‘যারা ভোট চুরি করে, তারা ক্ষমতায় এলে দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবে’

Send
পাভেল হায়দার চৌধুরী ও মাজহারুল হক লিপু , মাগুরা থেকে
প্রকাশিত : ১৬:৫৯, মার্চ ২১, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৫৭, মার্চ ২১, ২০১৭

মাগুরার জনসভায় বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: ফোকাস বাংলাযারা ভোট চুরি করে ক্ষমতায় আসে তারা আবার দেশের ক্ষমতায় এলে দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘ভোট চুরির অপরাধে জনগণ যাদের ক্ষমতা থেকে হটিয়েছে তারা আবারও ক্ষমতায় এলে দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবে। কারণ তারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না।’

মঙ্গলবার মাগুরার মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ওয়াদা ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা। আমরা তা কার্যকর করেছি। এই বাংলায় যারা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের সৃষ্টি করেছে তাদের স্থান বাংলার মাটিতে হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পায় না, কাউকে পরোয়া করি না। কারও কাছে মাথা নত করি না। বাবার আদর্শ নিয়ে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য জীবন উৎসর্গ করবো, যেকোনও ত্যাগ স্বীকার করতে আমি প্রস্তুত। বাবার মতো বুকের রক্ত দিয়ে আপনাদের সেবা করবো এটাই আমার প্রতিজ্ঞা।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা আওয়ামী লীগের পতাকাতলে সমবেত হোন, আওয়ামী লীগের হাতকে শক্তিশালী করুন।  আশা করি ২০১৯ সালের নির্বাচনেও  নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে সেবা করার সুযোগ দেবেন। আমাদের লক্ষ্য উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০২১ সালে বাংলাদেশের কোনও ঘর অন্ধকার থাকবে না। প্রত্যেক ঘরে বিদ্যুৎ যাবে। দেশ যাতে দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যায় সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশের প্রত্যক জেলাকে আমরা ভিক্ষুকমুক্ত করবো। সেই ব্যবস্থা করছি। সামাজিক নিরাপত্তার জন্য কাজ করছি।’

‘জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকাসক্তদের প্রতি সমাজের সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। যারা এসব পথ থেকে ফিরে আসতে চাই, ভালো হতে চাই তাদের জীবন জীবিকার জন্য যা প্রয়োজন তা আমরা করবো’, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘মাগুরায় আমি খালি হাতে আসিনি। উপহার নিয়ে এসেছি। মাগুরাবাসীর দাবি, তারা নাকি রেল লাইন দেখেনি, রেল লাইন দিতে হবে। রেল লাইন যাতে হয় ইনশাল্লাহ সে ব্যবস্থা করবো।’

মাগুরার জনসভায় বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: ফোকাস বাংলাপ্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখনও ক্ষমতায় আসে মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করার চেষ্টা করে। আমরা দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করি। আর বিএনপি কী করেছে? ২০০১ সালে ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ‘র’ ও আরেরিকার ষড়যন্ত্রে ক্ষমতায় আসে। তারা ক্ষমতায় এসে আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বন্ধ করে দেয়। দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। ’

ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাকিবের জন্ম এ মাগুরায়। গতকাল শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে এনেছে। এ জন্য মাগুরাবাসীকে অভিনন্দন। কারন সে মাগুরার সুযোগ্য সন্তান।’

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তানজেল হোসেন খানের সভাপতিত্বে  জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন-শিল্পমন্ত্রী ও দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পিযুস কান্তি ভট্টাচার্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদ মাহবুব-উল-আলম হানিফ, আব্দুর রহমান, যুব ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেণ শিকদার, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল প্রমুখ।

বেলা ৩টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী জনসভার মঞ্চে আসেন। ৩টা ৪৫ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাগুরার বীর মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান স্টেডিয়ামের ফলক উন্মোচনসহ ১৫০ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন ১৯টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। একইসঙ্গে তিনি ১৭৭ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
জনসভায় মাগুরার সন্তান ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকরী সাইফুজ্জামান শিখর এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জেলায় রেল লাইন, একটি মেডিক্যাল কলেজ, জরাজীর্ণ আইনজীবী সমিতি ও  প্রেসক্লাবের নতুন ভবন নির্মাণের দাবি করেন। এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘আজকাল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে কোনও জেলায় রেল লাইন নেই? এমন প্রশ্ন আসে।’

এর আগে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসেবে ২০০৮ সালে এক নির্বাচনি সভায় বক্তৃতা করেন শেখ হাসিনা। আর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি সর্বশেষ মাগুরা সফর করেছেন ১৯৯৭ সালে।

/এপিএইচ/এসএনএইচ/

লাইভ

টপ