সরকারি ভাতাভোগী রাজাকারদের তালিকা সংরক্ষণে বার্তা যাচ্ছে ডিসিদের কাছে

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:৫৮, মে ২৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫৯, মে ২৬, ২০১৯

মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সরকারি বেতন-ভাতাভোগী রাজাকারদের তালিকা যথাযথভাবে সংরক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে চিঠি দিচ্ছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এছাড়া, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগে সংরক্ষিত রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস ও স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটারও দেওয়া হচ্ছে। রবিবার (২৬ মে) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

এদিকে রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস ও স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা প্রকাশে আইনে কোনও বাধা নেই বলে সংসদীয় কমিটি মনে করে।

বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, কমিটির আগের বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগে সংরক্ষিত রাজাকার, আল-বদর, আল-সামস ও স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা ও মুক্তিযুদ্ধের সময় জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলনকারী রাজাকারদের তালিকা সংরক্ষণের সুপারিশ করা হয়। কমিটির এই সুপারিশের তালিকা যথাযথভাবে সংরক্ষণের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ডিও লেটার দেওয়া হবে। পাশাপাশি  ডিসিদের গোপন বার্তা পাঠানোর জন্য নথি উপস্থাপন করা হয়েছে বলে কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কমিটির আগের বৈঠকে রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস ও স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তি ও সংগঠন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ ও পূর্বপাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সদস্যদের দেশদ্রোহী আখ্যায়িত করে তাদের আসনগুলো অবৈধভাবে শূন্য ঘোষণা করে সেখানে যাদের সদস্য করা হয়েছিল, তাদের নাম স্বাধীনতাবিরোধীদের অন্তর্ভুক্ত করে তালিকা প্রস্তুত-সংরক্ষণে আইন সংশোধনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ৫ সদস্যের  কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের কাছে সংরক্ষিত স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকারদের তালিকা সংগ্রহ করতে বলেছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘কমিটি মনে করে রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস ও স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা প্রকাশে আইনি কোনও বাধা নেই। এই জন্য কোনও আইন সংশোধনের প্রয়োজন পড়বে না।’

কমিটির অন্য সদস্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস ও স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা প্রকাশ করা যাবে না, এমন কোনও বিষয় আমার জানা নেই। যদি কেউ বলেন, বাধা আছে, তাহলে কোন আইনে এবং কোথায় বাধা রয়েছে, তার ব্যাখ্যা দেওয়া হোক।’

সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় থানা/মহকুমা/জেলা প্রশাসন থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলনকারী রাজাকারদের তালিকা যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও পরবর্তী সময়ে প্রকাশের ব্যবস্থা নিতে একটি তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য কমিটি সুপারিশ করে।

কমিটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নির্মাণাধীন ‘স্বাধীনতা স্তম্ভ’ প্রকল্প কাজের অগ্রগতি ২৮ মে ২০১৯ (মঙ্গলবার) সরেজমিনে পরিদর্শনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।

কমিটির সভাপতি শাজাহান খানের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটি সদস্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম ও কাজী ফিরোজ রশীদ অংশ নেন।

/ইএইচএস/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ