অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি সন্তানদের স্বার্থে মাঠে নামি, আন্দোলন করি

Send
রশিদ আল রুহানী
প্রকাশিত : ০৫:০৭, জুন ১৭, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ০৫:২৬, জুন ১৭, ২০১৬

ঢাকার স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের  সংগঠন ‘অভিভাবক ঐক্য ফোরাম।’ এই ফোরামের সদস্যরা গত ১৫ দিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে চলতি বছর থেকেই পিইসি পরীক্ষা বাতিলের দাবি নিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করছেন। এ আন্দোলনের আদ্যোপান্ত নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলেছেন ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু। তিনি বলেন, ‘সন্তানদের স্বার্থে মাঠে নামি, অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাই, আন্দোলন করি।’

অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির  দুলু

বাংলা ট্রিবিউন: কয়েকবছর আগে থেকেই বিভিন্ন ইস্যুতে আপনাদেরকে মাঠে নামতে দেখা গেছে।

জিয়াউল কবির দুলু: আমরা সবাই স্কুল-কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবক। এক সময় ছিল আমরা আমাদের সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারতাম। কিন্তু এখন তো আর সেই পরিস্থিতি নেই। এখন তাদেরকে স্কুলে দিয়েও ভয়ে ভয়ে থাকতে হয়। এই বুঝি কখন কোনও শিক্ষক  মেয়েদের ওপর যৌন আক্রমণ করে বসেন,এই বুঝি শারীরিক নির্যাতন করেন!তাই আমরা অভিভাবকেরা একত্রিত হয়েছি, অর্থাৎ অভিভাবক ঐক্য ফোরাম নামে একটি সংগঠন করেছি। যাতে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কোনও অনিয়মকে রুখে দিতে পারি। আমরা এখন পর্যন্ত অনেকাংশে সফলও হয়েছি।

বাংলা ট্রিবিউন: কিভাবে কোন কোন দাবিতে আপনারা সফল হয়েছেন? 

জিয়াউল কবির দুলু: আমরা প্রথমে একত্রিত হয়েছিলাম শিক্ষক পরিমলের বিরুদ্ধে। তখন সফল হয়েছিলাম। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই রকম অভিযোগের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে বিচার চেয়েছিলাম। আমরা সেখানেও সফল হয়েছি। গত বছর হুট করে স্কুলের বেতন বৃদ্ধি করা হলো। আমরা এই বেতন বৃদ্ধির বিপক্ষে আন্দোলন করলাম। সেখানেও অনেক বড় সফলতা পেয়েছি। আবার স্কুল পরিচালনা কমিটির দুর্নীতির বিপক্ষে আন্দোলন করেছি। কয়েকদিন আগেই তো হাইকোর্ট একটি আদেশ জারি করলেন, সংসদ সদস্যরা গভর্নিং বডিতে সভাপতি হিসেবে আর থাকতে পারবেন না। এটাও আমাদের আন্দোলনের সফলতা। আমাদের দাবিগুলো যৌক্তিক, তাই সফলতার মুখ দেখতে পাই। 

বাংলা ট্রিবিউন: কিছুদিন ধরে আবারও মাঠে নেমেছেন। কেন?

জিয়াউল কবির দুলু: জাতীয় শিক্ষানীতি২০১০ -এ পিইসি পরীক্ষা নেওয়ার কোনও কথা বলা নেই। অথচ সরকার ২০০৯ সালে হুট করে এই পিইসি ও জেএসসি নামে দুটি পরীক্ষা চালু করলো। আমরা এই পরীক্ষা দুটি বাতিলের দাবিতে মাঠে নেমেছিলাম অনেক আগে থেকেই। সম্প্রতি ওই শিক্ষানীতির আলোকে প্রাথমিকের স্তর অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নিত করা হলো। সুতরাং পিইসি পরীক্ষা অষ্টম শ্রেণিতে হবে। আমরা এটাকে সাধুবাদ জানিয়েছি। কিন্তু ৫ম শ্রেণির জন্য পিইসি পরীক্ষা এবছরও চলবে। পরীক্ষাটি বাতিলই যখন হলো তাহলে কেন এবছর থেকেই বাতিল করা হচ্ছেনা। আমাদের দাবি চলতি বছর থেকেই পরীক্ষাটি বাতিল করতে হবে।

বাংলা ট্রিবিউন: চলতি বছর থেকে বাতিল না হলে কী ধরণের সমস্যা হতে পারে বলে মনে করছেন? 

জিয়াউল কবির দুলু: যদি চলতি বছরও ৫ম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষাটি চালু থাকে তাহলে এবা যারা পরীক্ষঅয় অংশ গ্রহণ করবে আগামী ২০১৯ সালে গিয়ে আবারও অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় তাদের বসতে হবে। একটি অপ্রয়োজনীয় সনদের জন্য দুটি পরীক্ষা দিতে হবে কেন? এত পরীক্ষার চাপে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের খেলার সময় নেই, গল্পের বই পড়ার সময় নেই। নিজের মতো করে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে পারেনা। ঘুম থেকে উঠেই বইয়ের বোঝা কাঁধে নিয়ে কোচিং সেন্টারে দৌড়াদৌড়ি করতে হয়। সঙ্গে অভিভাবকদেরও খাওয়া বা ঘুম থাকেনা। 

বাংলা ট্রিবিউন:  চলতি বছর থেকে যদি সমাপনী পরীক্ষা বাতিল করার ঘোষণা না দেওয়া হয়, তাহলে আপনাদের  করণীয় কি?

জিয়াউল কবির দুলু:  চলতি বছরেই পরীক্ষাটি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকবো। ঈদের পরে বড় কোনও কর্মসূচি দেবো। এক সঙ্গে সারা দেশের স্কুলে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের মাধ্যমে মাঠে থাকবো আমরা। আমাদের শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে দেবো না।
বাংলা ট্রিবিউন: কোচিং বাণিজ্য আইন করে বাতিলের দাবিও আছে আপনাদের।

জিয়াউল কবির দুলু: হ্যাঁ, কোচিং বাণিজ্যই তো সব শেষ করে দিচ্ছে। স্কুলের শিক্ষকরা ক্লাসে ঠিক মতো না পড়িয়ে তারা কোচিং সেন্টার খুলে বসেন। শিক্ষার্থীদেরকে তারা কোচিংয়ে পড়তে বলেন। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরাও মনে করে শিক্ষকের কাছে পড়লে ভালো নম্বর পাওয়া যাবে। বাধ্য হয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা গুনগত শিক্ষা গ্রহণের জন্য নয় বরং সার্টিফিকেটের পেছনে দৌড়ান। সুযোগ বুঝে শিক্ষকরাও বাড়তি টাকা আয় করেন। আর অভিভাবকদের সেই বাড়তি টাকার যোগান দিতে হয়। তারা যদি ক্লাসে ঠিক মতো পড়ান তাহলে তো কোচিং লাগেনা। তাই অনেক আগে থেকেই আমাদের দাবি ছিল, আইন করে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করা হোক। আইন একটা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাতে কোচিং বাণিজ্য চালু রাখার ফাঁকফোকর রাখা হয়েছে। 

বাংলা ট্রিবিউন:  আইনে কী ধরনের ফাঁকফোকর ?

জিয়াউল কবির দুলু:  কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করার আইনটিতে বলা হলো, নিজের স্কুলের শিক্ষার্থীদের পড়ানো যাবেনা। কিন্তু অন্য স্কুলের শিক্ষার্থীদের পড়ানো যাবে। আইন যদি এমন হয় তাহলে কি কোচিং বাণিজ্য বন্ধ হবে? আমরা চাই আরও কঠিন আইন করে কোচিং বাণিজ্য, নোট বই, গাইড বই নিষিদ্ধ করা হোক। 

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার বিরুদ্ধে নানান রকমের অভিযোগ রয়েছে।এসব অভিযোগের বিষয়ে কী বলবেন?

জিয়াউল কবির দুলু:  আমি একজন অভিভাবক। আমাদের এবং সন্তানদের স্বার্থ যেখানে জড়িত সেখানে আমি আন্দোলন করি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াই। এইসব কারণে কারও কারও ব্যক্তিস্বার্থে আঘাত লাগতে পারে। ফলে আমার বিরুদ্ধে অনেকের অনেক রকমের অভিযোগ রয়েছে। আমি সন্তানদের অধিকারের কথা বলতে গিয়ে মামলা খেয়েছি, মামলা দিয়েছি। কিন্তু আমি আমার  কাজ করে যাবো।

/আরএআর/এপিএইচ/

আরও পড়ুন: 

অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা: সাহসী পদক্ষেপ, চ্যালেঞ্জও বেশি

একাদশে আসন খালি আট লাখ!

‘ভিনগ্রহে থাকি না, সুবিধা-অসুবিধা আমিও বুঝি’

 

লাইভ

টপ