কণ্ঠের সুরক্ষায় জোরে কথা বলতে মানা

Send
তাসকিনা ইয়াসমিন
প্রকাশিত : ১০:৩৪, এপ্রিল ১৬, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:১৮, এপ্রিল ১৬, ২০১৮

কণ্ঠস্বর (প্রতীকী ছবিটি ইন্টারনেট থেকে নেওয়া)

মানুষের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান তার কণ্ঠস্বর। আর এই কণ্ঠস্বর রক্ষায় প্রয়োজন হয় বাড়তি যত্ন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চিৎকার করে কথা না বলার মাধ্যমে কণ্ঠকে সুরক্ষা করা সম্ভব।

আজ (১৬ এপ্রিল) বিশ্বকণ্ঠ দিবস। এ দিবসটিকে উপলক্ষ করে কণ্ঠের যত্ন ও সুরক্ষায় বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের নাক-কান ও গলা সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মনিলাল আইচ লিটু বলেন, ‘কণ্ঠ মানুষের শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, এর সামান্য পরিবর্তন হলে মানুষের ক্ষতি হতে পারে। এটা নিয়ে আমরা মোটেও সচেতন নই। যুক্তরাষ্ট্রের ১১ শতাংশ শিক্ষককে কণ্ঠজনিত সমস্যার কারণে চাকরি বদলাতে হয়। ছয় শতাংশ সাধারণ মানুষ কণ্ঠের সমস্যায় ভোগেন। কারও স্বাভাবিক স্বর বদলে গেলে তিনি ক্যান্সারের ঝুঁকির মধ্যেও থাকতে পারেন। সাধারণত, কণ্ঠশিল্পী, চিকিৎসক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ এদের কণ্ঠের বেশি যত্ন নিতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘যদি কারও কণ্ঠস্বর বদলে যায়, তাহলে অবশ্যই তাকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা নিতে হবে।’

ডা. মনিলাল আইচ লিটু কণ্ঠের যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘স্বাভাবিক স্বরে স্পষ্ট করে কথা বলুন। উচ্চস্বরে অথবা ফিস ফিস করে কথা বলা এড়িয়ে চলুন। গলা জোরে বা উচ্চচাপে পরিষ্কার করা থেকে বিরত থাকুন। যতটা সম্ভব কাশি দেওয়া এড়িয়ে চলুন। রেডিও বা টেলিভিশন দেখার বা শোনার সময় কম ভলিউমে শুনুন। ব্যায়ামের সময় বিশেষ করে ভার উত্তোলন কিংবা এ জাতীয় ব্যায়ামের ক্ষেত্রে ঘরে বায়ু চলাচলের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখুন। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করুন। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন, যাতে স্বরযন্ত্রে পানি শূন্যতা দেখা না দেয়। ধূমপান হতে নিজেকে সম্পূর্ণ বিরত রাখুন এবং ধোঁয়ার পরিবেশ থেকে দূরে থাকুন। হঠাৎ করে আপনার স্বরের পরিবর্তন হলে এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে ভালো না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। রাতে ঘুমানোর কমপক্ষে দুই ঘণ্টা আগে আহার শেষ করুন। ভাজাপোড়া, তেল-ঝালযুক্ত খাবার যথাসম্ভব পরিহার করে চলুন।’

কণ্ঠশিল্পীদের কণ্ঠস্বরের যত্ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনুষ্ঠান শুরুর আগে নিজেকে প্রস্তুত করুন। প্রয়োজন না হলে আপনার স্বরকে বিশ্রামে রাখুন। কথা বলার আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নিন। অভিনেতা/অভিনেত্রীরা আবেগপূর্ণ ভাষা এবং আবেগ প্রকাশের সময় সতর্ক থাকুন। আপনার কণ্ঠের জন্য ভালো কৌশল অবলম্বন করুন। আপনার দীর্ঘ পেশা নির্ভর করে আপনার সুন্দর কণ্ঠের ওপরে। কণ্ঠের সুরক্ষার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিন এবং আপনার কণ্ঠের যেকোনও সমস্যার শুরুতেই যথাযথ পরামর্শ গ্রহণ করুন।’

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ও আবৃত্তিকার হাসান আরিফ বলেন, ‘নিজে আবৃত্তিশিল্পী হওয়ার কারণে কণ্ঠের ব্যাপারে সবসময় সচেতন থাকি। আমি দীর্ঘদিন যাবৎ যেহেতু কণ্ঠ নিয়ে কাজ করি, আমার গলা কখনও স্বাভাবিক থাকে, কখনও একটু আবৃত্তি করলে গলা একটু ভগ্ন হয়, সেটা আমি বুঝতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘আমি চিৎকার করে কথা বলি না। রেগে যাওয়া বা চিৎকার, হৈ-হুল্লোড় করি না। ঠাণ্ডা পানি সাধারণত খাই না, আইসক্রিম খাই না, ধুলাবালি পরিহার করার চেষ্টা করি। তবে আমাদের এখানে শীতকালে আজকাল ঠাণ্ডা তেমন পড়ে না। তারপরও আমি গলার ব্যাপারে সচেতন থাকি। হাইনেক ব্যবহার করার চেষ্টা করি বা মাফলার ব্যবহার করি। আদা,মধু, গ্রিন টি খাই—এগুলো করি কণ্ঠটা যেন ভালো থাকে।’

সাধারণ মানুষকে উচ্চস্বরে কথা না বলার পরামর্শ দেন হাসান আরিফ। তিনি বলেন, ‘যদি রাগের কারণেও কেউ চিৎকার করে, তাহলে তার কণ্ঠ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমরা ওপর থেকে দেখি না, কিন্তু যখন দেখি যে ভগ্ন হয়ে পড়ছে, তখন বোঝা যায় এটা কত গুরুত্বপূর্ণ একটা জিনিস। সাধারণত ঠাণ্ডা লাগলে, হাঁচি, কাশি হলে কণ্ঠ পরিবর্তন হয়। কণ্ঠ যদি তার স্বাভাবিক রূপ হারায়, তখন শিল্পী হিসেবে সীমাবদ্ধতা চলে আসে।

 

 

/এপিএইচ/চেক-এমওএফ/

লাইভ

টপ