প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয় তার ওপর আলোকপাত করেই অনুষ্ঠিত হয় ‘ওয়াও আন্তর্জাতিক ফেস্টিভ্যাল।’ সবার জন্য আয়োজিত এ ফেস্টিভ্যাল ইতিবাচক পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে উৎসাহ ও সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে সমাজের সকল স্তরের মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তারা বক্তা ও অংশগ্রহণকারী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
জেন্ডার সমতার অগ্রগতিতে এ ফেস্টিভ্যালের গুরুত্ব নিয়ে ব্রিটিশ কাউন্সিলের ডেপুটি ডিরেক্টর অ্যান্ড্রিউ নিউটন বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় আর্টস প্রোগ্রাম পোর্টফোলিওর অধীনে নারী ও কিশোরীদের ক্ষমতায়নে আমাদের কাজের অগ্রগতির ক্ষেত্রে ওয়াও ফেস্টিভ্যাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বিশ্বাস করি, অন্তর্ভুক্তিমূলক, উদার ও সম্ভাবনাময় সমাজ বিনির্মাণের পাশাপাশি, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ৫ নম্বর লক্ষ্য ‘জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন’ অর্জনের ক্ষেত্রে জেন্ডার সমতা অর্জন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের চর্চা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করা এবং স্থানীয় প্রেক্ষিতে তা বাস্তবায়নের প্রভাবশালী মাধ্যম ওয়াও ফেস্টিভ্যাল। বিশ্বজুড়ে নারী ও কিশোরীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে, তাদের জন্য সুযোগ তৈরিতে এবং দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে তাদের সম্ভাবনা অর্জনে এবং জীবন পরিবর্তনকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রভাব তৈরিতে পরামর্শক হিসেবে কাজ করে ওয়াও ফেস্টিভ্যাল।’
ওয়াও ঢাকার লক্ষ্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ব্রিটিশ কাউন্সিলের হেড অব আর্টস নাহিন ইদ্রিস বলেন, ‘ওয়াও ঢাকার অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আমাদের প্রত্যাশা, এ শহর এবং এখানে যারা প্রতিদিন বাস করেন এবং কাজ করেন তাদের ওপর গুরুত্বারোপ করা। পাশাপাশি, ফেস্টিভ্যালে দর্শনার্থী বক্তা, প্যানেল আলোচক ও নারীদের অনুপ্রাণিত ও উৎসাহী করা হবে। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে, নারী ও কিশোরীদের অর্জনগুলো উদযাপনের মাধ্যমে সকল মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং নারীরা তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা অর্জনের ক্ষেত্রে যে প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছেন এবং সফলভাবে সে সমস্যা সমাধান করেছেন, সহস্রাধিক নারীর সে গল্প তুলে ধরার মাধ্যমে অন্যদের অনুপ্রাণিত করা।’
জেন্ডার সমতা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে এবং সকল স্তরের নারী ও কিশোরীদের সাফল্য গাঁথা এবং তাদের জীবন সংগ্রামের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে ওয়াও প্ল্যাটফর্ম। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ওয়াও ফেস্টিভ্যাল স্থানীয় নারীদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে সকল নারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
ওয়াও ঢাকা ফেস্টিভ্যালে জনসাধারণের সমষ্টিগত সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে এবং তাদের দৈনন্দিন দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে  আন্ত:সাংস্কৃতিক সংলাপে অংশ নেবে। ফেস্টিভ্যালে সামাজিক প্রথা, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা, পুরুষ ও পুরুষত্ব এবং নারীবাদের মতো বিষয়ের ওপর প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের নারীদের বাস্তবতা, নিজেদের উন্নতির পথে তারা যে বাধা ও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয় এ বিষয়ের ওপর বিভিন্ন কর্মশালাও অনুষ্ঠিত হবে এ ফেস্টিভ্যালে। এছাড়াও ফেস্টিভ্যালে ২০টি বিষয়ের ওপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা, গল্প বলাসহ নানা বিভিন্ন নারীদলের পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে। এখানে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে সরাসরি প্রশিক্ষণ নেয়ার সুযোগ পাবেন ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণকারীরা। ফেস্টিভ্যালে জেন্ডার বিষয় নিয়ে তথ্য, নারী উদ্যোক্তাদের কাজের প্রদর্শনী ও তাদের পণ্য বিক্রির জন্য নির্বাচিত স্টল থাকবে। পাশাপাশি দর্শকদের জন্য চিত্র প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, পারফর্মিং আর্টস ও পূর্ণাঙ্গ থিয়েটার প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
ওয়াও ফেস্টিভ্যাল নারীদের জন্য বিশ্বের সর্ববৃহৎ ফেস্টিভ্যাল। ২০১০ সালে লন্ডনে এ ফেস্টিভ্যাল যাত্রা শুরু করে। এখন এটি একটি বৈশ্বিক ফেস্টিভ্যাল যা পাঁচটি মহাদেশে অনুষ্ঠিত হয়। ১৫ লাখের বেশি নারী ক্রমবর্ধমান ওয়াও মুভমেন্টের অংশ হচ্ছেন যেখানে পুরুষ ও কিশোররাও জেন্ডার ভারসাম্যতাপূর্ণ বিশ্বের অংশ হিসেবে উপকৃত হবে। বিগত বছরগুলোতে অসংখ্য খ্যাতিমান ব্যক্তিদের নিয়ে এ উৎসব উদযাপিত হয়েছে যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন: নোবেলবিজয়ী মালালা ইউসুফযাই, সালমা হায়েক পিনল্ট, এলিস ওয়াকার, ভিভিয়েন ওয়েস্টউড, ক্রিস্টিন লাগার্দে, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন এমপি, অ্যানি লেনক্স, রুবি ওয়াক্স, প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট, সিনাড ও’কনোর, জেসি নরম্যান, জুলি ওয়াল্টার্স, নাওমি উলফ, নওয়াল আল সাদাউই, শেরি ব্লেয়ার, কিরণ বেদী, ব্যারনেস হেলেনা কেনেডিসহ আরও অনেকে যারা প্রত্যকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও বাল্টিমোর, ফিনল্যান্ড, করাচি এবং যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া, হারগিসা ও সোমালিল্যান্ড সহ পাঁচটি মহাদেশের ২০টিরও বেশি শহরে উদযাপিত হচ্ছে ‘ওয়াও’ কার্যক্রম এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সারাবিশ্বে।সাউথব্যাংক সেন্টারের সহায়তায় ওয়াও ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করা হয়েছে।

গত বছর ব্রিটিশ কাউন্সিল রংপুর, সিলেট, খুলনা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে ওয়াও চ্যাপ্টারস- এর কয়েকটি অনুষ্ঠান আয়োজন করে। দেশের পাঁচটি বিভাগীয় শহরে ওয়াও চ্যাপ্টারস আয়োজনের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ওয়াও ঢাকা ফেস্টিভ্যাল। এর আগে অনুষ্ঠিত ওয়াও চ্যাপ্টারসে ২৫ হাজারের বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করে। দক্ষিণ এশিয়ার কিশোরী ও নারীরা যেসব সমস্যা বা বাধার মুখোমুখি হন তা নিয়ে এবং পাশাপাশি তাদের নানা সফলতাকে উদযাপন করতে অনুষ্ঠিত হবে ‘ওয়াও ঢাকা ২০১৯।’ সবার জন্য উন্মুক্ত এ ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণের জন্য ফেস্টিভ্যালের পূর্বেই নিবন্ধন করতে হবে। বিস্তারিত জানতে ও নিবন্ধন করতে ভিজিট করুন: https://www.britishcouncil.org.bd/en/wow-dhaka-2019-0
 

/এনএ/

লাইভ

টপ