ধর্মান্তরিত খ্রিস্টানদের হত্যার পরিকল্পনা করেছিল দুই জঙ্গি

Send
নুরুজ্জামান লাবু
প্রকাশিত : ১৭:৩৯, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৪১, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮

র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার দুই জঙ্গি

সংগঠনের টাকায় কিনে দেওয়া হয়েছিল একটি অটোরিকশা। সেই অটোরিকশা চালানোর ছদ্মবেশে রেকি করাই ছিল তার কাজ। টার্গেটে ছিল ধর্মান্তরিত খ্রিস্টানরা। একজনকে নিয়মিত অনুসরণ করে আসছিল সে। কিন্তু তার আগেই সে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়ে যায়। এই জঙ্গির নাম নুরুজ্জামান লাবু (৩৯)। তার সঙ্গে নাজমুল ইসলাম শাওন (২৬) নামে আরেকজনকে গ্রেফতার করা হয়।

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে র‌্যাব-২ এর একটি দল।

র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক লে.কর্নেল আনোয়ার উজ জামান বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা থেকে নুরুজ্জামান লাবু ও নাজমুল ইসলাম শাওনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে দুটি চাপাতি, উগ্রবাদী বই, ৭২৪ ইউএস ডলার উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজেদেরকে জেএমবির সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছে। তাদের সহযোগীদের ধরারও চেষ্টা চলছে।’

র‌্যাব সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুরুজ্জামান লাবু জানিয়েছে, সে আগে বাস-ট্রাকের হেলপার ও লন্ড্রি দোকানে কাজ করতো। বর্তমানে সে দিনমজুর ও রিকশাচালকের কাজ করে। পড়াশুনার জন্য মাদ্রাসায় ভর্তি হলেও শেষ করতে পারেনি। আগে সে জামায়াতে ইসলামির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল।

র‌্যাবের একজন কর্মকর্তা জানান, ২০১৫ সালে সাইফ ওরফে রুবেল ওরফে রবিন এবং সাগর ওরফে মারুফ ওরফে সোহাগ ওরফে শিহাব নামে দুজনের মাধ্যমে নুরুজ্জামান লাবু জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে। রবিন তাকে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করার পর বিধর্মীদের হত্যা ও আক্রমণের জন্য অনুপ্রাণিত করতো। বিভিন্ন সময়ে সে ঝিনাইদহ এলাকায় স্কুল মাঠে ও একটি গ্যারেজে সমমনাদের নিয়ে গোপনে বৈঠকও করেছে। তাকে স্থানীয় জেএমবি’র পক্ষ থেকে একটি অটোরিকশা কিনে দেওয়া হয়। ওই  অটোরিকশা  চালানোর ছদ্মবেশেই সে বিভিন্ন এলাকায় রেকি করতো এবং মুসলমান হতে ধর্মান্তরিত খ্রিস্টানদের অনুসরণ করতো।

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাবু স্বীকার করেছে যে, একজন খ্রিস্টানকে সে হত্যার জন্য টার্গেট করেছিল। এজন্য প্রতিদিন ওই খ্রিস্টান ব্যক্তিকে অনুসরণ করতো। নুরুজ্জামান লাবু ঝিনাইদহ অঞ্চলের জেএমবি’র আঞ্চলিক পর্যায়ের নেতা এবং বোমা বানাতেও পারদর্শী বলে স্বীকার করেছে সে।।

গ্রেফতার হওয়া নাজমুল ইসলাম শাওনের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে র‌্যাবের আরেকজন কর্মকর্তা জানান, শাওন পেশায় একজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। সেও ২০১৫ সাল থেকে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে। সে নিয়মিত অনলাইনে উগ্রবাদী বই এবং ‘ব্ল্যাক ফ্লাগ ফ্রম সিরিয়া’ নামে অনলাইন প্রপাগান্ডা পড়ে উদ্ধুদ্ধ হয়। এরপর সে প্রথমে ফেসবুকের মাধ্যমে বিভিন্ন উগ্রবাদী পোস্ট শেয়ার করতো। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে ফেসবুকের মাধ্যমে আবু আব্দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। আব্দুল্লাহর মাধ্যমেই সে জেএমবিতে যোগ দেয়।  এই শাওন এবং সুলায়মান ওরফে আজহার নামে আরেক তরুণ মিলে পেশাজীবীদের কাছে উগ্রবাদী মতাদর্শ প্রচারের মাধ্যমে  সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা করে আসছিল।

 

 

/এপিএইচ/

লাইভ

টপ