জেন্ডার বাজেটে নারীর ‘ভবিষ্যৎ’ কী

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ০৭:৪৬, জুন ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৪১, জুন ১৪, ২০১৯

জেন্ডার বাজেটজেন্ডার বাজেট প্রতিবেদনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের এরইমধ্যে নেওয়া উদ্যোগগুলোর পাশাপাশি নারীর জন্য ভবিষ্যৎ করণীয় প্রশ্নে সুপারিশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য দূর করতে বেশ কিছু কার্যকরী উদ্যোগের কথাও। তবে নারীনেত্রীরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে জেন্ডার বাজেটের যে আয়োজন তা কতটা কার্যকর হয়েছে, সেটি মনিটর করা দরকার।

বাজেট প্রতিবেদনে বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় নারীর জন্য কাজের পরিবেশ সৃষ্টি ও সুযোগ বৃদ্ধিতে ডে কেয়ার প্রতিষ্ঠা জরুরি বিবেচনায় নিয়ে সেটি করণীয় তালিকায় রেখেছে। এছাড়া নারীর সামাজিক-অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, নারীবান্ধব কাজের সুযোগ, নারীকে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় নারী মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করাসহ তাদের ভূমিকা প্রচারের বিষয়টিতে জোর দিয়েছে। এমনকি জেন্ডার সংবেদনশীল নয়—এমন নীতি প্রয়োজনে সংশোধন করা হবে বলেও ঘোষণা রয়েছে।

ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, নারী মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে তাদের তালিকা প্রণয়ন ও ডেটাবেজ তৈরি করার পাশাপাশি সম্মুখ সমরে অংশ নেওয়া নারী মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকা প্রচারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদ্যুৎ খাতে কর্মরত নারীদের সন্তানদের ডে কেয়ার সেন্টারের ব্যবস্থা করা হবে। একই রকম উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, নৌপরিবহন ও রেল মন্ত্রণালয়।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বলছে, ২০১৯ সালের মধ্যে ৭০ শতাংশ অঞ্চলে এলপিজি ব্যবহার নিশ্চিত করে গৃহস্থালি কাজে নারীদের সময় সাশ্রয় ও সেই সময়কে অন্য কোনও আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা হবে। গ্রামাঞ্চলে রান্নার কাজে অপরিকল্পিতভাবে বায়োগ্যাস ব্যবহৃত হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের জ্বালানি সাশ্রয় ও নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাসের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বলছে, জেন্ডার সংবেদনশীল নয়— এমন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম যাতে পরিচালিত না হয় সেজন্য আচরণবিধি বা পেশাগত নীতিমালা বা স্বনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রণয়ন করা হবে। নারীর প্রতি সহিংস হতে প্ররোচিত করে এমন অনুষ্ঠান যাতে না হয় সে বিষয়ে উপযুক্ত আইন প্রণয়ন করা হবে।

নারীর প্রতি অবমাননাকর, নেতিবাচক, সনাতনী প্রতিফলন এবং নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধের লক্ষ্যে প্রচার বৃদ্ধি করা হবে বলে তথ্য মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ করণীয়তে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রচারমাধ্যম নীতিমালায় জেন্ডার প্রেক্ষিত সমন্বিত করা হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভবিষ্যৎ করণীয় অংশে বলা আছে, সাইবার দুনিয়ায় নারীর জন্য অবমাননাকর বিষয়গুলো দূর করা, আদালতে প্রয়োজনীয় তদন্ত প্রতিবেদন পেশের ব্যবস্থা করা এবং ডিজিটাল অপরাধ বিষয়ে মেয়েদের সচেতন করার ব্যবস্থা করা দরকার। একই সঙ্গে আইসিটি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে নারীর জন্য কোটা সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইন ও বিচার বিভাগে জেন্ডার বাজেটে করণীয় সম্পর্কে বলা হয়েছে, বাল্যবিবাহ রেজিস্ট্রেশন বন্ধে ও প্রতিরোধে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিদ্যমান বৈষম্যমূলক আইন বিলোপ করা হবে। নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে আইন সংশোধন ও প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে।

নারী প্রগতির নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জেন্ডার সংবেদনশীলতা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি যখন নেওয়া হয় আমরা স্বাগত জানিয়েছিলাম কিন্তু কতটা সফলভাবে কাজটা হচ্ছে, নাকি কেবলই বলার জন্য বলা হয়, সেটি বিবেচনায় নেওয়ার সময় এসেছে।’

মানবাধিকারকর্মী খুশি কবীর বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে সিডও সনদের বৈষম্যমূলক একটি ধারা রহিত করে রাখা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সব ধরনের বৈষম্যমূলক আইন বিলোপের ঘোষণা আশান্বিত করে। এখন দেখার বিষয় অন্য অনেক বিষয়ে মতো এটি কেবলই বলার জন্য বলা কিনা।

তিনি বলেন, ‘উত্তরাধিকার প্রশ্নে, সন্তানের অভিভাবকত্বসহ নানা ক্ষেত্রে পারিবারিক আইনে বৈষম্য আছে। পারিবারিক জীবনে যেটা নারীর আশ্রয়, সম্পত্তি ও সন্তানের ওপর অধিকার, নিজের জীবনের ওপর তার অধিকার রহিত হয়ে আছে সেখানে কী বৈষম্য দূরের কথা বলছে সরকার।’

এই নারীনেত্রী আরও বলেন, ‘সরকার মূল জায়গায় হাত দিতে রাজি আছে কিনা, যেখানে নারীর বৈষম্য দূরের কথা; নারীর নিরাপত্তা নেই, যেখানে নারী প্রত্যেক জায়গায় প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, সেসব জায়গায় প্রশ্ন তোলা যাবে কিনা। সরকারের সব স্তরে যারা নিয়োজিত তাদের জেন্ডার সংবেদনশীল প্রশিক্ষণ আছে কিনা, সেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা, সেটিও মনিটর করতে হবে।’

/এইচআই/এমওএফ/

লাইভ

টপ