কমলাপুর স্টেশনে বিকালেও টিকিট প্রত্যাশীদের দীর্ঘ লাইন

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:২৬, আগস্ট ১০, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:১২, আগস্ট ১১, ২০১৮

কমলাপুর স্টেশনে টিকিট প্রত্যাশীদের উপচেপড়া ভিড়ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রির তৃতীয় দিন শুক্রবার (১০ আগস্ট) বিকালেও রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টশনে টিকিট প্রত্যাশীদের ভিড় কমেনি। কাউন্টাগুলোতে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। প্রতিটি লাইন স্টেশনের মূল ফটক ছেড়ে বাইরে চলে গেছে। কোথাও ফাঁকা জায়গা নেই। বেলা যতো বাড়ছে কাউন্টারগুলোর লাইনও ততো দীর্ঘ হচ্ছে। শুক্রবার বিকালে কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।

প্রতিদিনের মতো আজও সকাল ৮টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। টিকিটের জন্য গভীর রাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন টিকিট প্রত্যাশীরা। কমলাপুরে ২৬টি কাউন্টার থেকে একযোগে চলছে টিকিট বিক্রি। এর মধ্যে দুটি কাউন্টার নারীদের জন্য সংরক্ষিত। তারা অন্য কাউন্টারগুলো থেকেও টিকিট নিতে পারবেন। আজ পাওয়া যাচ্ছে ১৯ আগস্টের টিকিট। আগামীকাল শনিবার (১১ আগস্ট) পাওয়া যাবে ২০ আগস্টের টিকিট, আর ১২ আগস্ট দেওয়া হবে ২১ আগস্টের টিকিট। এই দিনগুলোতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সকাল ৮টা থেকে টিকিট বিক্রি হবে সবচেয়ে বেশি ভিড় উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলোর কাউন্টারের সামনে। টিকিট প্রত্যাশীরা জানিয়েছেন, সড়কের ভোগান্তি এড়াতে ট্রেনের প্রতিই বেশি আকৃষ্ট হয়েছেন তারা।

টিকিট প্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাউন্টারে উপস্থিত অনেকেই গভীর রাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। তবে যারা সকাল কিংবা ভোরে দাঁড়িয়েছেন তাদের অনেকেই তখনও টিকিট পাননি। দিনের শেষ প্রান্তে কাঙ্খিত টিকিট পাবেন সেই আশায় লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।

রংপুর এক্সপ্রেসের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা হাবিবুল্যাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভোর ৫টায় লাইনে দাঁড়িয়েছি। এখনও টিকিট পাইনি। কখন যে টিকিট পাই বলতে পারছি না। এতো বেশি মানুষ হবে জানতে পারলে রাত ৮টায় এসে লাইনে দাঁড়াতাম।’

কমলাপুর স্টেশনে টিকিট প্রত্যাশীদের উপচেপড়া ভিড়বিকালে প্রতিটি কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের দীর্ঘ ভিড় দেখা গেছে। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে অনেকেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। এর পরেও প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করবেন সেই আশায় আছেন টিকিটের অপেক্ষায়। কাউন্টার ম্যানেজাররাও দেখে শুনে টিকিট দিচ্ছেন। স্টেশনের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীরও পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

নীলফামারীগামী নীলসাগর এক্সপ্রেসের টিকিট পেতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা থেকে অপেক্ষা করছিলেন রাজিব হোসেন। তিনি টিকিট পেয়েছেন দুপুর সাড়ে ১২টায়। রাজিব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাস্তার অবস্থা ভালো না। অনেক যানজট হয়। ভোগান্তির কারণে রেলের টিকিটের জন্য এসেছেন। ছোট বাচ্চা, বৃদ্ধ মা ও বাবার জন্য ট্রেনকেই আরামদায়ক মনে করছি। কষ্ট হলেও চারটা টিকিট পয়েছি এতেই ভালো লাগছে।’

বরাবরের মতো এবারও মোট টিকিটের ৬৫ শতাংশ দেওয়া হচ্ছে কাউন্টার থেকে। বাকি ৩৫ শতাংশের ২৫ শতাংশ অনলাইন ও মোবাইলে। পাঁচ শতাংশ ভিআইপি ছাড়াও রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে পাঁচ শতাংশ। কমলাপুর স্টেশনে ২৬টি কাউন্টারে সকাল ৮ থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। এরমধ্যে নারীদের জন্য দুইটি কাউন্টার সংরক্ষিত আছে।

কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা আজ শুক্রবার ১৯ আগস্টের টিকিট দিচ্ছি। গত দুই দিনের তুলনায় আজ অনেক ভিড়। আগামীকাল ভিড় আরও বেশি হবে। আমাদের হাতে যতক্ষণ টিকিট আছে আমরা ততক্ষণ দিচ্ছি। তবে আমাদের সম্পদ সীমিত। যত মানুষ লাইনে দাঁড়িয়েছেন হয়তো আমরা সবাইকে কাঙ্ক্ষিত টিকিট দিতে পারবো না। তবে যাত্রী চাপের কথা মাথায় রেখে প্রতিটি ট্রেনেই অতিরিক্ত বগি সংযুক্ত করা হবে। অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে যেন কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।’

কমলাপুর স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট প্রত্যাশীরাএদিকে ১৫ আগস্ট থেকে শুরু হবে ঈদ ফেরত যাত্রীদের জন্য ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি। এদিন পাওয়া যাবে ২৪ আগস্টের টিকিট। ঈদ ফেরত অগ্রিম টিকিট রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর ও লালমনিহাট স্টেশন থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় বিক্রি শুরু হবে। একইভাবে ১৬, ১৭, ১৮, ১৯ আগস্ট যথাক্রমে পাওয়া যাবে ২৫, ২৬, ২৭, ২৮ আগস্টের টিকিট। টিকিট বিক্রি শুরু হবে সকাল ৮টায়। তবে ২১, ২২ আগস্ট মৈত্রী এক্সপ্রেস এবং ২৩ আগস্ট বন্ধন এক্সপ্রেস চলাচল করবে না।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, একজন যাত্রীকে একসঙ্গে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট দেওয়া হবে এবং বিক্রিত টিকিট ফেরত নেওয়া হবে না। ঢাকা স্টেশনে ২৬টি কাউন্টার খোলা রাখা হয়েছে। এদিকে পবিত্র ঈদুল আজহার পাঁচ দিন আগে ১৮ আগস্ট থেকে ঈদের আগেরদিন পর্যন্ত সব আন্তঃনগর ট্রেন সাপ্তাহিক বন্ধের দিনও চলাচল করবে।

বাংলাদেশ রেলওয়েতে প্রতিদিন দুই লাখ ৬০ হাজার যাত্রী চলাচল করলেও ঈদুল আজহা উপলক্ষে দৈনিক তিন লাখ যাত্রী চলাচল করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে সুষ্ঠু ও নিরাপদে ট্রেন চলাচলের সুবিধার্থে ট্রেন পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত রেলওয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সকল প্রকার ছুটি বাতিল করা হবে। এদিকে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে যেন ঈদযাত্রা করতে পারেন সেই লক্ষ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

 

 

 

/এসএস/আইএ/

লাইভ

টপ