মিতু হত্যার ঘটনায় তার স্বামী সহকর্মী এসপি বাবুল আক্তারকে ঘিরে সোস্যাল মিডিয়া ও মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদ পড়ে নির্বাক হয়ে গেছেন বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন পুলিশের কাউন্টার টেররিজমের প্রধান মনিরুল ইসলাম।
সোমবার দিনগত রাতে দুবাই বিমানবন্দরে বসে নিজের ফেসবুক পেজে তিনি এক স্ট্যাটাসে এ কথা জানান।
তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘দীর্ঘক্ষণ দুবাই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে বসে আছি, ট্রানজিট। দেশের বাইরে গেলে অফিসের সাথে যোগাযোগ না রাখা কিংবা ইন্টারনেটে দেশের খবর না পড়া আমার পুরনো (বদ) অভ্যাস! গত ২১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ছিলাম। দেশের খবর খুব একটা রাখা হয়নি। এয়ারপোর্টে অলস সময় তাই মন দিয়ে আমাদের সহকর্মী বাবুল আক্তারকে ঘিরে মিডিয়া এবং সোস্যাল মিডিয়ার লেখা পড়লাম। পড়ে যা বুঝলাম তাতে নির্বাক হয়ে গেলাম!’
গত ১৭ ঘণ্টায় তার স্ট্যাটাসটি ৯৮ জন ফেসবুক ব্যবহারকারী শেয়ার করেছেন ও ৩৬৭ জন মন্তব্য করেছেন। মন্তব্যদাতারা তার কাছেই সত্য জানতে চেয়েছেন। যদিও বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি দেশে ছিলেন না।
তার স্ট্যাটাস থেকে কিছু মন্তব্য ও প্রশ্ন পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-
সাইফুল ইসলাম
‘পুলিশ আর সাংবাদিক কেউ ম্যাচিউরড আচরণ করছে না, মিতু হত্যার দিন পুলিশের পক্ষ থেকে মিডিয়াতে বলা হলো- এর সঙ্গে জঙ্গিরা জড়িত থাকতে পারে, তদন্তের আগে মুখস্থ কথা বলে দিলে প্রকৃত অপরাধীরা অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়। আর কয়েকজন সাংবাদিক কনফার্ম না হয়ে বাবুল আক্তার ও তার স্ত্রীর চরিত্র হনন যেভাবে করলেন তা সাংবাদিকতার কোনও এথিকসের মধ্যে পড়ে না। দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যদি দায়িত্বহীন কথা ছড়িয়ে বেড়ায় তাহলে নির্বাক ও হতাশ হওয়া ছাড়া কোনও উপায় থাকে না।’
মাহমুদুল হাসান মাসুম
আপনাদের পুলিশ অফিসারদের স্বার্থে মিতু হত্যার সঠিক আসামিদের চিহ্নিত করুন। এখানে মানবদেহের কোনও অস্তিত্ব নেই কিংবা এটা ‘জামায়াত শিবিরের কাজ’ এ ধরনের তথ্যবিভ্রাটমূলক বক্তব্যকে প্রাধান্য না দিয়ে, খুনিদের চিহ্নিত করতে আপনার সহযোগিতা চাই।
মনির খান
‘এমন লেখা হয়তো আপনাকেও নিয়ে লিখবে ওরা। এমন শিরোনাম হয়তো আপনিও হবেন/হতে পারেন। আপনার মতোই আপনার কোনও এক সহকর্মী এমন নির্বাকময় স্ট্যাটাস প্রসব করবে। কারণ যে বাংলাদেশ আপনারা রেখে যাচ্ছেন এই প্রজন্মের জন্যে, ওই বাংলাদেশ বসবাসের অযোগ্য বলে দাবি ওঠা সময়ের ব্যাপার মাত্র।’
হাসিব তালুকদার নয়ন
আমি বাবুল স্যারের স্ত্রী হত্যার খবর শুনে প্রচণ্ড কষ্ট পেয়েছি, সেই কষ্টের আগুনে ঘি ঢালল মিডিয়া। গত পরশু দিন সন্ধ্যায় বাসার দিকে যাচ্ছি, রাস্তার পাশে কয়েকজন বলাবলি করছে, জানিস ওই এসপির বউকে এসপি নিজেই মারছে। একবার ভাবলাম তাদেরকে কয়েকটা প্রশ্ন করি। ১. একজন পুলিশ অফিসার তার স্ত্রীকে মারার জন্য ভাড়াটিয়া খুনি ভাড়া করার দরকার আছে কি? তাও আবার বাবুল আক্তারের মতো একজন ট্যালেন্ট অফিসার!!!!! ২. বাবুল আক্তার স্যার তার স্ত্রী হত্যার পর খুব কষ্ট নিয়ে বলেছিলেন ‘It was better than shoot me’ আমি মারা গেলে ওদের মা হয়তো আমার অভাব পূরণ করে তাদের মানুষ করতে পারতো, কিন্তু আমি কিভাবে এই মা ছাড়া বাচ্চাদের মায়ের অভাব পূরণ করব। জানি বাবুল স্যার আইনের প্রতি তার আগাধ শ্রদ্ধা তাই কিছু বলছেন না, না হলে ওইসব মিডিয়াকে বাপ-মা ছাড়া করে ফেলত।
ইমরুল কায়েস
এখন নিশ্চয় বাবুল আক্তারকে আত্মহত্যা, গুপ্তহত্যা অথবা গুম হওয়ার নাটকের অপেক্ষা? জাতি আসলেই অনেক বোকা।
পারভেজ নাদির রেজা
ভাই, দেশে এসে আপনার ভাই ব্রাদারদের একটু বলেন, থুথু তারা কার দিকে নিক্ষেপ করতে উঠে পড়ে লেগেছেন। দিন শেষে কিন্তু তা তাদের দিকেই যাচ্ছে। পুরো ঘটনায় আমার মনে হয়েছে, অতি বুদ্ধিমান অথবা অতিচালাক অথবা অতি ধুরন্ধর কর্মকর্তারা তদন্তে মূল ঘটনা জানতে চেষ্টা না করে, জানাতে বেশি সচেষ্ট ছিলেন এবং এখন পর্যন্ত তারা ইনিয়ে-বিনিয়ে এটাই বলার চেষ্টা করছেন, বাবুল আক্তারই নাটের গুরু।
স্ত্রী হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গত শুক্রবার রাতে আকস্মিকভাবে ঢাকায় শ্বশুরের বাসা থেকে বাবুলকে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হলে তা নিয়ে নানা আলোচনা ডালপালা গজায়। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাবুল আক্তারের জড়িত থাকার খবর দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, বাবুল আক্তার চট্টগ্রামে জঙ্গি দমনে প্রশংসনীয় পদক্ষেপ রাখায় তাকে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটে যোগদানের জন্য পুলিশ সদর দফতরে আনা হয়েছিল। এর মধ্যেই এই ঘটনা ঘটায় বিষয়টি থমকে আছে। বর্তমানে তিনি পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত রয়েছেন।
গত ৫ জুন সকালে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় চট্টগ্রামের জিইসি এলাকায় গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন মাহমুদা খানম মিতু। এই হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া দুই আসামি গত রবিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেফতার হয়েছে আরও দুজন। তাদের মঙ্গলবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর চট্টগ্রামের পুলিশ বলে আসছিল, গত দুই বছরে চট্টগ্রামে জঙ্গি দমন অভিযানে বাবুলের ভূমিকার কারণে জঙ্গিদেরই সন্দেহের তালিকায় প্রথমে রেখেছেন তারা; সেভাবেই মিতু হত্যার তদন্ত করছেন তারা। তবে দ্রুত ঘটনা পাল্টে যায় ঢাকায় ডিবি কার্যালয়ে বাবুল আক্তারকে ১৬ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করায়।
মঙ্গলবার সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাবুল আক্তার পুলিশের নজরদারিতে নেই। তিনি নজরদারিতে আছেন, সে কথা আমরা কখনও বলিনি। বাবুল আক্তারকে দায়ি করা কিংবা বাবুল আক্তার জড়িত কি না, সে প্রসঙ্গ এখনও আসেনি।’
- বাবুল আক্তার জড়িত কিনা সে প্রসঙ্গ এখনও আসেনি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- মিতু হত্যাকাণ্ড: ভোলা ‘খুনিদের’ অস্ত্র দেয়, সরবরাহ করে মনির
- দুই ‘খুনির’ জবানবন্দি নিয়ে পুলিশের রহস্যময় রাখঢাক
এজে/








