শামীম রেজার কবিতাবিশ্ব : আনন্দময় ভ্রমণ

Send
মেহেদি রাসেল
প্রকাশিত : ১৪:২২, অক্টোবর ২১, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৪০, অক্টোবর ২১, ২০১৮

সমসাময়িক কবিদের মধ্যে নানা কারণেই শামীম রেজা খুব স্বতন্ত্র হয়ে ওঠেন। তার কবিতার বিষয়বৈচিত্র্য ও শৈলী নব্বইয়ের দশকের অন্যান্য কবিদের থেকে তাকে পৃথক করে তুলেছে। প্রায় শুরু থেকেই তিনি অর্জন করেছেন নিজস্ব এক কাব্যভাষা। তার কাব্যবিশ্ব যে উত্তরাধিকার বহন করে এর মধ্যে লৌকিকতা, গ্রামীণ অনুষঙ্গ, স্থানীয় মিথ বেশ সরব। এসবের সঙ্গে মিশেছে আধুনিকতার টানাপোড়েন ও সংকটসমূহ। ফলে, আবিষ্কারের একটি চূড়ান্ত জায়গা পাঠক পেয়ে যেতে পারেন তার কবিতাভূবনে। যদি বাকভঙ্গির কথা ধরা হয়, শুধু এ কারণেও শামীম রেজাকে সহজেই আলাদা করা যায়। প্রথম থেকেই ভাষা সম্পর্কে বেশ সচেতন ছিলেন শামীম রেজা। সে কারণেই তার স্বর একেবারে বদলে যায় তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ থেকে। কথ্য ভাষার জমজমাট কবিতা দেখা যায় এ কাব্যগ্রন্থে। ফলে, তৃতীয় বই থেকেই শামীম রেজার স্বতন্ত্র কাব্যভাষা গড়ে উঠেছে। প্রথম ও দ্বিতীয় বইয়ের ইঙ্গিত এখানে পূর্ণতা লাভ করেছে। প্রথম বইয়ের কবিতা, ‘শূন্যতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া’, ‘উজান মাঝি’, ‘মৃতবৎ নিথর পাথর’ কবিতাগুলোতে পৃথক ভাষা নির্মাণের ইঙ্গিত মেলে। এ সময়, অর্থাৎ প্রথম গ্রন্থ থেকেই কবি বেশ কিছু শক্তিশালী চিত্রকল্প নির্মাণের মাধ্যমে তার কাব্যশক্তির জানান দেন। ‘বগলের অন্ধকার’, ‘ফড়িং শিকারি বেড়ালের লোভাতুর আধার’, ‘বেশ্যার চোখে ঈশ্বরের দৃষ্টি’র মতো শক্তিশালী চিত্রকল্প তিনি নির্মাণ করেন প্রথম কাব্যগ্রন্থেই। এর মাধ্যমে কাব্যভূবনে পা দেওয়ার আগে এ কবির প্রস্তুতির জায়গাটিকে চেনা যায়।

প্রথম কাব্যগ্রন্থ থেকেই শামীম রেজার কবিতায় মিথের বিনির্মাণ লক্ষ্য করা যায়। বাংলা সাহিত্যের একদম গোড়ার রচনা চর্যাপদের দোহাগুলোর চরিত্রকে তিনি আধুনিকতার অনুষঙ্গে প্রতিস্থাপিত করেন। ‘চর্যাধুনিক’ নামে প্রধান শিরোনামের অধীনে দুই লাইনের কবিতাগুলো বেশ উপভোগ্য। ‘কতোবার ভিজাতে চেয়েছি তোমার হরিণা-হৃদয়/ শেষাবধি জেনেছি, অভিমানে প্রকৃত সুখ নিভৃতে প্রণয়।’ (সুখ ও অভিমান, চর্যাধুনিক) অথবা ‘শিকারী চেহারা’ কবিতাটিও চর্যা বিনির্মাণের উৎকৃষ্ট উদাহরণ। লক্ষণীয়, উপরের লাইনে ব্যবহৃত ‘ভিজাতে’ শব্দটি কিন্তু সচারচর কবিরা ব্যবহার করেন না। শব্দটির অন্য ফর্ম ব্যবহার করেন। প্রথম কাব্যগ্রন্থে শব্দের এমন ব্যবহার তিনি পরবর্তীকালে আরও ব্যাপকভাবে করবেন। এটি, এই কথ্য শৈলী হয়ে ওঠবে তার কাব্যের অন্যতম প্রবণতা।

দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘নালন্দা দূর বিশ্বের মেয়ে’ থেকে বদলে যায় শামীম রেজার কবিতার স্বর। এ গ্রন্থের প্রথম কবিতাতেই দেখি আশ্চর্য সুন্দর পংক্তি- ‘ঈশ্বর নাক ডেকে ঘুমায়, আমি অভিমানী মৃত্যুর/ পায়চারী দেখি, উৎস খুঁজি না তার;’ (আমি আর ঈশ্বর)। ঈশ্বরের তুলনায় মানুষের স্বাতন্ত্র নিয়ে জেগে ওঠে তার কবিসত্তা, যা আসলে ঈশ্বরের তুলনায় হৃদয়াবেগপূর্ণ, আরও বেশি স্পর্শকাতর। তবে, স্রষ্টা বলেই হয়তো ঈশ্বরের মতো নির্মোহভাব যেন কবিতেও কিছুটা বিদ্যমান। আবহমান বাংলা কাব্যের উত্তরাধিকার এ কাব্যগ্রন্থের পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে, প্রায়শই চিত্রকল্পগুলো আমরা আমাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে মিলিয়ে পূণর্পাঠ করে নিতে পারি সহজেই। নির্মাণ আর বিনির্মাণের অন্তরঙ্গতায় তা উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে পাঠকের মনোজগতে। যেমন, ‘এ কী বিভ্রম দেখি?/ মেয়েটি নালন্দা থেকে/ নীলাচলে আঁচল খুলে/ নিজেই নদী হয়ে ঢেউ তোলে’ (নালন্দা মেয়ের পুরাণ, নালন্দা দূর বিশ্বের মেয়ে)। এভাবে এক নারীর নীলাচলে আঁচল খুলে নিজেরই নদী হয়ে ওঠার দৃশ্যকল্পটি পরাবাস্তব, নতুন। এই কবিতায় আবার পাই ‘পাকাধানরঙ স্তনে’র মতো ব্যতিক্রমী শব্দবন্ধ। এ কাব্যগ্রন্থে আরও কিছু পরাবাস্তব অনুষঙ্গ পাঠককে ঝাঁকুনি দেয়। ‘জেরুজালেম’ কবিতায় কবি মৃত্যুকে, স্বদেশের জন্য জীবন দানকে যেভাবে প্রতীকী ব্যঞ্জনায় মহিমান্বিত করে তোলেন, তা লক্ষণীয়। এ ছাড়া পরাবাস্তব ভাবাপন্ন ‘রূপচাঁদা ও স্বপ্নসাঁতার’, শূন্য চেয়ার’, ‘চাষাড়া রমণীর পার্বতী মন’ কবিতাগুলোর সমান্তরালে ‘ঘুঙ্গুর নদী জলে নুপুর ধ্বনি’র মতো রোমান্টিক বাস্তবতাধর্মী কবিতা পাঠককের মনোভ্রমনে এক ধরনের বৈচিত্র আনে।  

জীবনানন্দ দাশ তার কবিতায় আছেন, যেভাবে বাংলা ভাষায় সমস্ত কবির মধ্যেই অবচেতনে থাকেন তিনি, সেইভাবে। একই ভূগোলের অভিজ্ঞতা থাকায় তাদের কাব্যবিশ্বে একই অনুষঙ্গ আসা বিচিত্র কিছু নয়। তবে প্রথম কাব্যগ্রন্থের পর আর জীবনানন্দের শক্তিশালী উপস্থিতি আর দেখা যায় না শামীম রেজার কবিতায়। নদীবর্তী অঞ্চলের মানুষ বলে তার কবিতায় প্রচুর এসেছে নদীর অনুষঙ্গ। আর, কে না জানে এই বাংলায় নদী ও নারী পরস্পরের প্রতীক হয়ে বিরাজ করছে বহুকাল ধরে। বাংলার নদীর অপরূপ রূপ দেখি শামীম রেজার কবিতায়, প্রথম কাব্যগ্রন্থের নামই রাখেন, ‘পাথরচিত্রে নদীকথা’। আলাদাভাবে নদীর প্রতি কবির দুর্বলতা চোখে পড়বে। সম্ভবত নদী তার যাপনের অনুষঙ্গ বলে চেতনায় মিশে আছে নদীমাতৃক স্বদেশ। সেই স্বদেশকে তিনি চিত্রিত করেছেন নিজস্ব এক আঞ্চলিক ভাষায়, ওই ভাষা আবার প্রধানত মৌখিক ভাষার কাছাকাছি। ফলে, তার কবিতার গতি ও চলমানতা পাঠককে স্পর্শ করে। জীবনানন্দ দাশ যেভাবে আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করেছেন, শামীম রেজা সম্ভবত সচেতনভাবেই সেই পথে হাঁটেননি। তার ভাষাভঙ্গি একদমই আলাদা। পরস্পরের ঘনিষ্ট আড্ডায় আমরা যেমন ভাষা ব্যবহার করে থাকি, অনেকটা তেমনই। আর এ কারণেও সমসাময়িকদের মধ্যে তার কণ্ঠস্বরও আলাদা করে চেনা যায়। লৌকিক মিথ আর লোকজ অনুষঙ্গের আধুনিক প্রকাশ শামীম রেজার কবিতাকে অনন্য করে তুলেছে।

‘যখন রাত্তির নাইমা আসে সুবর্ণনগরে’ থেকে শামীম রেজার কবিতার লক্ষণীয় পরিবর্তন টের পাওয়া যায়। ক্রিয়াপদের ব্যতিক্রমী ব্যবহার পাল্টে দেয় তার কবিতার মেজাজ। এই ব্যবহার আগের বইগুলোতে সীমিতভাবে থাকলেও এখানে ব্যাপক। এখানকার কবিতায় গ্রাম বাংলার প্রকৃতি এসেছে নিবিড়ভাবে। এছাড়া নদীমাতৃক বাংলার উপস্থিতি আরও প্রবল হয়ে ওঠে এখানে। ‘আসল চাষাই জানে কোন গোনে রোপা হবে/ আউশ না আমন...’ অথবা ‘মরা ধানক্ষেতে পইড়া-থাকা খড়ের দেহ থেইকা/ তোমাকে তুইলাছি শয্যায়,’ (কবিতা কী) কৃষিভিত্তিক জীবনের এরকম বয়ান গ্রামবাংলার নিবিড় অভিজ্ঞতা ছাড়া সম্ভব না। খড়ের দেহ থেকে প্রেয়সিকে শয্যায় তুলে আনার এ বয়ান তার পক্ষেই সম্ভব, যে কবির পরিক্রমার মধ্যে রয়েছে বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত ও হেমন্তের শূন্য মাঠের অভিজ্ঞতা। এ ছাড়া এ কাব্যগ্রন্থের এমন কোনো কবিতা পাওয়া যাবে না যেখানে নামে বেনামে নদীর উপস্থিতি নেই। পদ্মা, সুরমা, কুশিয়ারা, আগুনমুখা, পূর্ণতোয়া, সুবর্ণ, দোয়েলা, ধানসিড়ি, বলেশ্বরী, কালিদহ, চন্দনা নামের নদীরা বাংলার প্রকৃতিকে যেভাবে বেষ্টিত করে আছে, তেমনি শামীম রেজার কবিতায়। এ কাব্যগ্রন্থের শুধু ক্রিয়াপদের ভিন্নতার জন্য কবিতাগুলোর সঙ্গে সহজেই সখ্য গড়ে ওঠে পাঠকের। সামান্য পরিবর্তন, কিন্তু তার দ্যোতনা ব্যাপক। এ কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতা থেকে উজ্জ্বল কিছু পংক্তি তুলে দিচ্ছি পাঠকের জন্য, ‘জুলেখার চুলের বেণী দিয়া যে বালক ঘুড়ি উড়াইছিল সে/ ইউসুফ নয়-’ (চৌত্রিশ সংখ্যক কবিতা), ‘ধূলামাখা চাকতির মতো শবরীর স্তন’ (প্রথম কবিতা), ‘মৃত্যুর শীতল শিস বইয়া যায় ভেতরে আমার’ (তৃতীয় কবিতা), ‘গানের তোড়ে সকাল নাইমা আহে ঢালের নাহান।’ (এগার)   

নাইজেরিয়ার লেখক এবং আফ্রিকার আধুনিক সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তি চিনুয়া আচেবে তার বিখ্যাত উপন্যাস ‘‌থিংস ফল অ্যাপার্ট’-এ স্থানীয় কিছু শব্দ ব্যবহার করেছেন। তিনি এমনকি সেসব শব্দের টীকাভাষ্যও দেননি কোথাও। তিনি মনে করতেন পাঠক তার নিজের আগ্রহে এগুলো জেনে নেবে। পাঠকের দায়িত্বে মধ্যেই পড়ে এসব। তিনি তার অন্যান্য লেখাতেও কম বেশি এ নীতিতে অটল ছিলেন। কবি শামীম রেজাকেও দেখি অবলীলায় স্থানীয় শব্দ ব্যবহার করেন। পাঠকের জানাশোনা তিনিও হয়তো ঝালাই করে নিতে চান। প্রমিত (বলা ভালো ভদ্রলোকের প্রচল) শব্দের পাশাপাশি তিনি খুব সাবলীলভাবে ঢুকিয়ে দেন স্থানীয় মানুষের মুখের ভাষা। ‘বাইছা নাও’, ‘গোন’, ঘোড়া দাবড়ানো’র মত প্রচুর স্থানীয় শব্দ ব্যবহার করেন অবলীলায়। আসলে কবিতার তো নির্দিষ্ট কোনো ব্যকরণ নেই। কবির রচনার পরই কেবল তা তৈরি হয়। শামীম রেজা হয়তো সেই নতুন ব্যকরণের সঙ্গেই পরিচয় ঘটিয়ে দিতে চান বাংলা কবিতার পাঠককে।

চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ ‘ব্রহ্মাণ্ডের ইসকুল’ এর নাম কবিতাটি একটি দীর্ঘকবিতা। মাহকাব্যিক আখ্যানধর্মী এ কবিতার আয়তন প্রায় ২৭ পৃষ্ঠা। পাঠককে এর প্রথম থেকেই এক অনিবার্য ঝাঁকুনির মধ্যে রাখেন কবি- ‘আমাদের চোখগুলি নিয়া যারা মার্বেল খেলেছে/ মধ্যদুপুরে পশ্চিমপাড়ায়, তাদের কথা এবার থাক’, এই হলো এই কবিতার শুরু। আসলে চোখ তুলে নিয়ে মার্বেল যারা খেলেছে তাদের কথা স্থগিত রাখার কথা বলা হলেও পাঠক বুঝতে পারেন কবি আসলে তাদের কথা শুরু করলেন। এ কবিতায় পাঠককে নিয়ে এক ধরনের খেলায় মত্ত হন কবি। ‘বরিশালের লঞ্চ’ থেকে আরম্ভ করে ফিলিস্তিন, পশ্চিমা বিশ্ব ঘুরিয়ে আনেক পাঠককে। যে চোখের কথা স্থগিত করতে চেয়েছিলেন কবিতার প্রথমেই, কিছদূর গিয়েই তা আর উহ্য থাকে না, বোঝা যায় ‘পশ্চিম পাড়ার লোকেদের মার্বেলের প্রয়োজনে’ সেই চোখ হারিয়েছি আমরা। এইভাবে এ কবিতায় আসে মিথ, প্রাচীন বিশ্ব, সম্রাজ্যবাদ, পুঁজির শোষন, পশ্চিমা প্রভুদের প্রভাব ও যুদ্ধবাজ দুনিয়ার সাম্প্রতিক কথকতা। সুবিশাল এ কবিতাকে ‘কবিতা সংগ্রহ-১’ এর কেন্দ্রীয় কবিতা মনে হতে পারে পাঠকের কাছে। এ কবিতার অনুচ্ছেদের পর অনুচ্ছেদ জুড়ে যে সুর, তা ধ্রুপদী সংগীতের মতো আমাদের আচ্ছন্ন করে। ‘হারমোনিয়ামের রীড মনে কইরা পাজর বাজানো’র মত অদ্ভুত সব চিত্রকল্পে ঠাসা এ কবিতা আমাদের অন্য ভূবন পরিক্রমনে নিয়ে যায়।

‘কবিতা সংগ্রহ-১’ –এ অন্তর্ভূক্ত শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘দেশহীন মানুষের দেশ’। শেকড়চ্যুত মানুষের বেদনার অলেখ্য এখানকার কবিতাগুলো। যদিও কবি লেখেন, ‘অনুভূতি অনুবাদ কতটুকু করা যায় বলো?’ তবু মানুষের বেদনার অনুবাদ করেন কবিতায়। উদ্বাস্তুদের উৎখাতে যাদের হাত আছে, তাদের প্রতি কবির উচ্চারণ, ‘অঙ সান সূচি তোমাকে বলছি শোনো/ নোবেল কইড়া নিলেও/ মানুষ হিসেবে মানুষের কাছে/ এ নৃশংসতার ক্ষমা নেই কোনো’ (অঙ সান সুচি তোমাকে বলছি শোনো)। মানবতার সপক্ষের এ অনুভূতি আসলে বৈশ্বিক, এর কোনো দেশ কাল নেই। তাই কবি বলতে পারেন, ‘সীমান্ত নিয়া চুক্তির দিন শেষ, পাখিদের আবার/ সীমান্ত কিসের?’ (বঙ্গবন্ধু নাকি বাংলার মানচিত্র, ব্রহ্মাণ্ডের ইসকুল)

মোট সাতটি কাব্যগ্রন্থ নিয়ে শামীম রেজার কবিতা সংগ্রহের প্রথম খণ্ডটি প্রকাশিত। প্রথম থেকে কবির বদলে যাওয়ার এক ধারাবাহিত পরিক্রমা আবিষ্কার করা যাবে এ বইটির মাধ্যমে।

‘অন্যদের বদলে দেয়ার যাদুকথা শোনানোই যে-আমার কাজ’ এমন পংক্তির জনক কবি শামীম রেজা তার কবিতার মাধ্যমে আমাদের বদলে দিতে চান। পুরোনো বাংলা কবিতার পাঠভিজ্ঞতাই কি বদলে দেবেন তিনি? নতুন চিত্রকল্প, নতুন আঙ্গিক আর বিন্যাসে যেন সেই প্রতীতিই হয়। তাঁর কবিতা সম্পর্কে উপরের আলোচনা একজন পাঠকের দৃষ্টকোন থেকে দেখার চেষ্টা মাত্র। ফলে, এর সীমাবদ্ধতা প্রচুর। কবিতা বহুমাত্রিক বলেই তা কবিতা। ফলে, নানা পাঠক একই কবিতাকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করবেন। এসব ব্যাখ্যার সমস্যা হলো, পাঠক তার নিজ নিজ অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও বোধের জগত খেকেই যে কাউকে পাঠ করবেন। এ পাঠ, এমনকি, কবি যা বলতে চেয়েছেন, তার সম্পূর্ণ বিপরীতও হতে পারে দুঃখজনকভাবে। ফলে, পাঠক, আসুন এ আলোচনার ইতি টেনে দিয়ে আমরা বরং খোদ কবিতাপাঠেই ফিরে যাই। ভ্রমন করি শামীম রেজার কবিতাবিশ্বে।

//জেডএস//

লাইভ

টপ