আ.লীগ ২৬৪৭, বিএনপি ৩৬৭ ইউপি নির্বাচনে আ. লীগের জয়জয়কার

Send
এমরান হোসাইন শেখ
প্রকাশিত : ২১:১১, জুন ০৫, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৪২, জুন ০৫, ২০১৬

ইউপি নির্বাচন ২০১৬প্রথমবারের মতো দলীয়ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তাদের আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলটি প্রায় ৬৭ শতাংশ ইউপি চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছে। এছাড়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ীদের সিংহভাগই এ দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। গত ৫ মাসব্যাপী ছয় ধাপে অনুষ্ঠিত দেশের ৪ হাজার ৮৯টি ইউপির মধ্যে নির্বাচন কমিশনের হাতে ৩ হাজার ৯৬৫টির নির্বাচনি ফল এসেছে। এর মধ্যে এককভাবে আওয়ামী লীগ জয় পেয়েছে ২ হাজার ৬৪৭টি ইউপিতে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি মাত্র ৩৬৭টি ইউপিকে জয় পেয়েছে। যা দাঁড়ায় মাত্র ৯শতাংশে। পক্ষান্তরে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পায় ৮৭৫ ইউপিতে। ২২ শতাংশ বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। বর্তমান বিরোধী দল এইচএম এরশাদ নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি-জাপা ৫৫টি ইউপিতে বিজয়ী হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ২০৭ জন বিনাভোটে জয়ী হয়েছেন। যার মধ্যে আওয়ামী লীগেরই ২০৪জন রয়েছে। বাকি ৩জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। সহিংসতা ও গোলযোগের কারণে ১২৩টি ইউপির ভোট স্থগিত আছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ১৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৯টি দল ইউপিতে জয় দেখেছে। ছয়ধাপের ইউপিতে গড়ে ভোট পড়েছে ৭৬ শতাংশ।
ইসিতে পাঠানো ফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ১৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি-জাপার পাশপাশি জাতীয় পার্টি-জেপি ৫টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ ৮টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩টি, জাকের পার্টি এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ১টি করে ইউপিতে জয়ী হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের হিসাবে, প্রথম ধাপে ৭৪ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে ৭৮ শতাংশ, তৃতীয় ধাপে ৭৬ শতাংশ, চতুর্থ ধাপে ৭৭ শতাংশ, পঞ্চমধাপে ৭৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং ষষ্ঠ ধাপে ৭৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। মোট ছয়ধাপে ভোট পড়ে ৭৬ শতাংশ।

গত ২২ মার্চ প্রথম ধাপে ৭১৪ টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ ধাপের নির্বাচনি ফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিনাভোটে ৪৬টিসহ ৫৩০টি ইউপির চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছে। বিএনপি জিতেছে ৪৭টি ইউপিতে। এ ধাপে ১০৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। এছাড়া জাতীয় পার্টি (এ) ৪টি, জাসদ ৩টি, জেপি ৩টি এবং ওয়ার্কার্স পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি করে ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছে। অনিয়মের কারণে এ ধাপের ২২টি ইউপির ফল স্থগিত রয়েছে। এ ধাপে মোট ৬৫টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়।

গত ৩১ মার্চ দ্বিতীয় ধাপে ৬৩৯টি ইউপিতে ভোট হয়। এ ধাপে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিনাভোটে ৩৪টিসহ ৪৪৭টি ইউপির চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছে। বিএনপি জিতেছে ৬১টি ইউপিতে। এ ধাপে ১১৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। এছাড়া জাতীয় পার্টি (এ) ৪টি ও জাসদ ২টি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছে। অনিয়মের কারণে এ ধাপের ১০টি ইউপির ফল স্থগিত রয়েছে। এ ধাপে মোট ৩৭টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহন স্থগিত হয়।

২৩ এপ্রিল তৃতীয় ধাপে ৬১৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ ধাপের ফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিনাভোটে ২৯টিসহ ৩৯৫টি ইউপির চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছে। বিএনপি জিতেছে ৬০টি ইউপিতে। এ ধাপে ১৩৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। এছাড়া জাতীয় পার্টি (এ) ১৩টি, জাসদ ১টি, জেপি ১টি এবং জমিয়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ১টি করে ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছে। অনিয়মের কারণে এ ধাপের ৫টি ইউপির ফল স্থগিত রয়েছে। এ ধাপে মোট ২৬টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহন স্থগিত হয়।

৭ মে চতুর্থ ধাপে ৭০৪টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ ধাপের ফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিনাভোটে ৩৪টিসহ ৪৩৮টি ইউপির চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছে। বিএনপি জিতেছে ৭০টি ইউপিতে। এ ধাপে একজন বিনাভোটসহ ১৬২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়। এছাড়া জাতীয় পার্টি (এ) ১০টি এবং জাকের পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি করে ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছে। অনিয়মের কারণে এ ধাপের ২১টি ইউপির ফল স্থগিত রয়েছে। এ ধাপে মোট ৫৩টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়।

গত ২৮ মে পঞ্চম ধাপে মোট ভোট হয় ৭১৭টি ইউনিয়ন পরিষদে। এ ধাপে আওয়ামী লীগ বিনাভোটে ৩৯টিসহ ৪৩১টি ইউপির চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছে। বিএনপি জিতেছে ৬৭টি ইউপিতে। এ ধাপে ১৭০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়। এছাড়া জাতীয় পার্টি (এ) ৯টি, জাসদ ১টি, এবং ওয়ার্কার্স পার্টি ১টি করে ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছে। অনিয়মের কারণে এ ধাপের ৩৮টি ইউপির ফল স্থগিত রয়েছে। এ ধাপে মোট ১২৩টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়।

শনিবার ষষ্ঠধাপ ও শেষধাপে ৭০০টি ইউপির ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ২২ জন বিনাভোটসহ আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৪০৬টি, বিএনপি ৬২টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি, জাতীয় পার্টি-জাপা ১৫টি, ২ জন বিনাভোটসহ  স্বতন্ত্র প্রার্থী ১৮৬টি, জাতীয় পার্টি-জেপি জাসদ ১টি, ১টি ইউপিতে জয়ী হতে পেরেছে। এ ধাপে ২৭টি ইউপির ভোট স্থগিত রয়েছে। এছাড়া একটি ইউপির ফল এখন পর্যন্ত কমিশনের হাতে পৌঁছেনি।

আরও পড়তে পারেন: পুলিশের পরিবারকে ‘যথেষ্ট নিরাপত্তা’ দিতে নির্দেশ

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ