বই বেঁচে থাকে লেখার গুণে : প্রশান্ত মৃধা

Send
.
প্রকাশিত : ১৫:১০, ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:১৩, ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০১৯

কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক। বইয়ের সংখ্যা পঁয়ত্রিশ। সাহিত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন ‘বাঙলার পাঠশালা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস কথাসাহিত্য পুরস্কার’, ‘এইচএসবিসি-কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার’, ‘কাগজ তরুণ কথাসাহিত্য পুরস্কার ২০০০’ এবং ‘জেমকন সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮’। 

প্রশ্ন : মেলায় প্রকাশিত বই মার্চ মাসেই খুঁজে পাওয়া যায় না, এত বই কোথায় যায়? মানে একদিকে প্রচুর বই ছাপা হচ্ছে অন্যদিকে বই পাওয়া যাচ্ছে না, বা বইয়ের দোকান কমে আসছে—এই স্ববিরোধ কেনো?

প্রশান্ত মৃধা : এত বই কোথায় যায়—উত্তরটা এ প্রশ্নের ভিতরেই লুকনো আছে। বই বেঁচে থাকে লেখার গুণে। মেলার মাঠের ধুলো আর পাঠকের হাতের স্পর্শ পাওয়ার জন্য বইটা যতই সেজেগুজে হাজিরা দিক না কেন, তাতে তেমন লাভ হয় না। বিক্রির জন্য সে উঠেছে যখন পণ্য ঠিকই, কিন্তু বইয়ের ক্ষেত্রে আগে দর্শনধারী পরে গুণবিচারী কথাটা খুব খাটে না।

বইয়ে সার পদার্থ কিছু না থাকলে দোকানদার কোন দায়ে দোকানে তুলবেন। তবে এও সত্যি, আমাদের দেশের বহু ভালো বইও বইয়ের দোকানে পাওয়া যায় না। যদিও সেটি একেবারেই আলাদা প্রসঙ্গ।

প্রশ্ন : বইমেলা কি বাংলা একাডেমির করা উচিৎ নাকি প্রকাশক সমিতির?

প্রশান্ত মৃধা : এটুকু বুঝি, বাংলা একাডেমির নিজস্ব অনেক কাজ এই মেলার আয়োজনে ব্যাহত হয়। আবার প্রকাশক সমিতি আগে কখনও এমন আয়োজন করেনি, তাই তারা করলে ভালো হবে কী মন্দ হবে সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই। তবে প্রকাশক সমিতির হাতে দায়িত্ব যদি যায়ই, সে ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক বছর দুই পক্ষের সমন্বয়ে কাজটি এগোতে পারে।

প্রশ্ন : শোনা যায়, বেশির ভাগ প্রকাশক বই বিক্রি করে বইমেলার আনুষ্ঠানিক খরচই তুলতে পারেন না। বইমেলা বছর বছর এই আর্থিক ক্ষতিকে সম্প্রসারিত করছে কিনা? বইমেলা কি শুধু ‘উৎসব’ই থেকে যাচ্ছে?

প্রশান্ত মৃধা : বইমেলা এক ধরনের উৎসব। সে উৎসবের ধরন যাই হোক। তবে প্রকাশক খরচ তুলতে পারেন না ইত্যাদি বিষয় প্রকাশকের নিজস্ব। ভালো বইয়ের পাঠক নিশ্চয়ই আছে। যদি ভালো বই বের করা যায়, নিশ্চিত খরচ ওঠা না ওঠার বিষয়টা সামনে আসত না।

তবে মেলাকে উপলক্ষ্য করে প্রকাশিত বইগুলোর বেশিরভাগই তো হাতে নিলে বোঝা যায়, তা যথেষ্ট অবহেলায় (মানে সম্পাদনা-প্রুফ-পৃষ্ঠাবিন্যাস ইত্যাদি যথাযথভাবে করা হয়নি) প্রকাশিত হয়েছে।

প্রশ্ন : মেলার স্টল বিন্যাস কেমন হওয়া উচিৎ? যাতে পাঠক খুব সহজেই তার কাঙ্ক্ষিত স্টলগুলো খুঁজে পেতে পারেন?

প্রশান্ত মৃধা : বিন্যাস হওয়া উচিত তেমন, একজন পাঠক অনায়াসে তার পছন্দের স্টলটি খুঁজে পান। বইটি খুঁজে পান। পছন্দের স্টলটির সামনে যাতে সাচ্ছন্দ্যে দাঁড়াতে পারেন।

প্রশ্ন : ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চলসহ সারাদেশে কীভাবে সৃজনশীল বইয়ের দোকান গড়ে তোলা যায়?

প্রশান্ত মৃধা : বইমেলায় বই বিক্রির জন্য যখন প্রস্তুত, তখন সেটি পণ্য। তাই পাঠকের কাছে বই পৌঁছানোর বিকল্প নেই। অন্তত সবগুলো জেলা শহরে বইয়ের দোকান গড়ে তোলা প্রয়োজন। একইসঙ্গে প্রয়োজন শিক্ষা ব্যবস্থায় বই পড়ার বিষয়টি রাখা, যাতে ছাত্রছাত্রীদের তথাকথিত ‘আউট বই’য়ের শরণাপন্ন হতে হয়। অন্যথায় ওই বইয়ের দোকানগুলোও কাজে আসবে না।

প্রশ্ন : বাজার কাটতি লেখকের প্রভাব ও প্রচারে বই সম্পর্কে পাঠক ভুল বার্তা পায় কিনা?

প্রশান্ত মৃধা : পায়। এ ব্যাপারে আমাদের প্রচারমাধ্যম দারুণ সক্ষম!

প্রশ্ন : আপনার বই কত কপি ছাপা হয়, কত কপি বিক্রি হয়—তা জানেন কিনা?

প্রশান্ত মৃধা : পাঁচশোর মতন। এক বছরে শ দুয়েক কপির বেশি বিক্রি হয় বলে মনে হয় না।

প্রশ্ন : গত বছর বইমেলায় পুলিশকে দেখা গেছে বইয়ের উপর নজরদারি করতে। এ বিষয়ে আপনার মত কী?

প্রশান্ত মৃধা : বইয়ের ওপর কারো নজরদারি বাঞ্ছনীয় নয়।

//জেডএস//

লাইভ

টপ