খালেদা জিয়ার বক্তব্য মিয়ানমার সরকারের স্টেটমেন্টের মতো: ওবায়দুল কাদের

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:০৬, নভেম্বর ১৫, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০৬, নভেম্বর ১৫, ২০১৭

ওবায়দুল কাদেরশেখ হাসিনার অধীনে বিএনপি কোনও নির্বাচনে যাবে না— খালেদা জিয়ার এমন মন্তব্য প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তার মন্তব্য, ‘মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুতে যেরকম আইওয়াশ স্টেটমেন্ট দিয়েছে, এই বক্তব্যও সেই রকমই মনে হয়েছে।’ বুধবার (১৫ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি জানে নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে। এখানে শেখ হাসিনার কথা কেন এলো? শেখ হাসিনার সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। নির্বাচনকালীন যে সরকার ক্ষমতায় থাকবে, অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো সেই সরকারই এটি। একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করাই হচ্ছে সরকারের কাজ। সরকার নির্বাচনের সময় শুধু রুটিন ওয়ার্ক করবে।’
নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ইসি’র অধীনে থাকবে উল্লেখ করেছেন সেতুমন্ত্রী। তার কথায়, ‘সংস্থাগুলো তখন সরকারের কথা শুনবে না। তারা কথা শুনবে নির্বাচন কমিশনের। বিএনপি সেনাবাহিনীর কথা বলছে। সেনাবাহিনী তো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নয়। আরপিওতে না থাকলে সেনাবাহিনী কিভাবে রাখবে ইসি।’
আগামী নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ এখন দলে ঐক্য গড়ে তোলার দিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান ওবায়দুল কাদের। দলের এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সমর্থের অভাব নেই। মাঝে মধ্যে দলে কিছু সমস্যা হয়। ঘরে শত্রু রাখলে বাইরে আক্রমণ তো হবেই। আমরা দুর্বল হলে দুর্বলতার ওপর বেশি আঘাত আসবে। আমরা আশাবাদী যে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকবে। এজন্য আমরা জেলাগুলোতে দিনরাত পরিশ্রম করছি। উপজেলা পর্যায়ে যাচ্ছি।’

নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন দেখার জন্য সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান সড়ক পরিবহন মন্ত্রী। তার মতে, ‘ঐক্যবদ্ধ থাকলে দাবি আদায় সহজ হয়, না থাকলে তা বিলম্বিত হয়। আমি তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি, তিনি আমাকে জানিয়েছেন— প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আগামী সপ্তাহে নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবেন। গতকাল সংবাদপত্র মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তথ্যমন্ত্রী। এরপর সমাধানের প্রথম পদক্ষেপ এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তাকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলেছেন।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক প্রসঙ্গে রসিকতার সুরে মন্ত্রী বলেন, ‘মন্ত্রিত্ব চলে গেলে হয়তো আবার আমাকে সাংবাদিকতায় ফিরে যেতে হবে! এজন্য একটু সম্পর্ক রাখি। কিছু তো বলা যায় না, কখন কী হয়!’

সেতুমন্ত্রী জানান, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পদ্মা সেতুর দ্বিতীয় স্প্যান বসবে। এরপর একে একে সব স্প্যান বসবে। এভাবেই একসময় পদ্মা সেতু পূর্ণ দৃশ্যমান হবে বলে জানান তিনি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি উপলক্ষে বুধবার এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয় প্রেসক্লাব। এখানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সাপ্তাহিক বিচিত্রায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের একটি লেখা ছাপা হয়েছিল। সেখানে লেখা ছিল— বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে আমরা স্বাধীনতা সংগ্রামের সবুজ সংকেত পেয়েছি। একথা স্বয়ং জিয়াউর রহমান বলেছিলেন। অথচ তার দল বিএনপি এখন সেই দিবস পালন করে না। ভাষণটিকে সম্মান করে না।

সড়ক ও সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, ‘১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান নিজেই ৭ মার্চের ভাষণটি নিষিদ্ধ করে রেখেছিলেন। এ ভাষণ রেডিও ও টেলিভিশনে নিষিদ্ধ ছিল। এ ভাষণ বাজানোর অপরাধে আমাদের দলের কিছু কর্মীকে অত্যাচার ও নির্যাতনের কারণে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছিল। সেই ভাষণ বিশ্ব স্বীকৃতি পেয়েছে। মনে হয় যেন এটা আওয়ামী লীগের সম্পদ। না, এটা আমাদের বাঙালির সম্পদ। ইউনেস্কো স্বীকৃতি দেওয়ার পরও বিএনপি কোনও প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। তাই তাদের মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা শুনলে হাসি পায়।’

অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. আবদুল মান্নান,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য ডা. কামরুল হাসান খান, দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন।

/এইচআর/জেএইচ/

লাইভ

টপ