জাতীয় স্কুল মিল নীতিমালার খসড়া মন্ত্রিসভায় উঠছে আজ

Send
এস এম আববাস
প্রকাশিত : ০৩:০০, আগস্ট ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩১, আগস্ট ১৯, ২০১৯

‘জাতীয় স্কুল মিল পলিসি-২০১৯’-এর খসড়া আজ সোমবার (১৯ আগস্ট) মন্ত্রিসভায় উঠছে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় গেজেট আকারে তা প্রকাশ করবে। নীতিমালার গেজেট প্রকাশের পর দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবারের এই কর্মসূচি একটি প্রকল্পের আওতায় অক্টোবর থেকে চালু হবে। এতে দেশের পিছিয়ে পড়া এলাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সোমবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় স্কুল মিল নীতিমালার খসড়াটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে।’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে স্কুল শিক্ষার্থীদের বিস্কুট দেওয়ার কর্মসূচি শুরু করা হয়। এরপর থেকে দৃশ্যপট পাল্টাতে শুরু করে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বাড়ে, ঝরে পড়া কমে যায় এবং শিক্ষার্থীরা পাঠেও মনোযোগী হয়।

সরকারের পাশাপাশি বিশ্ব খ্যাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) আওতায় ২০১৩ সাল থেকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে মিড-ডে মিল বা দুপুরে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয় বরগুনার বামনা, জামালপুরের ইসলামপুর এবং বান্দরবানের লামা উপজেলায়। শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে পাঁচদিন খিচুড়ি ও একদিন উন্নত পুষ্টিসম্পন্ন বিস্কুট দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালুর পর থেকে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণসাক্ষরতা অভিযান (ক্যাম্পে) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টিমান ঠিক রেখে জাতীয় মিড-ডে মিল পলিসি তৈরির জন্য সরকারকে সুপারিশ করে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জাতীয় ‍স্কুল মিল নীতিমালা প্রণয়নের জন্য ২০১৬ সালে একটি কমিটি গঠন করে। সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় স্কুল মিল নীতি-২০১৯’র খসড়া চূড়ান্ত করে তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের ১০৪টি উপজেলার ১৫ হাজার ৮০টি বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু আছে। এরমধ্যে ৯৩টি উপজেলায় সরকারি অর্থায়নে এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এসব স্কুলে শিশুদের উচ্চপুষ্টির বিস্কুট দেওয়া হয়।’

এর পাশাপাশি দেশের তিনটি উপজেলায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) অধীনে স্কুল মিল কর্মসূচি চালু রয়েছে। এই স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীদের দুপুরে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে বলে জানান বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণসাক্ষরতা অভিযানের (ক্যাম্প) উপপরিচালক কেএম এনামুল হক।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের ১৬ জেলায় আগামী অক্টোবর থেকে চালু হচ্ছে জাতীয় স্কুল মিল কার্যক্রম। আর সারাদেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিল বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে আট হাজার কোটি টাকা। জাতীয় স্কুল মিল পলিসির আওতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি, মানসিক বিকাশ অটুট রাখতে পুষ্টিকর খাদ্য ভূমিকা পালন করে। বিদ্যালয় গমন উপযোগী শিশুদের এই চাহিদা পূরণ ও শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় স্কুল মিল কার্যক্রম বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে অধ্যয়নরত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুকে পর্যায়ক্রমে স্কুল মিল কর্মসূচির আওতায় আনতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় দুর্গম চর, হাওর, উপকূলীয় অঞ্চল, পার্বত্য এলাকা, চা-বাগানসহ সব পিছিয়ে পড়া এলাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। 

স্কুল মিলের জন্য ন্যূনতম পুষ্টি চাহিদা

ন্যূনতম খাদ্য তালিকায় খাবারের বৈচিত্র্য বিবেচনা করে ১০টি খাদ্যগোষ্ঠীর মধ্যে কমপক্ষে চারটি খাদ্যগোষ্ঠী নির্বাচন করতে হবে। যেখানে একটি প্রাণিজ উৎস থেকে নিতে হবে। স্কুল মিল পলিসি অনুযায়ী, ১০টি খাদ্যগোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে—শস্য, কন্দ ও শিকড় এবং উদ্ভিদ জাতীয় বিভিন্ন ধরনের ডাল ও মটরশুঁটি, বিভিন্ন ধরনের বাদাম ও বিচি, বিভিন্ন ধরনের মাংস ও মাছ, দুধ ও দুগ্ধ জাতীয় খাদ্য, ডিম, গাঢ় সবুজ শাক-সবজি, ভিটামিন ‘এ’ সমদ্ধ ফল ও সবজি, অন্য শাক-সবজি ও ফল।

আরও পড়ুন–
বামনায় বদলে গেছে প্রাথমিক শিক্ষার চিত্র

অক্টোবর থেকে ১৬ উপজেলার প্রাথমিক স্কুলে রান্না করা খাবার

/এমএ/এমএমজে/

লাইভ

টপ