আর্থিক খাতে অনিয়ম নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি মোকাব্বিরের

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:৫৪, জুন ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৫৬, জুন ২০, ২০১৯




মোকাব্বির খানআর্থিক খাতে অনিয়ম ও বিদেশে টাকা পাচার নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন গণফোরামের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান। একই সঙ্গে তিনি ঋণখেলাপিদের বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করার দাবি জানান।
বৃহস্পতিবার (২০ জুন) জাতীয় সংসদে ২০১৯–২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।
মোকাব্বির খান বলেন, ‘ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অর্থ লোপাটের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী নিজেই ইঙ্গিত করেছেন। এ নিয়ে আর কোনও গোপনীয়তা সঙ্গত নয়। ব্যাংক ও টাকা পাচার পরিস্থিতির বিষয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হোক। সংসদীয় গণতন্ত্রে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার স্বার্থে এ ধরনের শ্বেতপত্র সরকারের মর্যাদাকে আরও অনেক ওপরে নিয়ে যাবে।’
সরকারের প্রস্তাবিত বাজেট দিয়ে জাতির জনকের বৈষম্যহীন সমাজ গঠন করা সম্ভব নয় বলে অভিযোগ করে গণফোরামের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান অন্তরায় হলো শীর্ষ দুর্নীতিবাজরা। মাত্র এক ডজন শীর্ষ দুর্নীতিবাজ— যারা ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি— তারা ঋণ লেনদেনের নামে গোটা ব্যাংক লুটপাট করছে। এদের বিচারের বিশেষ ট্র্যাইবুন্যাল গঠন করতে হবে। এদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া গেলে রাষ্ট্র ও সমাজ থেকে অর্ধেক দুর্নীতি সরে যাবে।’
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাজ্য উদ্বেগ প্রকাশের বিষয়টিকে আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান মোকাব্বির। নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘ভোটবিমুখতা শুধু নির্বাচন নয়, গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। নির্বাচন নিয়ে বিশ্বাসযোগ্যতার সংকটের ফয়সালা করতে হবে।’
‘বাজেট থেকে কল্যাণমুখী নীতি হারিয়ে গেছে’
বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘এবারের বাজেট প্রবৃদ্ধিনির্ভর উন্নয়ন মডেলের বাজেট। এ ধরনের বাজেটে ন্যায্যতার প্রশ্ন উপেক্ষিত থাকে।’
তিনি বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ এ ধরনের বাজেট থেকে সরে এসেছে। এ ধরনের বাজেট ধনীদের আধিপত্য বিস্তার ঘটায়। বাজেট থেকে কল্যাণমুখী নীতি হারিয়ে গেছে।’
ধান নিয়ে এবার কৃষকের দুর্দশা প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, তারা ব্যথিত। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে তালিকা করে চাষিদের কাছ থেকে ধান কিনেছে। ২০০টি শুধু ধানের সাইলো করার প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। তখন আরও বেশি ধান কেনা সম্ভব হবে।
ব্যাংক কমিশন গঠনের দাবি
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, বাজেট তুলনামূলক আধুনিক বাজেট। কিন্তু ঘাটতি পূরণে ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে তারল্য সংকট বাড়বে। এখন সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ। তিনি দ্রুত ব্যাংক কমিশন গঠন করার দাবি জানান।
অন্যদের মধ্যে বিরোধী দলের কাজী ফিরোজ রশীদ, সরকারি দলের মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, আব্দুস সোবহান মিয়া, মীর মোস্তাক আহমদ, বেনজির আহমদ, সংরক্ষিত আসনের ওয়াসিকা আয়শা খান, অপরাজিতা হক প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।

/ইএইচএস/এইচআই/

লাইভ

টপ