বসন্ত উন্মুক্ত প্রান্তরে

Send
ফাতেমা আবেদীন
প্রকাশিত : ১৭:৪৮, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:১৫, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৬

ফাল্গুন-০১

শীতের শেষে বসন্ত এসেছে ধরাকে রাঙাতে, আর সেটিকে উদযাপন করতে রঙিন সাজে সেজেছে মাটির মানুষ। আজ রংয়ে রংয়ে সেজেছে প্রকৃতি ও মানুষ। লাল, হলুদ, নীল, সবুজ আর কতশত রংয়ের সমারোহ।

বসন্ত উদযাপন করতে ঢাকা শহরবাসীর সিংহভাগ সমবেত হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। একইসঙ্গে আজ যুক্ত হয়েছিল স্বরস্বতী পূজা। তাই সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপীঠে ছিল উপচে পড়া ভিড়।

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে চারুকলার বকুলতলা হয়ে ওঠে উৎসব মুখর। একইসঙ্গে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের পূজার আয়োজনে ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। চারুকলায় বেশ কয়েকটি সংগঠন, নাচে গানে বরণ করে নেয় বসন্তকে।

ফাল্গুন-০৪

বসন্তের সব রঙ ছিল তরুণ-তরুণীদের পোশাকে। তরুণীরা ফাগুনের আগুন লালে নিজেদের সাজিয়ে হাজির হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। দু’দিন আগে থেকেই ফুলের দোকানগুলোর উপচে পড়া ভিরের মূল কারণ বোঝা গেল আজকে সকালে। সব ফুল চলে গেছে তরুণীদের চুলে। কেউ টায়রা, কেউ মালা, কেউবা ফুলের গহনা দিয়ে নিজেদের সাজিয়েছেন।

মহাখালী থেকে এসেছেন বিথী, চুলে গাঁদা ফুলের মালা। জানালেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তিনি। আজকে একসঙ্গে দুটো আনন্দ আয়োজন একসঙ্গে উদযাপন করতে এসেছেন। চুলের গাঁদা ফুলের মালা নিয়েছে ৫০ টাকা এ নিয়ে বেশ ক্ষোভ ঝারছিলেন বান্ধবীর সঙ্গে। বসন্ত বা ভালোবাসা দিবসে ফুলের দাম দ্বিগুণের চেয়েও বেড়ে যায় বলেই তার এত রাগ। ফুলের দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি কমিটি দরকার বলেও জানালেন তিনি। এমনিতে নাকি এই গাদা ফুলের মালা ৫-১০ টাকা করে পাওয়া যায়। আজকে এত দাম হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

বসন্ত ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ফুলের দোকানগুলোতে ছিল তুমুল কর্মব্যস্ততা। টোপর, মালা, গহনা বানাতে হিমসিম খাচ্ছিলেন দোকানীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমে এসেছে ফুলের দোকানের ভির। তবে আগামীকালের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। রাত পোহালেই বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এদিন সর্বোচ্চ ফুল বিক্রির প্রত্যাশায় বিভোর শাহবাগের ফুল দোকানীরা।  

উত্তরা থেকে এসেছেন মৌলি-ফারুক দম্পতি। আজকে শনিবার হওয়ায় দু’জনেই টিএসসি আসতে পেরেছেন। ফারুক একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। জানালেন, চারুকলার বসন্ত বরণ শেষে তিনি ও তার স্ত্রী বইমেলায় ঢুকবেন।

ছেলেকে নিয়ে বইমেলায় এসেছেন টার্কিশ হোপ স্কুলের শিক্ষিকা সারিতা আলম। বললেন, বইমেলায় যাওয়ার জন্য সাধারণত ছুটির দিনটিকেই বেছে নেন তিনি। আজকে বসন্ত থাকায় উদযাপনের মাত্রাটা আরও বেড়েছে।

হলুদ শাড়ি, পাঞ্জাবি পরা শিশুদের দেখা গেল সিসিমপুর প্রাঙ্গণে হুটোপুটি করতে। বসন্ত আর বই বিলাস আজ একসঙ্গেই হচ্ছে তাদের।  

ফাল্গুন-০৫

বইমেলার প্রবেশ পথে ছিল ভিড়। সাপ্তাহিক ছুটির শেষদিন হওয়ায় সকাল থেকেই বইমেলায় ছিল ক্রেতার সমাগম। প্রতিটি স্টলেই বেশ ভির লক্ষ্য করা গেছে। প্রকাশক, লেখক, এবং পাঠক সবার মধ্যেই বসন্ত সাজ ছিল লক্ষ্যণীয়। প্রকাশকরাও জানালেন আজকে তুলনামূলক ক্রেতার চাপ বেশি।  

ফাল্গুন-০২

ফাল্গুন-০৩

চলছে ফুলের মালা তৈরি

মেয়েকে ফুল দিয়ে সাজাচ্ছেন মা

রঙিন সাজে সজ্জিত তরুণ দল

ফুলেল বসন্ত

ছবি:  সাজ্জাদ হোসেন। গ্রাফিক্স:  রাশেদ বাবু। 

/এফএএন/ 

লাইভ

টপ