‘হ‌ুমায়ূন আহমেদের ক্ষমতা ছিল সবাইকে এক জায়গায় নিয়ে আসার’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৫:১৩, নভেম্বর ১৭, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:২৯, নভেম্বর ১৭, ২০১৭

হ‌ুমায়ূন আহমদেকে নিয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনায় সঞ্চালনা করেন চিত্রনায়ক রিয়াজবাংলা সাহিত্যে হ‌ুমায়ূন আহমেদ ছিল অন্যতম কথক। তিনি সাহিত্যে যেমন ছিলেন পটু, ঠিক তেমনি পারদর্শী ছিলেন চলচ্চিত্রে সাধারণ গল্পকে ভিন্ন মাত্রা দেওয়ার ক্ষেত্রেও। শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) ঢাকা লিট ফেস্টের দ্বিতীয় দিনে বাংলা একডেমির লনে অনুষ্ঠিত হ‌ুমায়ূন চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনায় এসব কথা বলেন বক্তারা।
চিত্রনায়ক রিয়াজের সঞ্চলনায় হ‌ুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চলচ্চিত্র পরিচালক মতিন রহমান ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সিনেম্যাটোগ্রাফার মাহফুজুর রহমান খান আলোচনায় অংশ নেন।
আলোচনার শুরুতেই হ‌ুমায়ূন আহমেদ সম্পর্কে কিছু কথা বলেন রিয়াজ। তিনি বলেন, ‘‘আমি তার পোষা শিল্পী ছিলাম, তার কাজ নিয়ে কথা বলা খুব কঠিন একটি কাজ। আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। তার একটা ক্ষমতা ছিল, তিনি গল্পকে চমৎকার সুতায় গাঁথতেন। ‘শ্রাবণ মেঘের দিনে’ চলচ্চিত্রে একটি মেয়ের জীবনের গল্পকে অসাধারণভাবে বলে গেছেন। তার লেখায় বৃষ্টি, চাঁদ, জোছনার উপস্থিতিই বলে দেয়, এগুলোর সঙ্গে তার প্রেমের কথা।’’
রিয়াজ আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে হয়তো কেউ হ‌ুমায়ূন আহমেদকে পাঠ করবেন, তাকে নিয়ে গবেষণা করবেন, একেকজন একেকভাবে তাকে ব্যাখ্যা করবেন। তার অপেক্ষায় থাকলাম।’
হ‌ুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কাজ করার স্মৃতিচারণ করে মাহফুজুর রহমান খান বলেন, ‘আমি সব কাজ ছেড়ে তার কাজ করতে চাইতাম, এতে তিনি খুব অবাক হতেন। তার সঙ্গে লোকেশন দেখতে বিভিন্ন জেলায় গিয়েছি। বহু জায়গা ঘুরেছি। তিনি সবসময় চরিত্রকে বিশ্লেষণ করার জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজতেন।’
হ‌ুমায়ূন আহমেদের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘উনি যখন স্ক্রিপ্ট লিখতেন তখন প্রতিটির পাশে শট উল্লেখ করা থাকত। এটা একটা বড় গুণ। তার পাঁচটি চলচ্চিত্রে কাজ করেছি, চারটিতেই পুরস্কার পেয়েছি।’
হ‌ুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে লিট ফেস্টের বিশেষ সেশনহ‌ুমায়ূন আহমেদের প্রশংসায় মেহের আফরোজ শাওন বলেন, ‘তার সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। তার আটটি চলচ্চিত্রের পাঁচটিতে আমি প্রধান চরিত্রে কাজ করেছি। তার গল্পগুলো এমন ছিল যে তার পাঠকরা চরিত্রগুলোর মধ্যে নিজেদের তুলে ধরতেন। আমি প্রথমে ছিলাম হ‌ুমায়ূন পাঠক, পরে হয়েছি হ‌ুমায়ূন চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী।’
তার চলচ্চিত্রের গল্প বলার ধারাবাহিকতা খুব সাধারণ উল্লেখ করে শাওন বলেন, ‘তিনি যখন চলচ্চিত্র বানিয়েছেন তিনি সহজভাবে গল্প বলে গিয়েছেন। সবসময় গল্প লিখেছেন দর্শকের চোখে। আমরা সেটাকে সচরাচর ধারা কিংবা ব্যাতিক্রম ধারা বলতে পারি না। আমরা বলতে পারি, এটা হ‌ুমায়ূন আহমেদের নিজস্ব ধারা।’
হ‌ুমায়ূনের ক্ষমতা সম্পর্কে শাওন বলেন, ‘প্রত্যেকের ভেতর কী আছে, এটা আবিষ্কার করার ক্ষমতা ছিল তার। তার আরেকটি বড় গুণ ছিল, তিনি সবাইকে একত্রিত করতে পারতেন।’
পরিচালক মতিন রহমান বলেন, ‘হ‌ুমায়ূন আহমেদকে মূল্যায়ন করা খুব কঠিন কাজ, খুব দুরূহ ব্যাপার। তিনি ছোট ছোট ডিটেইল অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তার চলচ্চিত্রে।’
আলোচনা শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে দর্শক সারি থেকে প্রশ্ন করেন গীতিকার ও বাংলা ট্রিবিউনের সম্পাদক জুলফিকার রাসেল। তিনি জানতে চান, হ‌ুমায়ূন আহমেদের কাজ নিয়ে কোনও সংগ্রহশালা কিংবা জাদুঘর করার পরিকল্পনা আছে কিনা। জবাবে মেহের আফরোজ শাওন বলেন, ‘হ‌ুমায়ূন আহমেদের সবগুলো কাজ একত্রিত করা হয়েছে। আমরা শুধু জাদুঘর নির্মাণের অপেক্ষায় আছি।’

/এসও/টিআর/

লাইভ

টপ