বুলবুলের আঘাতে উপকূলীয় ১৪ জেলায় কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ি ও স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০০:২৭, নভেম্বর ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:৪০, নভেম্বর ১১, ২০১৯

855167415ca78963cc06af0a84e7c41f-5dc7c63549354ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাটসহ উপকূলীয় ১৪ জেলায় কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ি, স্কুল, ফসল, গাছপালা, বেড়িবাঁধ, সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্যোগপূর্ণ জেলাগুলোতে ৫ হাজার ৫৮৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২১ লাখ ৬ হাজার ৯১৮ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য দিয়ে ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাতক্ষীরায় কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খুলনায় কিছু গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ জেলায় কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনও খবর পাওয়া যায়নি। বর্তমানে সেখানে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। বাগেরহাটে ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়ন হচ্ছে ৭৮টি। এতে আনুমানিক দুই লাখ ২৬ হাজার লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘরবাড়ি আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে ৩৩ হাজার ৬৩০টি। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৬ হাজার ৫৮০টি ঘরবাড়ি। ফসলের আংশিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ২০০ হেক্টর জমি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভোলার লালমোহন উপজেলায় লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়নে টর্নেডো হয়েছে। ৫-৬টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝালকাঠির ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া যায়নি। তবে ঝড়ে কিছু ধানি জমির ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। বরিশালের কোনও উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। সেখানেও মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানি স্কুলের চালা উড়ে গেছে। এছাড়া সেখানে আর কোনও ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। পটুয়াখালীতে ৮৫টি ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফেনীতে তেমন কোনও ক্ষয়ক্ষতি নেই। সেখানেও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। পিরোজপুরে প্রচুর বৃষ্টি ও প্রচণ্ড বাতাস রয়েছে। তেমন কোনও ক্ষয়ক্ষতি নাই। লক্ষ্মীপুরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। তেমন কোনও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। নোয়াখালীতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। ঝড়ো হাওয়া বা বাতাস নাই। কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলার কোনও উপজেলা থেকেই ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রিত লোকেরা যার যার বাড়িতে ফিরে যাচ্ছে। কক্সবাজারে কোনও ক্ষয়ক্ষতি নেই। সেখানে আজ রোদ দেখা গেছে।

এছাড়া দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ৮ ও ৯ নভেম্বর উপকূলীয় জেলাগুলোতে চার হাজার ৩০০ মেট্রিক টন চাল, ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা নগদ সহায়তা, ১৪ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৯ লাখ টাকার শিশু খাদ্য ও ৯ লাখ টাকার গো-খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) মাধ্যমে ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক উপকূলীয় জেলাগুলোতে দুর্গতদের সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) এর ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবকরা ১৪ টি জেলায় সক্রিয় থেকে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর আগাম সতর্ক বার্তা প্রচার, বিপদাপন্ন মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা, বিশেষ করে প্রতিবন্ধি ব্যক্তি, গর্ভবর্তী মহিলা, বৃদ্ধ, শিশুদেরকে আশ্রয় গ্রহণে সহায়তা প্রদান করে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড়ে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসাও প্রদান করে।

 

/জেইউ/টিএন/

লাইভ

টপ