টাটকা ধর্ষণের পর কাঁদতে থাকা ভূখণ্ড...

Send
জুয়েল মোস্তাফিজ
প্রকাশিত : ০৮:০০, মে ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:১০, মে ১৮, ২০১৯

কিস মি হেয়ার, টাচ মি দেয়ার, হাংকিপাংকি...

দুঃখ কখনো দুঃখ পায় না... পানি কখনো পানি খায় না... মানুষ কেনো মানুষ খায় সাঁঝের

বেলা...



ফুলের হাজার কিলোমিটার ঘুরে মেলেনি গাছের ঠিকানা... মাছের হাজার কিলোমিটার ঘুরে

মেলেনি কোনো নদী...



জবাইয়ের দুঃখ হাঁসের গলা। হাঁসের দুঃখ ছুরি। ছুরির দুঃখ চুইয়ে পড়া রক্ত... রক্তের দুঃখ

মানুষ... কাটতে কাটতে কল্লা কাটা ছুরিটার গলা কেটে যায় দরদী...



জীবন ছুটে যাওয়া একটা ভুল ঘোড়া... মাঝ নদীর ধরা পড়া বোয়াল মাছ। ফান্দে পড়া

বগার কান্নার নাম রাখেনি এই দুনিয়া...



উঁচু দুনিয়ার নিচু ঘাম; ঝরে পড়ে তোমার আমার মুখে... মানুষ ম্যজিক বাক্স... তার ভেতর

হৈমন্তী সাপ না খেয়ে আছে বহুদিন... দুধ কীভাবে দেহের ভেতর রক্ত হয়ে যায়?...



রোজ রোজ নিজের নাম ভুলে যায় গো... তোমার নাম মনে আছে তো? আমরা দেহ না

নাম? রক্ত নাকি বুকের দুধ?



জীবনের ডাকনাম বিপদ। বিপদের ডাকনাম জানলে মাঝ নদীর বোয়াল মাছ একটা গান

গাইতো... দুঃখ কখনো দুঃখ পায় না। পানি কখনো পানি খায় না...

 

ডোন্ট অরি শ্রীলঙ্কান ফ্ল্যাগ...

আমাদের বাঁশঝাড় মড়মড় করে... আমাদের মাটি কবরের চাপে ধড়ফড় করে... কোদাল

চিনে না শিশুটা তবু কোদাল তার কবর খোড়ে... আমাদের ছোট ছোট কবরগুলো মার্বেলের

মতো গড়িয়ে যায় মাটিতে...



তোমার সিংহল সমুদ্রে ছিটকে পড়া রক্তফোঁটা, আমার নদীর খুচরা মাছ... পতাকা তুই

একবার তাকা, তোকে একবার সালাম দিতে দে... বুকের মৌচাক তুই মৌমাছির সাথে

উড়ে যা, তোকে একবার চুসে খেতে দে...



ডোন্ট অরি শ্রীলঙ্কান ফ্ল্যাগ... তোমার সন্তানরা আছড়ে পড়া সমুদ্র... মগজ ভেদ করে ছুটে

যাওয়া তীর... যেমন ধরো আমাদের গর্দান; মাংসে গেঁথে থাকা লোহার শূল...



আমাদের নারীর নাম ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার... তার জরায়ু আর আয়ু ভেদ করে

চলে যায় মরণ। তোমার প্রমীলা কী আর ডরায় সখি ভিখারি রাঘবে...



আমাদের ভোরটা না, কবে পাখির সাথে উড়ে যেত... পেরেক মারা ভোরের বুক সূর্যের

সাথে পাঞ্জা লড়ে... সাঙ্গাকারা, রানাতুঙ্গা জাস্ট ওয়েভিং ইউর ফ্ল্যাগ...



বোমা কি আর বুকের মতো ব্লাস্ট হতে পারে? জীবন কি আর বারুদের ধার ধারে... যে

ভোরের শিশিরকণা রক্তদানা; তার কি রাত লাগে... তুমি একদিন দুনিয়ার স্ট্যাম্প ভেঙে

দেবে...



পতাকা মেরে বাঁচে না পতাকা... জীবন পোষা প্রাণী... ডোন্ট অরি শ্রীলঙ্কান ফ্ল্যাগ... তুমি

উড়তে থাকো নিশ্বাসে... আমরা সন্ত্রাসীর বুকে বাঁধব টিয়া পাখির বাসা...

 

তোমার ছলাকলা দেখতে দেখতে...

মাতৃভূমি। বুকের ওপর গাড়ির চাকা, উরুর ওপর লাঠির বাড়ি...

জীবন। খাতা বুঝে নাম; পাতা বুঝে সবুজ। দেহখানা টলটলে রক্তের চৌবাচ্চা...

মুখ। একটা অসহায় মার্বেল, আয়নার প্রতারণা... সে কী দেখায়, আমি কী দেখি...

সুখ। নতুন ব্লেড, কাঁচা আম ছিলে ছিলে নুনমাখা উত্তেজনা...

দুখ। তোমার ঘাড় থেকে খুলে পড়া মুখের চাঁদটা… রোজ মরে রোজ বাঁচে...

মরণ। মাটির বড় ছেলেটা, বুক উঁচু মেয়েটা, ফিনকি ছোটা রক্তপাত...

আমি। মিথ্যা মাগুর মাছ, তোমার খাবার টেবিলে তেলে বাগুনে জ্বলেপুড়ে ছারখার স্বাদ...

তুমি। ফাটা ডালিমের লাল দানা, চিঠি থেকে ঝরে পড়া প্রিয় ঝরঝর অক্ষর...

আমরা। কবরের দূর্বা, শহরের দীর্ঘশ্বাস... বুকের মলাটে হেঁটে বেড়ানো উইপোকা...

জন্ম। ভুল গ্রামে ফোটা ফুলের আফসোস... বাতাস না লাগা ডানায় আকাশি পাখি...

প্রেম। বাসি বুক থেকে ঝরে পড়া বকুল... টাটকা ধর্ষণের পর কাঁদতে থাকা ভূখণ্ড...

//জেডএস//

লাইভ

টপ