পাসপোর্ট ছাড়া কীভাবে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন পার হলেন সেই পাইলট?

Send
আমানুর রহমান রনি ও চৌধুরী আকবর হোসেন
প্রকাশিত : ২১:৪০, জুন ০৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:২০, জুন ০৭, ২০১৯

পাসপোর্ট ছাড়াই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ নিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কাতারে উদ্দেশে যাত্রা করেন সংস্থাটির একজন পাইলট। তবে, কাতারে যাওয়ার পার দেশটির ইমগ্রেশনের কর্মকর্তারা তাকে আটকে দেন। পাসপোর্ট ছাড়া তিনি কীভাবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পার হলেন, এর উত্তর খুঁজতে মাঠে নেমেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। এদিকে, বিষয়টি অনুসন্ধান করতে ইতোমধ্যে ইমিগ্রেশন পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

সূত্র জানায়, বিদেশ সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিমানের বোয়িং-৭৮৭ উড়োজাহাজ নিয়ে যান ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ। কাতারের দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ট্রানজিট পয়েন্টে থাকা একটি হোটেলে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়। তবে, তিনি কাতারের ট্রানজিট পয়েন্ট পার হয়ে দেশটির ভেতরে প্রবেশ করতে গেলে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তার পাসপোর্ট দেখতে চাইলে তিনি দেখাতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদকে বিমানবন্দরটির ইমিগ্রেশনের হেফাজতে নেওয়া হয়।

এদিকে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদের পাসপোর্ট বিশেষ ব্যবস্থায় রিজেন্ট এয়ারওয়েজে করে কাতার পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিমান সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার ফ্লাইটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদকে। তার পরিবর্তে বিমানের অন্য পাইলটকে পাঠোনো হয়েছে।
পাসপোর্ট ছাড়া ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ কীভাবে হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরের ইমগ্রেশন পার হলেন সে তথ্য অনুসন্ধান করতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ বিমানবন্দর ত্যাগ করার সময়ের সিসি ক্যামরার ফুটেজ সংগ্রহ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পাইলট বলেন, ‘পাইলটদের বিশ্বের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ত্যাগ ও প্রবেশের তথ্য জেনারেল ডিক্লেয়ারেশনের (জিডি) কপিতে অনর্ভুক্ত করা হয়। জিডি’র কপিতে পাইলটের নাম, ফ্লাইট নম্বর, কোন দেশে যাচ্ছেন, এসব তথ্যের পাশাপাশি পাসপোর্ট নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ থাকে। ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট দেখে জিডি’র কপিতে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে।

এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব মুহিবুল হক বলেন, ‘পাইলট কীভাবে পাসপোর্ট ছাড়া ইমিগ্রেশন পার হলেন, এটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ সেই পাইলটকে ভিভিআইপি ফ্লাইটের দায়িত্বে থেকে সরিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলেও তিনি জানান।

এই প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘পাইলট যখন ইমিগ্রেশন ক্রস করবেন, তখন তার সঙ্গে সব কাগজপত্র থাকলেও তার পাসপোর্টটি দেখতে চাইবেন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা। পাসপোর্ট চেক ছাড়া কোনও পাইলটকে ছাড়ার সুযোগ নেই। এটা বাধ্যতামূলক। পাসপোর্ট ছাড়া কীভাবে পাইলট কাতার গেলেন, আমরা তা জানতে চেয়েছি। বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশকে ইতোমধ্যে এই বিষয়টি খুঁজে বের করার জন্য নির্দেশও দিয়েছি। তারা দ্রুত বিষয়টি জানাবেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কারণ অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নেব।’ কোথায় ত্রুটি ছিল, সেটা দেখা হবে বলেও তিনি জানান।

আরও পড়ুন:  কাতারে আটকে গেলেন প্রধানমন্ত্রীকে আনতে যাওয়া বিমানের পাইলট

 

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ