দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক পর্যটন জোট হলে লাভ হবে বাংলাদেশের

চৌধুরী আকবর হোসেন২৩:০০, এপ্রিল ২১, ২০১৭

 

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পর্যটন স্পটদক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পর্যটন খাতে আঞ্চলিক জোট তৈরির আলোচনার চলছে এ খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে পর্যটনখাতে আঞ্চলিক জোট তৈরি হলে বিশ্বে  এ অঞ্চল বিশেষ গুরুত্ব পাবে।  পর্যটন খাতে আঞ্চলিক জোট সৃষ্টি হলে বাংলাদেশ বেশি লাভবান হবে বলে মনে করছেন দেশের পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘ভ্রমণ ও পর্যটন প্রতিযোগিতা সূচক ২০১৭’ শীর্ষক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, পর্যটক আকর্ষণে দক্ষিণ এশিয়ায় এগিয়ে ভারত। পর্যটনে বিশ্বের ১৩৬টি দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান  ৪০ নম্বরে, ভুটান ৭৮ নম্বরে, নেপাল ১০৩ নম্বরে, পাকিস্তান ১২৪ নম্বরে এবং  বাংলাদেশ ১২৫ নম্বরে রয়েছে। দুই বছর পরপর বিশ্বের ভ্রমণ ও পর্যটনশিল্প নিয়ে ডব্লিউইএফ এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে পর্যটন আগমন বেড়েছে। এরমধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর প্রতি পর্যটকদের আগ্রহীও বাড়ছে। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের সমুদ্র, পর্বত, প্রকৃতি, খাদ্য, প্রত্নতত্ত্ব, মানুষের জীবনাচরণ পর্যটকদের আকর্ষণ করছে। এরই মধ্যে ভারত চিকিৎসা পর্যটনসহ বিভিন্ন কারণে শীর্ষে। এছাড়া ভুটান, নেপাল, মিয়ানমার পর্যটনশিল্প এগিয়ে।  বাংলাদেশের সম্ভাবনা থাকলেও প্রচার প্রচারণার অভাবে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের দৃষ্টি আর্কষণ করতে পারছে না।

বাংলাদেশ, ভারতে, ভুটান, নেপাল, শ্রীলংকা ও মিয়ানমারের পৃথক ছয়টি ট্যুর অপারেটরের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে ‘উ্ই এশিয়া' নামের একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম। শুক্রবার (২১ এপ্রিল) বাংলাদেশে এ অভিন্ন প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন করা হয়।

পর্যটন খাতে আঞ্চলিক জোটের রূপরেখা প্রসঙ্গে ‘উই এশিয়া’র অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান জার্নপ্লাসের  ব্যবস্থাপনা পরিচালক  তৌফিক রহমান বলেন, ‘আমরা একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছি  উ্ই এশিয়া নামে। এটি ছয়টি দেশের ছয়টি প্রতিষ্ঠান নিয়ে। এটি কয়েটি প্রতিষ্ঠানের প্ল্যাটফর্ম। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কয়েকটি দেশ মিলে জোট করতে পারে। আবার দু’টি  দেশের মধ্যেও সমঝোতা থাকতে পারে।  ব্যবসায়ী সংগঠন, পর্যটন খাতের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও জোট বা প্ল্যাটফর্ম হতে পারে।

পর্যটন খাতে আঞ্চলিক জোটের সুফল প্রসঙ্গে তৌফিক রহমান বলেন,আমি যদি ‘উই এশিয়া’র উদাহরণ দেই, আন্তর্জাতিক কোনও মেলায় আমাকে এখন আর একক খরচে অংশ নিতে হবে না। আমরা এখন উই এশিয়ার ব্যানারে অংশ নেব। ফলে খরচ ছয় ভাগ হয়ে যাবে। ছয়টি দেশের পর্যটন স্পটগুলো নিয়ে প্রচারণা করব। ভারতে কেউ বেড়াতে এলে, তাকে দুই দিনের জন্য হলেও বাংলাদেশে আসার প্রস্তাব করার সুযোগ তৈরি হবে। প্ল্যাটফর্মে যুক্ত একে অন্যের সহযোগী হিসেবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে। আমাদের চেয়ে ভারতে, ভুটান, নেপালে বেশি পর্যটক আসে। জোটভুক্ত হলে তাদের পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশকে তুলে ধরার সুযোগ হবে। বাংলাদেশ বেশি লাভবান হবে।’

তৌফিক রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রীয়ভাবে জোট হলে ভিসা প্রক্রিয়া, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে এক হতে হবে। তবে এতে সুফলও হবে, একদেশের ভিসা দেখিয়ে অন্যদেশের যাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে পর্যটকরা ভ্রমণে আগ্রহী হয়ে উঠবেন।’

 ২০ এপ্রিল থেকে বঙ্গববন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চলছে ৩ দিনব্যাপী পর্যটনমেলা। এ মেলায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, ভুটান, নেপালের সরকারি সংস্থা ও ট্যুর অপারেটররা অংশ নিয়েছেন। মেলায় অংশগ্রহণকারী বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোও পর্যটন খাতে আঞ্চলিক জোটের প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন। মেলায় অনুষ্ঠিত একাধিক সেমিনারে দেশিবিদেশি বক্তাদের আলোচনায়ও পর্যটনখাতের জোটের বিষয়টি উঠে এসেছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, ‘সীমানা দিয়ে পৃথক হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের অনেক মিল রয়েছে। পর্যটন খাতে বাংলাদেশ-ভারত যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। দু’দেশ মিলে সারাবিশ্বের পর্যটকদের আকর্ষণ করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। পর্যটন খাতে বিভিন্ন দেশে অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এটি রাষ্ট্রীয়ভাবে আলোচনার প্রয়োজন আছে। তবে অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম তৈরি হলে পর্যটন খাতে দক্ষিণ এশিয়া এগিয়ে যাবে।’

নেপালের ট্যুরিজম বোর্ডের ম্যানেজার নবীন পোখারেল বলেন, ‘পর্যটনশিল্পের আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে দক্ষিণ এশিয়া। আমার মনে করি, এ অঞ্চলের দেশগুলো যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে নতুন মাত্রা পাবে পর্যটন খাত।  পর্যটকরা ভিন্নতা পছন্দ করে, ফলে অভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে পর্যটকদের আকর্ষণ করা যাবে।

এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘বাংলাদেশ পর্যটন খাতকে গুরুত্ব দিচ্ছে। পর্যটনের গুরুত্ব বিবেচনা নিয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে। দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম  হলে  এ অঞ্চলের পর্যটন খাত অনেক বেশি গতিশীল হবে। অভিন্নভাবে প্রচার-প্রচারণা চালালে জোরালোভাবে পর্যটকদের দৃষ্টি আর্কষণ সম্ভব হবে। অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম  করতে বৈদেশিক নীতি, ভিসা প্রক্রিয়া পর্যটকবান্ধব হতে হবে।’ একইসঙ্গে স্বল্প খরচে, স্বাচ্ছন্দ্যে  নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ