দুই তরুণী ধর্ষণ মামলার আসামি সাফাত ও সাদমান গ্রেফতার

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১১ মে ২০১৭, ২১:২১আপডেট : ১১ মে ২০১৭, ২৩:৫০

গ্রেফতারের পর সাদমান (বাঁয়ে) ও সাফাত বনানীতে দুই তরুণীকে ধর্ষণের মামলার দুই আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১১ মে) রাত ৯টার সময় সিলেট থেকে তাদের দু’জনকে গ্রেফতার করা হয় বলে বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) শহীদুল হক।

আইজিপি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সিলেটের জালালাবাদ এলাকার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) পাশের একটি দোতলা বাড়ি থেকে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার সময় তাদের গ্রেফতার করা হয়। ঢাকা থেকে পুলিশ সদর দফতরের বিশেষ একটি টিম সিলেটের স্থানীয় পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে গ্রেফতার অভিযান চালায়।

সিলেট জেলার পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, জেলা পুলিশ ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে সাফাত ও সাদমানকে গ্রেফতার করে।

সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার গোলাম কিবরিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিলেট শহরের একটি বাড়ি থেকে বনানীতে তরুণী ধর্ষণ মামলার প্রধান দুই আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাতেই তাদের ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’

দুই তরুণী ধর্ষণ মামলার গ্রেফতার দুই আসামি সাফাত আহমেদ (বাঁয়ে) ও সাদমান সাকিফ সিলেট মহানগর পুলিশ উপ কমিশনার জেদান আল মুসা (গণমাধ্যম) জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সিলেট নগরের পাঠানটুলার রশিদ মঞ্জিল থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করে।

এদিকে দুই আসামির গ্রেফতারের খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন দুই তরুণী। বাংলা ট্রিবিউনকে তারা বলেন, ‘ওরা গ্রেফতার হয়েছে, আমরা খুশি হয়েছি। তবে নাঈম (নাঈম আশরাফ) হচ্ছে মূল পিশাচ। তাকে গ্রেফতার করতে পারলে ভালো হতো। তবে সাকিফকে ঠিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই পুরো ঘটনা বেরিয়ে আসবে।’

দুই তরুণীর একজন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে যা করা হয়েছে, সে (সাদমান) সব দেখেছে, ও সব জানে। আমাদের বিপদে রেখে সে বের হয়ে যায়। ইচ্ছে করলেই পুলিশে খবর দিতে পারত, আমাদের বাঁচাতে পারত। কিন্তু সে তা করেনি।’ তারা বলেন, ‘আমরা বিচার চাই।’

প্রসঙ্গত, ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে গত ৬ মে বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন দুই তরুণী। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৮ মার্চ পূর্বপরিচিত সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওই দুই তরুণীকে জন্মদিনের দাওয়াত দেয়। এরপর তাদের বনানীর ‘কে’ ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের ৪৯ নম্বরে রেইনট্রি নামের হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে দুই তরুণীকে হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রেখে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ধর্ষণ করে সাফাত ও নাঈম। এ ঘটনা সাফাতের গাড়িচালক বিল্লালকে দিয়ে ভিডিও করানো হয় বলেও উল্লেখ করা হয় এজাহারে। ধর্ষণ মামলার আসামিরা হলো- সাফাত আহমদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ।

/ইউআই/জেইউ/এআরআর/টিআর/জেএইচ/এপিএইচ/

আরও পড়ুন: 
তরুণীর পরিধেয় পোশাক রাসায়নিক পরীক্ষার অনুমতি

দুই তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ সঠিক বলে নিশ্চিত হয়েছেন তদন্তকারীরা

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
জনআস্থা ও জবাবদিহিমূলক সংসদ গঠনে সাংবিধানিক জ্ঞান জরুরি: ডেপুটি স্পিকার
জনআস্থা ও জবাবদিহিমূলক সংসদ গঠনে সাংবিধানিক জ্ঞান জরুরি: ডেপুটি স্পিকার
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী