ঈদের খাবারও অনলাইনে

Send
সাদ্দিফ অভি
প্রকাশিত : ১৯:০১, জুন ০৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫৩, জুন ০৬, ২০১৯

ঈদের-খাবার
ঈদ মানেই খুশি আর সেই খুশিতে বাড়তি আনন্দ দেয় মজার মজার সুস্বাদু সব খাবার। সেই খাবার প্রাচীনকাল থেকেই ঘরে ঘরে তৈরি হয়ে আসছে। আজকের তথ্য-প্রযুক্তির প্রসারের যুগে সেই খাবার পৌঁছেছে এখন অনলাইনে। আর সেজন্য বেছে নেওয়া হয়েছে ফেসবুকের মতো সামাজিক মাধ্যমকে। এখন অনেকে কর্মব্যস্ত জীবন কাটান, তাই নিজের খাবার নিজে  তৈরি করারও সময়  পান না। তখনই যারা তৈরি খাবার ডেলিভারি করেন, তাদের শরণাপন্ন হন। গত কয়েকবছর ধরেই খাবার ডেলিভারি দেওয়ার মতো উদ্যোক্তা হয়েছেন অনেকেই। কেউ কেউ শখের বশে রান্না করলেও, স্বজনদের অনুরোধে শুরু করেছেন খাবারের ডেলিভারি। ফেসবুকে বেশ কয়েকটি পেজ দেখা জানা যায়,  ঈদের খাবার সরবরাহের উদ্যোক্তা সবাই নারী। এছাড়া শুধু ঈদ নয়, কেউ কেউ সারাবছরই ঘরে বানানো খাবার সরবরাহ করেন। তাদেরই কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে অনলাইনে খাবারের চাহিদায় ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন তারা।

যারা অনলাইনে অর্ডার দিয়ে খাবার আনিয়ে খান, তাদের একজন তিথি (ছদ্মনাম)। একটি বেসরকারি ব্যাংকের কার্ড ডিভিশনে চাকরি করেন তিনি। ঈদে তার অফিস থাকায় বিপাকে পড়েছেন খাবার তৈরি নিয়ে। তাই বন্ধু ও সহকর্মীদের কাছে জানতে চাইলেন, অনলাইনে কেউ ঈদের খাবার দেয় কিনা। তার এক সহকর্মী তাকে কয়েকটি ফেসবুক পেজের লিংক পাঠালেন। সেখান থেকে দেখে ১০ জনের মোরগ পোলাও, রেজালা, পায়েশ, সেমাইয়ের অর্ডার দিয়ে দিলেন। খাবারগুলো চলে এলো ঈদের দিন দুপুরে।’

তিথি জানান, অনলাইনে সম্ভব না হলে ঈদের এত কিছু ম্যানেজ করা খুব ঝামেলা হয়ে যেতো। খাবারের অর্ডার দেওয়ার পর কিছুটা চিন্তিত ছিলাম, এর মান কেমন হবে, সময়মতো পৌঁছাবে কিনা, এসব নিয়ে। খাবার চলে আসার পর সব চিন্তা দূর হয়ে গেলো।

যারা খাবার রান্না করা সরবরাহ করেন, তাদের একজন উন্মাহ মোস্তফা। তিনি রন্ধন তারকা নামেই পরিচিত। রান্নার রিয়্যালিটি প্রোগ্রামের বিচারকের দায়িত্বও পালন করেন তিনি। ২০১১ থেকে রান্না নিয়েই কাজ তার। তিনি একটি রান্না শেখানোর স্কুল করেছেন, যার নাম উম্মাহ কুকিং স্কুল। সারাবছরই তিনি রান্না শেখান, শুধু ঈদের সময় বিশেষ কিছু খাবারের চাহিদা থাকে বলেই সেগুলো তৈরি করেন ক্রেতাদের জন্য। তার ঈদের স্পেশাল খাবারের মধ্যে ছিল  বাকলাভা, কুনাফা,  ৩ লেয়ারের ব্রাউনি, ব্লুবেরি চিজকেক, স্ট্রবেরি চিজকেক ও ইতালীয় মিষ্টি খাবার তিরামিসু।

ঈদের-খাবার-২

বাংলা ট্রিবিউনকে উম্মাহ মোস্তফা বলেন, ‘আার কিছু  নিজস্ব ব্র্যান্ডের স্পাইস আছে। যেমন—রেজালা, কোর্মা, কাবাবের মতো আইটেম। ডেজার্টের পাশাপাশি আমি শুধু ঈদের সময় এই ঝাল জাতীয় খাবারগুলো তৈরি করি। একটা পাকোড়া আইটেম তৈরি করি, এটা যেমন রোজার মধ্যে খুব বেশি বিক্রি হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অনলাইনে আমি বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। এমনও হয়, আমার এখানে অর্ডার করতে মানুষ হুট করে চলে আসছে। কিছু কিছু জিনিস আমি সীমিত আকারে বিক্রি করছি, কিন্তু সেটার ওভারবুকড হয়ে যাওয়ার পরও মানুষ আসছে অর্ডার করতে।’     

গেলো পহেলা বৈশাখ থেকে ফেসবুকের মাধ্যমে খাবারের অর্ডার নেওয়া শুরু করেছেন শর্মিন জাহান চৌধুরী। তার পেজের নাম চৌধুরী’স কিচেন। পরিবার আর বন্ধুবান্ধবের অনুপ্রেরণায় শুরু করেছেন অনলাইনে খাবারের অর্ডার নেওয়া। ঈদের দুই দিনে ৬০ জনের খাবার সরবরাহ করেছেন তিনি। খাবারের মধ্যে ছিল তন্দুরি মোরগ পোলাও, জালি কাবাব, ফিরনি। এছাড়া আগের দিন রাতে ৩০ জনের জন্য মুরগির রোস্ট সরবরাহ করেছেন তিনি।

বাংলা ট্রিবিউনকে শর্মিন জাহান বলেন, ‘পহেলা বৈশাখে আমাদের ডিওএইচএস পার্কে মেলা হয়েছিল, সেখানে একটি স্টল দিয়ে খাবার বিক্রি শুরু করেছিলাম। ওইদিনই আমার প্রথম বড় অর্ডার এলো। এছাড়া আমার অর্ডারগুলো মূলত অনলাইন থেকেই আসছে। আজকে সন্ধ্যায় একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে ৪০ জনের খাবার যাচ্ছে। এখানে আছে জাফরানি পোলাও, রোস্ট, ডিমের কোর্মা, জালি কাবাব।’ 

ঈদের-খাবার-৩

ঈদের দিন পর্যন্ত খাবার সরবরাহ করেছে সোমা’স হোম মেড ফুড। সাড়ে চার বছর ধরে চলছে তাদের এই সেবা। ঈদের খাবারের মধ্যে ছিল, পায়েশ, পুডিং, ফালুদা, কাস্টার্ড, জর্দা। এছাড়াও রোস্ট, পোলাও, গরুর মাংসের আইটেমও ছিল। ঈদের পরেও অনেকের চাহিদা ছিল, কিন্তু সার্ভিস বন্ধ থাকায় দিতে পারেননি তারা।

ট্রিবিউনকে সোমা বাংলা  বলেন, ‘ঈদের দিন পর্যন্ত আমি খাবার দিয়েছি। ঈদের পর থেকে চারদিন বন্ধ থাকবে। ঈদের খাবারের পাশাপাশি অনেকে ফ্রোজেন খাবারও নিয়েছে। অনেকেই শুনেছি খাবার অর্ডার দিয়ে নেয় না কিংবা ফোন বন্ধ করে রাখে। সেই তুলনায় আমার ক্রেতারা খুব ভালো।’ মানুষের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছেন বলেও তিনি জানান। 

ছবি: সংগৃহীত   

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ