প্রাথমিকে ভুয়া ‘বদলি আদেশ’ বাণিজ্য

Send
এস এম আব্বাস
প্রকাশিত : ১৪:২০, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৩৭, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৬

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নামে ভুয়া বদলি আদেশ তৈরি করে চলছে রমরমা বাণিজ্য। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এক শ্রেণির দালাল।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। মন্ত্রণালয়ের আদেশ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে আদেশটি ভুয়া। বেশ কয়েকজন শিক্ষক ভুয়া আদেশ নিয়ে বদলি করা বিদ্যালয়ে যোগদান করতে গেলে বিষয়টি ধরা পড়ে। ভুয়া বদলি আদেশের ফাঁদে পড়ে ইতোমধ্যে দুজন শিক্ষক সাময়িক বরখাস্তও হয়েছেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে,দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকা মহানগর ও আশেপাশের এলাকায় বদলির প্রলোভন দেখিয়ে এক শ্রেণির দালাল টাকা নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের হাতে ভুয়া বদলি আদেশ ধরিয়ে দিচ্ছেন। আর এ বদলি আদেশ নিয়ে কথিত বদলি করা বিদ্যালয়ে যোগদানের চেষ্টা করছেন শিক্ষকরা। দালালদের টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়ে দুজন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক সাময়িক বরখাস্তও হয়েছেন।

এ ধরনের প্রতারণা রোধে সব বিভাগীয় উপ-পরিচালক, জেলা ও উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বদলি আদেশ যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর।  

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) মো আব্দুর রউফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের নামে ভুয়া বদলি আদেশ করিয়ে নতুন স্কুলে যোগদানের চেষ্টা করেছেন কয়েকজন শিক্ষক। তাই বদলি হওয়া শিক্ষকের আদেশটি যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে। ইতোমধ্যে দুজন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আর কোনও শিক্ষক ভুয়া আদেশ নিয়ে যোগদান করার চেষ্টা করলে তাকেও সাময়িক বরখাস্ত করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে জানা গেছে, প্রতি বছর জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি করা হয়। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় যে কোনো সময় শিক্ষকদের বদলি করতে পারে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেক সহকারী শিক্ষক অন্যের মাধ্যমে মন্ত্রণালয় থেকে বদলির আদেশ করানোর চেষ্টা করেন। শিক্ষকদের কাছ থেকে ‘সুযোগ সন্ধানী’রা দুই থেকে তিন লাখ বা আরও বেশি টাকা নিয়ে বদলির তদবির করেন। আর ভুয়া আদেশ তৈরি করে টাকা হাতিয়ে নেন এক শ্রেণির প্রতারক চক্র।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুর রউফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইতোমধ্যে দুজন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কারণ ভুয়া বদলি আদেশ তৈরি হওয়ার পেছনে ওই দুই শিক্ষকের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। সবাইকে সচেতন করতে ভুয়া আদেশ যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

শিক্ষকরা নানা কারণে মহানগর বা জেলা সদরে আসতে চান বলেই এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানান আব্দুর রউফ।   

এদিকে এ পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ১ ডিসেম্বর একটি পরিপত্র জারি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। ওই পরিপত্রে বলা হয়েছে, ‘ইদানিং গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, ঢাকা সিটি করপোরেশন ও এর পার্শ্ববর্তী উপজেলা/থানা এবং অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও জেলা সদরের আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ ভুয়া বদলি আদেশ জারি করে বদলি করা বিদ্যালয়ে যোগদানের চেষ্টা করছেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ওয়েবসাইট/ইমেল থেকে বদলির আদেশ যাচাই করে কার‌্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।’

বদলির আদেশ নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে প্রয়োজনে ফোন করে তথ্য যাচাই করার কথা বলা হয়েছে ওই পরিপত্রে। 

 

/এএআর/

 

লাইভ

টপ