ব্লগার থেকে গুলশান হত্যাকাণ্ড হত্যাকারীদের প্রশিক্ষণ একই পদ্ধতিতে, হত্যার ধরন একই

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ১৯:৫৫, জুলাই ১৬, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:০৮, জুলাই ১৭, ২০১৬

ব্লগার ও গুলশান হত্যাকাণ্ড২০১৩ সালে ব্লগার রাজীব হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে জঙ্গিগোষ্ঠী যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সেসব হত্যাকাণ্ডের জঙ্গিদের  প্রশিক্ষণের ধরন একই ধরনের এবং হত্যার ধরনও একই। তাদের সবার কোপ দেওয়ার ধরন বিশ্লেষণ করে ফরেনসিক বিভাগের সহযোগ অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ এ কথা বলেন। তিনি মনে করেন,  না হলে একই ধরনের কোপ কম-বেশি একই জায়গায় হওয়ার কথা নয়।
এদিকে, বাংলাদেশের জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে বিদেশের কোনও না কোনও রকমের যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, জেএমবির নেতার ফাঁসির পর কর্মীরা প্রথম দফায় পালিয়ে  যেতে সক্ষম হয়েছিল। সেই সংগঠন আইএসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছে। কারণ, তাদের হাতে সংঘটিত হামলার দায় স্বীকারের বিষয় আইএস প্রচার করছে। ফলে এক ধরনের যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে।
জঙ্গিদের হামলায় নিহত প্রত্যেকের লাশের ময়নাতদন্ত করেন চিকিৎসক সোহেল মাহমুদ। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যারা এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটাচ্ছে তাদের প্রত্যেকটি  মগজধোলাই করা হয় যে, তাদের যে যুক্তিই দেন না কেন হত্যা বন্ধ করবে না। গুলশানে যে জঙ্গিরা ছিল তারা আর্টিজানের দেয়ালে লিখে গেছে 'উই আর গোয়িং টু জান্নাত।' আরেক জায়গায় লেখা ছিল 'পুলিশ স্যাড নিউজ ওয়েটিং ফর ইউ'। কী ধরনের মগজধোলাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেলে এধরনের কাজ করা যায় এবং একটার পর একটা ঘটনা একইভাবে ঘটানো যায় তা অনুমান করে নিয়ে করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। তিনি তার কাজের অভিজ্ঞতা ও বিশ্লেষণ থেকে বলেন, কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয়, তাদের বোঝানো হয়েছে ব্লগার বা বিদেশিরা ইসলামের শত্রু। ব্লগার হত্যা থেকে শুরু করে সম্প্রতি গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা একই গ্রুপের কাজ। প্রতিটি লাশের ময়নাতদন্ত করেছি আমি। ব্লগার হত্যা থেকে গুলশান হামলা প্রত্যেকটি আঘাতই একই ধরনের।  

সোহেল মাহমুদ আরও বলেন, ব্লগার অভিজিৎ রায় বলুন আর পীর লুৎফর রহমান বলুন—তাদের লাশে আঘাতের চিহ্নগুলো দক্ষ হাতের। কোথায় আঘাত করলে মারা যাবে, সে ধরনের প্রশিক্ষণ নিয়েই তারা কুপিয়েছে। খুনিরা জানে এ ধরনের আঘাতের পর কারও বেঁচে যাওয়া সম্ভব নয়। একই স্থানে উপর্যুপরি কয়েকটি আঘাত ছিল। এমনকী মৃত্যু নিশ্চিত করতে কবজি কেটে ফেলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, একইভাবে জুলহাজ-তনয়ের লাশেও দেখা গেছে উপর্যুপরি আঘাতের  কারণে মাথার খুলি কেটে মগজ পর্যন্ত পৌঁছেছে। তনয়ের স্পাইনাল কর্ড ছিঁড়ে গেছে।

প্রশিক্ষণ একই কিনা—প্রশ্নের জবাবে মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশীদ বলেন, মিলিয়ে দেখলে সেই পথই খোলা থাকে। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ ছড়াতে যারা চেয়েছে, তারা আকাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছাতে না পেরে তাদের রূপ আর কৌশল বদলেছে এবং একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ স্থাপন করতে পেরেছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক নূর খান বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের সময় এসব সম্ভাবনার কথাই বলা হয়েছিল বিশ্লেষকদের পক্ষ থেকে, কিন্তু দায়িত্বশীলেরা কেউ কানে নেননি। এই যে কানে নেননি তার খেসারত দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, জেএমবির নেতার ফাঁসির পর কর্মীরা প্রথম দফায় পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল। সেই সংগঠন পরবর্তী সময়ে আইএসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছে। এটা বলছি এ কারণে যে জেএমবির হাতে সংঘটিত হামলার দায় স্বীকারের খবর আইএস প্রচার করছে। যার অর্থ তাদের এক ধরনের যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ১ জুলাই রাতে গুলশানের রেস্তোরাঁ হলি আর্টিসান বেকারিতে হামলা চালায় অস্ত্রধারীরা। এতে দেশি-বিদেশি ২০ জিম্মিকে হত্যা করা হয়, হামলায় দু’জন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন, সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে সমন্বিত অভিযানে সেখান থেকে ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধারও করা হয়।

আরও পড়তে পারেন:  ঝিনাইদহের মেসে নিভৃতে সময় কাটাতেন নিবরাস ও আবির

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ