behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

তনু ধর্ষণ-হত্যার বিচার: আগামী সপ্তাহে হরতাল আসছে, আজ ঘোষণা

সালমান তারেক শাকিল০১:৩৬, এপ্রিল ০৭, ২০১৬

তনু হত্যাকাণ্ডকুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনুকে ধর্ষণ করে হত্যার প্রতিবাদে আগামী সপ্তাহে সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল দিচ্ছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্রঐক্য। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি থেকে হরতালের ঘোষণা আসতে পারে। বুধবার সন্ধ্যায় এ নিয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে বামপন্থী সাংগঠনগুলোর সমন্বিত জোট দু’টি। বৃহস্পতিবার সকালে হরতালের দিনক্ষণ ঠিক করতে ফের বৈঠকে বসবে এ দু’টি জোট। সংগঠনের নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানতে চাইলে বুধবার রাত পৌনে বারোটার দিকে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (জামান অংশ) কেন্দ্রীয় সভাপতি, প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতা ইমরান হাবিব রুম্মন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তনু হত্যাসহ সারাদেশে নারীদের উপর অব্যাহত নির্যাতন এবং নিপীড়নে বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম চলছে।এরই অংশ হিসেবে আমরা হরতাল দিতে পারি কাল। তবে এ নিয়ে চূড়ান্ত হতে পারে বৃহস্পতিবার সকালের বৈঠকের পর।
জানা গেছে, তনু হত্যার বিচারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে গত দুই সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চলছে। এই আন্দোলনের সক্রিয় অংশটির মধ্যে প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্রঐক্য অন্যতম। এরই মধ্যে সংগঠন দু’টি বৃহস্পতিবার স্বরাষ্টমন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করবে। বিশেষ করে তনুর পোস্টমর্টেম রিপোর্টে কোনও অভিযোগের সত্যতা ধরা না পড়ায় কর্মসূচি আরও বাড়াতে চাইছে ছাত্রসংগঠন দু’টি।
এরই মধ্যে ছাত্র ফেডারেশন বুধবার সন্ধ্যায় টিএসসিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের কুশপুতুল পুড়িয়েছে। বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফ্রন্টসহ বামপন্থী সংগঠনগুলো। তবে গত মঙ্গলবার সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে শাহবাগে অবরোধ ও ৩ এপ্রিল সারাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালিত হওয়ার পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা আর নতুন কর্মসূচিতে যায়নি। এরপরেই তনু ইস্যুতে সিরিয়াস হয় ছাত্রজোট ও ছাত্র ঐক্য।

জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে হরতাল নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের শরিক ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র ফ্রন্ট জামান ও হায়দার অংশ, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, ছাত্র ঐক্যফোরামের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্য ছাত্র ফেডারেশন (বদরুদ্দীন উমর অংশ), পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, ছাত্র গণমঞ্চ, ছাত্রযুব আন্দোলন, প্রগতির পরিব্রাজক দল (প্রপদ) এর নেতারাও ছিলেন। বৈঠকে তনু হত্যাসহ সারাদেশে ধর্ষণ-হত্যার প্রতিবাদে হরতালের সিদ্ধান্ত হয়। তবে দিনক্ষণ নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় সিদ্ধান্তে যেতে পারেননি দুই জোটের নেতারা।
 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্র জোট ও ছাত্র ঐক্যের সমন্বয়ক আশরাফুল আলম সোহেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তনুসহ সারাদেশে অব্যাহতভাবে ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও কোনও বিচার হচ্ছে না। উল্টো আমরা দেখতে পাচ্ছি সরকার-আইন সবকিছুই খুনি-ধর্ষক-লুটেরাদের রক্ষার পক্ষে সাফাই গাইছে। এ পরিস্থিতিতে আরও কঠোর আরও সক্রিয় আন্দোলনে যাচ্ছি আমরা। প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলো বরাবরই এসব বিষয়ে রাজপথে সক্রিয় ছিল। আগামীতেও থাকবে। আমাদের দাবি গোটা দেশে নারীদের নিরাপত্তা দিতে হবে সরকারকে।

ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বরত এই নেতা আরও বলেন, আমরা কঠোর কর্মসূচির কথা ভাবছি। হরতাল নাকি অন্যকিছু এখনই বলা যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি থেকে ঘোষণা আসবে আশা করি।

 

এসটিএস/এমএসএম

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ