বাংলাদেশের প্রশংসায় জাতিসংঘের মহাসচিব

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট১৬:৪৮, জুন ২০, ২০১৭

 

 

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেজের সঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব মোহাম্মাদ শহীদুল হকবাংলাদেশের অসামান্য অগ্রগতিতে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দুর্যোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরেন তিনি। এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতিতেও বাংলাদেশকে সামনের কাতারেও দেখতে চান জাতিসংঘ মহাসচিব। মঙ্গলবার (১৯ জুন) পররাষ্ট্র সচিব মোহাম্মাদ শহীদুল হক এর সঙ্গে এক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রশংসা করে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এ সময় জাতিসংঘ মহাসচিব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘সার্কেল অব লিডার’ বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোর কথা উল্লেখ করেন।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শান্তিরক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কাযর্ক্রমে অন্যতম বৃহৎ সেনা ও পুলিশ সদস্য পাঠানো দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আসন্ন সাধারণ পরিষদের সময় অনুষ্ঠিতব্য ‘সার্কেল অব লিডার’ বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে জাতিসংঘ মহাসচিব উল্লেখ করেন।

পররাষ্ট্র সচিব জাতিসংঘের মূল্যবোধ ও নীতিমালার প্রতি বাংলাদেশের অবিচল অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ জাতিসংঘ মহাসচিবের নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল। আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় মহাসচিবের অগ্রাধিকার প্রদানের প্রশংসা করেন তিনি। বিগত আট বছরে বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যে অগ্রগতি সাধন করেছে, পররাষ্ট্র সচিব সে বিষয়ে মহাসচিবকে অবহিত করেন।

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (জাতিসংঘ) সাদিয়া ফয়জুন্নেছা, বাংলাদেশ মিশনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মোহাম্মাদ আরিফুল ইসলাম এসময় উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সোমবার সকালে পররাষ্ট্র সচিব জাতিসংঘ সদর দফতরে ‘ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম’ এর উপর একটি হাই লেভেলে ডিবেটে বক্তব্য রাখেন। ইতালির স্থায়ী মিশন এবং জাতিসংঘের ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম অফিসের (ইউএনওডিসি) সহযোগিতায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি এ ইভেন্টটির আয়োজন করেন।

পররাষ্ট্র সচিব তার বক্তৃতায় বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক-নিদের্শনায় ‘ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম’ মোকাবিলায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। এ জাতীয় অপরাধ দমনে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী আইনি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। বাড়তি নজরদারি ও কার্যকর বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবৈধ অভিগমন, মানব পাচার এবং চোরাচালানের প্রবণতা অনেকাংশে কমে এসেছে।”

পররাষ্ট্র সচিব হক আরও বলেন, ‘আমরা স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠা করেছি এবং এটিকে শক্তিশালী করেছি। মানি লন্ডারিং এবং সন্ত্রাসবাদের অর্থায়ন মোকাবিলায় আমাদের টেকসই উদ্যোগগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি পেয়েছে।’

মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র, বন্যপ্রাণী ও সাংস্কৃতিক সম্পদের অবৈধ পাচার রোধে কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতার উপর পররাষ্ট্র সচিব গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “ডার্ক ওয়েব’ এর বিস্তারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন যা প্রায়ই সন্ত্রাসী ও সহিংস চরমপন্থীরা তাদের কাজে ব্যবহার করে থাকে।”

এদিকে, সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র সচিব বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন আয়োজিত বিদেশি কূটনীতিকদের এক সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে  যোগ দেন। সেখানে উপস্থিত কূটনীতিকদের কাছে কমিটি অব মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার্স (সিএমডব্লিউ) এর পুনঃনির্বাচনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে নিজের অবস্থান ও অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেন।

/এসএসজেড/এসএমএ/ 

লাইভ

টপ