বছরের প্রথমদিন শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছানো নিয়ে সংশয়

Send
রশিদ আল রুহানী
প্রকাশিত : ১৪:২৮, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৩৫, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৭

বই উৎসব, ফাইল ছবিপ্রতিবছর ১ জানুয়ারি সরকার বই উৎসবের আয়োজন করে। বছরের প্রথম দিন নতুন বইয়ের  ঘ্রাণ নিতে নিতে বাড়ি ফেরে শিশুরা। তবে আগামী বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পৌঁছাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাঠ্যপুস্তক ছাপতে টেন্ডার কার্যক্রম সম্পন্ন করা, মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানকে পাণ্ডুলিপি সরবরাহ করে ওয়ার্ক অর্ডার দিতে দেরি করায় এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মুদ্রণ শিল্প সমিতি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বই ছাপতে না পারার ব্যর্থতার দায় মুদ্রণ সমিতি নেবে না-এ বিষয় নিয়ে আগামী সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংকটের আদ্যপান্ত তুলে ধরবেন বলেও জানিয়েছে মুদ্রণ সমিতি।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) একাধিক কর্মকর্তা ও মুদ্রণ শিল্প সমিতি সূত্রে জানা গেছে, এবার বইয়ের কাজ শুরু করতে না পারার দায় এনসিটিবিকে নিতে হবে। এ বিষয়ে গত মাসে মুদ্রণ শিল্প সমিতি একাধিক চিঠি দিয়ে এনসিটিবিকে সর্তক করেছে। এরই মধ্যে সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) এনসিটিবি কার্যালয়ে মুদ্রণ সমিতির প্রায় শতাধিক সদস্যরা এনসিটিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে তাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক,মাধ্যমিক,দাখিল,ভোকেশনাল স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৩৬ কোটি বই ছাপানো হবে। উপজেলা শিক্ষা অফিস, জেলা শিক্ষা অফিস বইয়ের চাহিদা পাঠানোর পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু চাহিদা পাঠানোর পরেও পাঠ্যপুস্তকের টেন্ডার কার্যক্রম শেষ করতে না পারা, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) এর কাগজ পরীক্ষার পরিদর্শক টিম গঠন করতে বিলম্ব করা, নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্যবই সুখপাঠ্য করে সিডি তৈরিতে বিলম্ব হওয়াসহ বেশ কিছু জটিলতার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে মুদ্রণ সমিতির কর্মকর্তারা বলছেন, অন্যান্যবার জুনের মধ্যেই বই ছাপার কাজ শুরু করেন তারা। অথচ এবার আগস্ট-সেপ্টেম্বরে পুরোদমে কাজ শুরু করতে পারিনি। ফলে, সঠিক সময়ে আমরা বই ছাপার কাজ শেষ করতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে এনসিটিবির দাবি, সঠিক সময়েই শিক্ষার্থীরা বই হাতে পাবে। যতটুকু জটিলতা ছিল তা ইতোমধ্যে কেটে গেছে।

এ বিষয়ে মুদ্রণ শিল্প সমিতির সভাপতি তোফায়েল খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘বইয়ের কাজ শুরু করতে না পারার দায় এনসিটিবির। গত মাসে আমরা একাধিক চিঠি দিয়ে এনসিটিবিকে সর্তক করেছি। এখন পর্যন্ত তারা আমাদেরকে প্রাক-প্রাথমিকের বইয়ের ওয়ার্ক অর্ডার করেনি। গত মাসে প্রাথমিকের ওয়ার্ক অর্ডার করেও তারা ভুল সিডি দেয়। সেই সিডি ফেরত নিয়ে পুনরায় সিডি দিয়েছে এক মাস পর গত ২০ আগস্ট। কিন্তু ঈদের ছুটি চলে আসায় আমরা কাজ শুরু করতে পারিনি। কাগজ পরীক্ষা করতে এনসিটিবি সঠিক সময়ে লোক নিয়োগ করেনি। সেখানেও তারা একমাস বিলম্ব করেছেন। তবে ইবতেদায়ী ও দাখিলের কিছু বই ইতোমধ্যে ছাপা হয়ে গিয়েছে, ওসব বইয়ের কিছু কিছু বই বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠিয়েও দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মাধ্যমিকের কিছু বইয়ের ওয়ার্ক অর্ডার পেয়েছি। কিন্তু ঈদের পরেই কাজ শুরু হওয়ার কথা। আবার মাধ্যমিকের যে ১২টি সুখপাঠ্য হচ্ছে সেসব বইয়ের মধ্যে ৪টি বই সম্পূর্ণ রঙিন হবে বলে জেনেছি। কিন্তু ওইসব বইয়ের গত ১৭ আগস্ট টেন্ডার হওয়ার পরও কারা কাজ পাবে তা এখনও এনসিটিবি নির্ধারণ করতে পারেনি। আবার বই তৈরি হবে ভিন্ন ফরম্যাটে। তারা যে ফরম্যাটে বই চায় সেই ফরম্যাটে বই তৈরি করতে গেলে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ সময় লাগবে। এসব কারণে আমরা বারবার এনসিটিবিকে চিঠি দিয়েছি। আজও আমরা এনসিটিবিতে গিয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এনসিটিবি আমাদেরকে বই ছাপার জন্য যে শর্ত দিয়েছে সেই শর্ত তারাই যেন মেনে চলে এটাই আমাদের দাবি। কারণ, তারা নিম্নমানের কারখানাকে কাজ দিয়েছে। তারা এনসিটিবির শর্ত মেনে কাজ করে না। তাদের কাজের ব্যর্থতার দায় আমরা কেন নেবো? এতো কিছুর মধ্যেও আমরা মোটামুটি নিশ্চিত সঠিক সময়ের মধ্যে আমরা বই দিতে পারবো না।’

এমন সব জটিলতা কিছু দিন ছিল তবে সেই জটিলতা কেটে গেছে আগেই এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘প্রাথমিক স্তরের বই ছাপার মান নিয়ন্ত্রণ করতে পরিদর্শন টিম নিয়োগ দেয় ডিপিই। তারা এই কাজটি করতে একটু বিলম্ব করেছিল। পরে সেটার সমাধান হয়েছে। আমরা বইয়ের সিডিসহ অন্যান্য সবই মুদ্রণে দিয়েছি। কিছু বই ছাপাও হয়ে গিয়েছে। চলতি সপ্তাহ থেকে শিক্ষা অফিসে বই পাঠানোর কাজ শুরু হচ্ছে। আশা করছি সঠিক সময়ের মধ্যেই সব বই ছাপানোর কাজ শেষ হবে।’

 

 

/আরএআর/এসটি/

লাইভ

টপ