বোটানিক্যাল গার্ডেনের টয়লেটে তালা

Send
চৌধুরী আকবর হোসেন
প্রকাশিত : ২০:২৯, জানুয়ারি ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০৬, জানুয়ারি ১২, ২০১৯

জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানের প্রধান গেটরাজধানীর মিরপুরে ২১৫ দশমিক ২২ একর জায়গাজুড়ে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান। যদিও উদ্যানটি ইংরেজি ‘বোটানিক্যাল গার্ডেন’ নামেই  মানুষের কাছে বেশি পরিচিত। এ উদ্যানে দিনে গড়ে পাঁচ হাজার দর্শনার্থী আসেন।   উদ্যানে আগত এই দর্শনার্থীদের জন্য কাগজে-কলমে টয়লেট রয়েছে মাত্র আটটি, এর মধ্যে ব্যবহার উপযোগী পাঁচটি।  টয়লেটগুলোর ব্যবস্থাপনায় ইজারাদার না পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রেখেছে উদ্যান কর্তৃপক্ষ। ফলে প্রতিনিয়তই দর্শনার্থীরা পড়ছেন বিপাকে।

বোটানিক্যাল গার্ডেনের টয়লেটগুলো এভাবেই তালা দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছেসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানটি  বন অধিদফতরের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে।  ২০১৪ সালে সংস্থাটির প্রচারিত একটি তথ্য নির্দেশিকা মতে, ১৯৬২ থেকে ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এ উদ্যান। এখানে পাবলিক টয়লেট রয়েছে আটটি, মসজিদ একটি, ওয়াচ টাওয়ার দুটি,স্ন্যাক্স কর্নার তিনটি এবং দর্শনার্থী ছাউনি ৯টি।

সরেজমিনে দেখো গেছে,উদ্যানের ভেতরে সাধারণ দর্শনার্থীদের ব্যবহার উপযোগী টয়লেট আছে মাত্র পাঁচটি এবং সেগুলো তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।  দীর্ঘদিন ব্যবহৃত না হওয়ায় টয়লেটগুলোতে জমেছে ধুলো আর মাকড়শার বাসা। উদ্যান পরিচালকের কার্যালয়ের পাশে অবস্থিত ওয়াচ টাওয়ারের ফটকটিতেও তালা দেওয়া।  একটি দর্শনার্থী ডেক থাকলেও সেটিতেও ঝুলছে তালা। ডেকের প্রবেশ পথে নোটিশ  ঝুলানো রয়েছে— ‘স্থাপনাটি ঝুঁকিপূর্ণ’।

তালাবদ্ধ টয়লেটকেবলমাত্র রাজধানীর বাসিন্দারাই নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে আসেন দর্শনার্থীরা। কিন্তু উদ্যানের টয়লেটগুলোতে তালা দেওয়া থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের।  বাধ্য হয়ে অনেকেই যত্রতত্র মূত্র ত্যাগ করছেন। বেশি ভোগান্তিতে পড়েন নারীরা। অনেকেই উদ্যানের সৌন্দর্য উপভোগ না করেই  বাধ্য হয়ে চলে যান।

বৃহৎ আয়তনের এ উদ্যানে টয়লেট ব্যবহারের ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষুব্ধ দর্শনার্থীরা। নারায়ণগঞ্জ থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উদ্যানে এসেছিলেন নাজমুল আলম।  তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘লম্বা সময় নিয়ে এখানে এসেছি। পুরো উদ্যান ঘুরতেও অনেক সময় লাগবে। অথচ এখানে টয়লেট ব্যবহারের সুযোগ নেই। নারীদের জন্য এটি অত্যন্ত দুভোর্গের। এখানকার কর্তৃপক্ষ আসলে কী করে— সেই প্রশ্ন তোলা যায়।’

টয়লেটের দরজার ঝুলছে তালামোহাম্মদপুর থেকে এসেছেন নাজনীন আক্তার, সঙ্গে এসেছে  তার  অল্প বয়সী  দুই ছেলে।  উদ্যানের ভেতরে টয়লেটের গেট পর্যন্ত  গিয়েও ছেলেদের নিয়ে আবার ফিরে আসলেন। বাংলা ট্রিবিউনকে নাজনীন আক্তার বলেন, ‘উদ্যানের কয়েকটা টয়েলেটের কাছে গিয়ে দেখলাম তালা দেওয়া। বুঝতে পারছি না কেন। সরকারি একটি উদ্যান, এখানে মানুষের ব্যবহারের জন্য টয়লেট নেই— এটা ভাবা যায় না।’

জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানের ভেতরে অবস্থিত পরিচালকের কার্যালয়ে গিয়ে জানা যায়— বছর চুক্তিতে টয়লেটগুলো ইজারা দেওয়া হয়। ‍ইজারাদার প্রতিষ্ঠান উদ্যানের টয়লেটগুলো পরিচালনা করে থাকে এবং বিনিময়ে দর্শনার্থীদের কাছ থেকে তাকা টাকা আদায় করে। বিজ্ঞপ্তি দিয়েও ইজারা দিতে না পেরে টয়লেটগুলো তালা মেরে রেখেছে উদ্যান কর্তৃপক্ষ।  কতদিন ধরে তালা মেরে রাখা হয়েছে, জানতে চাইলে জবাব দেননি পরিচালকের কার্যালয়ের কোনও  কর্মকর্তা।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আগে  যারা ইজারা নিতো, তারা টয়লেট পরিচালনা ঠিক মতো করতো না। টয়লেটগুলো পতিতাবৃত্তিসহ অনৈতিক কাজে ব্যবহার করতো। কোনও কোনও টয়লেট হকারদের মালামাল রাখার জন্য ব্যবহার হতো। এসব অনিয়ম কঠোরভাবে বন্ধ করা হয়েছে। আর কঠোরতা দেখানোয় এখন নতুন করে কেউ টয়লেটগুলো ইজারা নিচ্ছে না।’ তিনি জানান,  গত বছরের ১১ নভেম্বর প্রথমবার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল টয়লেট ইজারা দেওয়ার জন্য।

দর্শনার্থী কেন্দ্রেও ঝুলছে তালাএ প্রসঙ্গে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানের পরিচালক মোল্যা রেজাউল করিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘টয়লেটগুলো ইজারা দিতে তিনবার বিজ্ঞপ্তি দিয়েও ইজারাদার পাওয়া যায়নি।  গত ২৭ ডিসেম্বর  চতুর্থবারের মতো বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। দরপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ইজারাদারদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ইজারাদার না পেলে টয়লেটগুলো চালু করা সম্ভব নয়।’

উদ্যানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় টয়লেটগুলো সচল রাখা যায় কিনা প্রশ্নে মোল্যা রেজাউল করিম বলেন, ‘টয়লেট আমাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করা সম্ভব নয়। কারণ, আমাদের জনবল নেই।’

 

/সিএ/এপিএইচ/

লাইভ

টপ