হিযবুত তাহরীর প্রধান মহিউদ্দীন ঢাবি থেকে নিয়মিত বেতনভাতা পাচ্ছেন, আছেন জামিনে

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৮ জুন ২০১৬, ২৩:২১আপডেট : ১৯ জুন ২০১৬, ১২:৫৫

হিযবুত তাহরীরের প্রধান সমন্বয়ক মহীউদ্দীন আহমেদ নিষিদ্ধ হলেও থেমে নেই হিযবুত তাহরীর-এর কর্মকাণ্ড। সাম্প্রতিক সিরিয়াল টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনায় পুনরায় আলোচনায় উঠে এসেছে সংগঠনটি। পুলিশের দাবি, মাদারীপুরের কলেজ শিক্ষক হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার ও ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ফাহিম হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আর দলটির প্রধান সমন্বয়ক মহিউদ্দীন আহমেদ উত্তরা থানার একটি মামলায় ২০১০ সালের ২০ এপ্রিল গ্রেফতার হলেও পরে  জামিনে ছাড়া পেয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। ঢাবি থেকে তিনি নিয়মিত বেতনভাতাও পাচ্ছেন বলে জানা গেছে। আত্মগোপনে থেকে মহিউদ্দীনই দলীয় কর্মীদের নির্দেশনা দিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মহিউদ্দীন আহমেদ জামিনে মুক্ত হলেও তিনি তার কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস এ্যামিনিস্ট্রেশন (আইবিএ)-তে যোগদানের অনুমতি পাননি। তিনি এ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৯ সালের  ২২ অক্টোবর সরকার হিযবুত তাহরীর নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থেকে মহিউদ্দীনকে আর কর্মস্থলে দেখা যায়নি। তিনি বর্তমানে কোথায় আছেন তাও জানেন না এ বিভাগের কেউই।
তবে কর্মস্থলে যোগদানের অনুমতি চেয়ে মহিউদ্দীন আহমেদ আইবিএ-এর পরিচালকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। পরিচালক ওই চিঠিটি বিশ্ববিদ্যলয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান বলে জানিয়েছেন আইবিএ-এর পরিচালকের সচিব মঞ্জুরুল হক।

ঢাবির রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা গেছে, ‘সরকার হিযবুত তাহরীর নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে ২০০৯ সালের ২৫ অক্টোবর সিন্ডিকেটের একসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মহিউদ্দীন আহমেদকে বাধ্যতামূলক ছুটি প্রদান করা হয়। তাকে অধ্যাপনা থেকে বিরত রাখা হয়েছে। তবে তিনি নিয়মিত বেতনভাতা পাচ্ছেন।তার ছুটি এখনও বহাল আছে।’

ঢাবির উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওই শিক্ষক জামিনে রয়েছেন। তার মামলা যেহেতু চলমান, এ কারণে সিন্ডিকেট তাকে বাধ্যতামূলক ছুটি দিয়েছে।’

মহিউদ্দীন আহমেদ বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, অনুসন্ধান করেও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত গ্রামীণ ফোনের সিমটি বন্ধ পাওয়া যায়। গ্রিন রোডের টিচার্স কোয়ার্টারে তার পরিবারেরও হদিস পাওয়া যায়নি।

এদিকে সরকার হিযবুত তাহরীর নিষিদ্ধ করলেও থেমে নেই এর কার্যক্রম। রাজধানীসহ সারাদেশে সংগঠনটির কর্মীরা সক্রিয় রয়েছে। বছর দুয়েক ধরে হিযবুত তাহরীরের নারী সংগঠন কাজ করছে। বাড়ছে নারীকর্মী সংখ্যাও। দলের কর্মীদের দাবি, সব ক’টি বিভাগীয় শহরে তাদের সংগঠন রয়েছে।

কোনও কর্মী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হলে, কিংবা সংগঠনের যেকোনও খবর মিডিয়ায় প্রকাশের লক্ষ্যে কর্মীরা নিয়মিত গণমাধ্যম অফিসে গিয়ে হাতে হাতে প্রেসরিলিজ পৌঁছে দিচ্ছে। লন্ডন থেকেও মিডিয়া অফিসে ইমেইলে প্রেসরিলিজ পাঠানো হয়।

সূত্র মতে, গ্রেফতারকৃত হিযবুতকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ বেশির ভাগই সন্ত্রাস দমন আইনে অভিযোগ আনে। হিযবুত তাহরীরের কর্মীদের কাছে আলামত হিসেবে  লিফলেট, পোস্টার ও বইপত্র পাওয়া যায়। এ কারণে মামলাও হয়। তবে বেশিদিন  তাদের আটক রাখা সম্ভব হয় না।

সংগঠনটির কর্মীদের দাবি, বর্তমানে রাজধানীতে ৫০ জন কর্মী কারাগারে রয়েছে। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-এর তথ্য মতে, র‌্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ১১ বছরে ১ হাজার ১০০ জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে হিযবুত তাহরীর-এর কর্মীরাও রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে শুধু হিযবুতকর্মী সংখ্যা কত এবং জেলে কতজন আছে, সে সম্পর্কে র‌্যাবের কাছে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য নেই। কারণ, একদিতে ধরা পড়ে আরেকদিকে তারা জামিনে বেরিয়ে যায়। হিযবুত তাহরীরের দাবি, ২০০৯ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত তাদের তিন শতাধিক কর্মী আটক হয়েছে।

উল্লেখ্য, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর হিযবুত তাহরীর নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এ সময় থেকে সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়কারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের আইবিএ-এর সহযোগী অধ্যাপক মহিউদ্দীন আহমেদকে পরিবারসহ তার গ্রিনরোডের বাসায় নজরবন্দি রাখা হয়। পরে উত্তরা থানার একটি মামলায় তাকে ২০১০ সালের ২০ এপ্রিল গ্রেফতার করা হয়। 

একই মামলায় ২১ এপ্রিল সংগঠনটির সেকেন্ড ইন কমান্ড সফ্ট ওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার কাজী মোরশেদুল হককে মোহাম্মদপুরস্থ চাঁন মিয়া হাউজিংয়ের বাসা থেকে আটক করা হয়। এছাড়া হিযবুত তাহরিরের উপদেষ্টা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম মাওলাকে ২০১০ সালের ৮ জুলাই গোয়েন্দা পুলিশ এলিফ্যান্ট রোড থেকে গ্রেফতার করে। এদের সবার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ হিযবুত তাহরীরকে সংগঠিত ও কার্যকর করা এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়। জানা গেছে, মোরশেদ এবং গোলাম মাওলা দুজনই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, হিযবুত তাহরির ২০০১ সালে প্রথম ধানমণ্ডিতে একটি সেমিনার আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রথম যাত্রা করে। বিশ্বের অনেক দেশেই এটি একটি নিষিদ্ধ সংগঠন।

/এপিএইচ/ এমএনএইচ/ 

আরও পড়ুন: 
রিমান্ডে থাকা ফাইজুল্লাহ ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

‘বন্দুক, তুমি যুদ্ধ বোঝো, তদন্ত বোঝো না’

সরকারের সম্পৃক্ততা বেরিয়ে পড়ার ভয়ে ক্রসফায়ার: খালেদা জিয়া

 

 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
প্রবাসীসহ সব বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনা দেবে সরকার
প্রবাসীসহ সব বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনা দেবে সরকার
সব দলকে রাজনীতি করতে দিতে চায় বিএনপি, এর মধ্যে আ.লীগ কি আছে?
সব দলকে রাজনীতি করতে দিতে চায় বিএনপি, এর মধ্যে আ.লীগ কি আছে?
ইকরার মৃত্যু: জামিন পেলেন অভিনেতা জাহের আলভীর মা
ইকরার মৃত্যু: জামিন পেলেন অভিনেতা জাহের আলভীর মা
কৃষিকে আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জরুরি: প্রধানমন্ত্রী
কৃষিকে আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জরুরি: প্রধানমন্ত্রী
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী