‘উন্নয়ন পরিকল্পনায় কন্যা শিশুদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৪:১৯, অক্টোবর ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৩৩, অক্টোবর ১১, ২০১৯

আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভামহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বেগম ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেছেন, ‘সরকার কন্যা শিশুদের উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। সরকারের সকল উন্নয়ন পরিকল্পনায় কন্যা শিশুদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মেয়েরা যাতে নিয়মিত স্কুলে যায়, নিরাপত্তা পায়, নিরাপদ স্যানিটারি ব্যবস্থা পায়, খেলাধুলা করতে পারে সে ব্যবস্থা করছে সরকার। তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। ডে কেয়ার সেন্টার এবং শিশু বিকাশকেন্দ্র বানানো হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের শিশুদের জন্য প্রথম শিশু বাজেট প্রণয়ন করেছেন।’ শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে ‘আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস-২০১৯’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় কন্যা শিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহার ও শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান লাকি ইনাম। সভাপতিত্ব করেন শিশু একাডেমির মহাপরিচালক জ্যোতি লাল কুরী। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের মহাপরিচালক বদরুন নেছা, জাতীয় কন্যা শিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সহসভাপতি শাহীন আক্তার ডলি। এবারের কন্যা শিশু দিবসের প্রতিপাদ্য ‘কন্যা শিশুর অগ্রযাত্রা, দেশের জন্য নতুন মাত্রা’।
সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, কন্যা শিশুর জীবনের শুরু ভালো হলে দেশ ভালো থাকবে, দূর হবে সব বৈষম্য। কন্যা শিশুদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে নেওয়া হয়েছে কঠোর আইন। শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার অনেক কমে গেছে। তিনি জানান, ২০১১ সালে জাতিসংঘ কন্যা শিশু দিবসের ঘোষণা দেয়। ২০১২ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস পালন করা হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ১৯৭৪ সালে প্রথম শিশু আইন প্রণয়ন করেন। এর ১৫ বছর পরে জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের ঘোষণা দেয়। এর পরের বছর বাংলাদেশ সেই সনদে সই করে।

কন্যা শিশুর সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান 
কন্যা শিশুর সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, আজকের কন্যা শিশু আগামী দিনের নারী এবং মা। তাই কন্যা শিশুদের সুরক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
এ বিষয়ে সচিব কামরুন নাহার বলেন, আমাদের কন্যারা এখনও কিছু কিছু জায়গায় পিছিয়ে আছে। তাই এই দিবস পালনের মধ্য দিয়ে আমরা সবাইকে সচেতন করে তুলতে চাই। কন্যা শিশু শুধু কন্যা নয়, সে এক সময় মা হবে। সেই মা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এগিয়ে নেবে। তাই কন্যাদের যত্ন নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের যত্ন নেওয়া হয়। তিনি বলেন, কন্যা শিশুদের নির্যাতন বন্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
লাকি ইনাম বলেন, কন্যা শিশুদের প্রথম বৈষম্য শুরু হয় পরিবার থেকে। তাদের অবহেলা করা হলেও বৃদ্ধ বয়সে সেই কন্যাদেরই মা-বাবার বেশি সেবা করতে দেখা যায়। তিনি বলেন, এখন সবক্ষেত্রেই এগিয়ে আমাদের কন্যারা। এসএসসি ও এইচএসসির রেজাল্ট তার বড় প্রমাণ। খেলাধুলায়ও এখন কন্যারা অনেক ভালো করছে। ক্রিকেট, ফুটবলে তাদের নাম ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, মেয়েরা যতো এগিয়ে যাবে, শিক্ষিত হবে সমাজ ততো এগিয়ে যাবে। তাই কন্যা শিশুদের সুরক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।


/এসএনএস/ওআর/

লাইভ

টপ