মাধ্যমিকে ভর্তির স্বচ্ছতা নিশ্চিতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ

Send
এস এম আববাস
প্রকাশিত : ১৩:৪২, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৫৪, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৬

সরকারি স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা (ছবি-ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত)

রাজধানীসহ দেশের মহানগর ও জেলা শহরগুলোর মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বিভাগীয় কমিশনারদের মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনের এসব কর্মকর্তাদের এ নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশজুড়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে এরই মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অধিকাংশ বিদ্যালয়েই আবেদনপত্র গ্রহণ শেষে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কিন্তু, প্রতিবছরই স্কুলগুলোতে ভর্তি নিয়ে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়সহ নানা ধরনের অস্বচ্ছতার অভিযোগ তোলা হয়। তাই এবার আগে থেকেই সরকার স্কুলগুলোয় ভর্তির ক্ষেত্রে মেধা, দক্ষতা যাচাইসহ পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সেশনে মাধ্যমিক স্কুলগুলো ভর্তি ফরম বিতরণ করেছে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ১৭ ডিসেম্বর দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণির এ গ্রুপের এবং ১৮ ডিসেম্বর বি গ্রুপের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম শ্রেণির ভর্তির জন্য আগামী ২৪ ডিসেম্বর লটারি অনুষ্ঠিত হবে।

মাধ্যমিকে ভর্তির ক্ষেত্রে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়ে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল হান্নান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে ভর্তি প্রক্রিয়া মনিটরিংয়ের জন্য জেলা প্রশাসকদের ইতোমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে একটি মেকানিজম দাঁড় করিয়েছি। শিক্ষক, সুশীল সমাজের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আশাকরি, এবার কলঙ্কমুক্ত রাখতে পারবো মাধ্যমিকের ভর্তিতে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকরা সার্বক্ষণিক স্কুলগুলো মনিটরিং করছে। ম্যাজিস্ট্রেটরা রয়েছেন ভর্তি পরীক্ষার স্বচ্ছতার বিষয় দেখার জন্য। আমরা সরকারের এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে তৎপর রয়েছি।’

ঢাকা মহানগরীর সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে এলাকার শিক্ষার্থীদের এবারও ৪০ শতাংশ কোটার বিধান রেখে নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নীতিমালা অনুসারে ঢাকা মহানগরী ছাড়াও দেশের সব বেসরকারি স্কুল-কলেজে প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে হবে। নীতিমালা না মেনে সরকার নির্ধারিত ফি -এর অতিরিক্ত নিলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিল করবে সরকার।

নীতিমালা অনুসারে ঢাকা মেট্রোপলিটনসহ এমপিওভুক্ত, আংশিক এমপিওভুক্ত এবং এমপিও বহির্ভূত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবেদন ফরমের দাম হবে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে সেশন ফিসহ সর্বোচ্চ ভর্তি ফি ৫০০ টাকা। পৌর (উপজেলা) এলাকায় এক হাজার টাকা, পৌর (জেলা সদর) এলাকায় দুই হাজার টাকা এবং ঢাকা ব্যতীত অন্য মেট্রোপলিটন এলাকায় তিন হাজার টাকা ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তিতে পাঁচ হাজার টাকা, আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান আট হাজার টাকা এবং ইংরেজি মাধ্যমে ১০ হাজার টাকার বেশি নেওয়া যাবে না। উন্নয়ন খাতে কোনও প্রতিষ্ঠান তিন হাজার টাকার বেশি আদায় করতে পারবে না। একই প্রতিষ্ঠান থেকে বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের এক শ্রেণি থেকে পরের শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে পুনঃভর্তির ফি নিলেও সেশনচার্জ নেওয়া যাবে না।

মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং সন্তান পাওয়া না গেলে তাদের নাতি-নাতনিদের জন্য পাঁচ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে ভর্তিতে। প্রতিবন্ধীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে দুই শতাংশ। লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে অবস্থানরত সব শিশুকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়ন সাপেক্ষে ভর্তি করাতে হবে। যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে তাদের জন্য শূন্য আসনের এক শতাংশ কোটা সংরক্ষিত রাখতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের ভর্তিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার প্রতিষ্ঠানে দুই শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহোদর/সহোদরা বা যমজ ভাই/বোন যদি আগে থেকেই অধ্যয়ন করে তাহলে আসন শূন্য সাপেক্ষে ভর্তিতে তাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে এই সুবিধা কোনও দম্পতি সর্বোচ্চ দুই সন্তানের বেশি নিতে পারবে না। কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক, কর্মচারী এবং এর পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সন্তানদের সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ থাকলেও কোনও কোটা থাকবে না।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে এসব নিয়ম অমান্য করতে না পারে সে লক্ষ্যে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসকদের। তবে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি স্কুলগুলোর ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকদের দায়িত্বপালনে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।

/এসএমএ/এসটি/টিএন/

লাইভ

টপ