তিন বছরে দুই বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে আইএফসি

Send
শেখ শাহরিয়ার জামান
প্রকাশিত : ১১:৩৬, নভেম্বর ২০, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫১, নভেম্বর ২০, ২০১৬

আইএফসি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ওয়েন্ডি ওয়ার্নার

বিশ্বব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) আগামী তিন বছরে বেসরকারি খাতে দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করবে। আইএফসির বাংলাদেশ অফিসে বুধবার দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানিয়েছেন সংস্থাটির নতুন কান্ট্রি প্রধান ওয়েন্ডি ওয়ার্নার।

বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি জানান, ‘আমাদের লক্ষ্য আগামী তিন বছরে বাংলাদেশে দুই থেকে আড়াই বিলিয়ন ডলারের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন করা।’

ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন বেসরকারি খাতের উন্নয়নের জন্য কাজ করে থাকে। গত অর্থ বছরে বাংলাদেশে আইএফসি’রবিনিয়োগ ছিল ৬৩৫ মিলিয়ন ডলার।চলতি বছরে এই বিনিয়োগ তিন গুণ বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা করছে সংস্থাটি।

ওয়েন্ডি ওয়ার্নার

কোন কোন খাতে এই অর্থ বিনিয়োগ করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ অর্থ উৎপাদনশীল খাত, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, লজিস্টিক ও আর্থিক খাতে ব্যবহার করা হবে।’

ওয়ার্নার বলেন, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক শিল্পে একটি পাওয়ার হাউজে পরিণত হয়েছে এবং এখন প্রয়োজন এটির ব্যাপ্তি ও এর মূল্য সংযোজন করার গভীরতা বাড়ানো।

তৈরি পোশাক শিল্প বন্ডেড ওয়ারহাউজ ও অন্যান্য সুবিধা পায় এবং এটি খুব ভালো কাজ করছে জানিয়ে এই উদাহারণকে অন্যান্য খাতে কীভাবে প্রয়োগ করা যায় সেটি নিয়ে চিন্তা করা দরকার বলেও তিনি মনে করেন।

কোন কোন খাতে তৈরি পোশাক শিল্পের উদাহরণ প্রয়োগ করা সম্ভব জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাত হচ্ছে জুতা ও চামড়া শিল্প। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের হালকা শিল্পেরও অপার সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিক বিনিয়োগ ও প্রণোদনা পেলে এসব শিল্পও দ্রুতই বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের মর্যাদা ও সুনাম বাড়াবে। প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন সম্ভব হবে।

বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আইএফসি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর ওয়েন্ডি ওয়ার্নার

বাংলাদেশে ব্যবসার উন্নয়নে নীতিগত অগ্রাধিকার কি কি হওয়া উচিৎ বলে মনে করেন?

এর উত্তরে ওয়েন্ডি ওয়ার্নার বলেন, নীতির ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়ন, উন্নত অবকাঠামো, নাগরিক সেবা এবং ভালো জমির প্রাপ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

বেসরকারি খাতে কী কী বিষয়কে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন?

এ প্রশ্নের উত্তরে ওয়েন্ডি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলাদেশে ব্যবসা করার খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের আরও ভাবা উচিত। আর সরকার ও ব্যবসায়ীদের উচিত দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো। তবে এ দেশে এখনও ব্যবসায়ের পরিবেশও উদ্বেগজনক।

এ প্রসঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত ডুয়িং বিজনেস রিপোর্টের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যবসায়িক পরিবেশ বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতির উন্নয়ন করতে হবে।

ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট অনুযায়ী ১৯০ টি দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক পরিবেশ মাপকাঠিতে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৬।

জমির প্রাপ্যতাকেও একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে জানান তিনি। তবে বিভিন্ন দেশের বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইপিজেড) গঠন করা খুবই ভালো উদ্যোগ বলে জানান তিনি। এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া উচিত জানিয়ে ওয়ার্নার বলেন, এর ফলে বড় উদ্যোক্তা, বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পউদ্যোক্তারা জমি পাবে।

বাংলাদেশে প্রচুর সম্ভাবনাময় হালকা ও মাঝারি শিল্প রয়েছে। কিন্তু যথেষ্ট অর্থায়নের অভাবে এসব শিল্প এগুতে পারছে না। আবার আর্থিক খাতও নানা কারণে সুশৃঙ্খল নয়। এবিষয়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ওয়েন্ডি। তিনি অর্থায়নকে গোটা আর্থিক খাতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ অভিহিত করে বলেন, আর্থিক খাতে অর্থায়ন বাড়াতে হবে এবং নতুন নতুন আার্থিক পণ্য উদ্ভাবন করতে হবে।

/এসএসজেড/টিএন/

লাইভ

টপ