কারাগারে ডাক্তার এনে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার আবেদন

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৫:৩৮, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:০০, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯

খালেদা জিয়া

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ভালো না এবং সমস্যাগুলো দিন দিন বাড়ছে বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার। এ জন্য কারাগারে ব্যক্তিগত চিকিৎসক এনে তার চিকিৎসার জন্য আদালতে আবেদন করেছেন তিনি। মঙ্গলবার নাইকো মামলার শুনানি শেষে আদালতে এই আবেদন করা হয়।
ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত ৯ নম্বর বিশেষ জজ শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে আজ মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নাইকো মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১২টা ২৬ মিনিটে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বিশেষ আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক তার এজলাসে আসেন ১২টা ২৮ মিনিটে। এরপর শুনানি শুরু হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষ হয় ২টা ৫ মিনিটে। আদালতে ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট খালেদা জিয়া হুইল চেয়ারে বসেছিলেন। শুনানি শেষে খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
শুনানিতে আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, ‘হাইকোর্ট খালেদা জিয়ার চিকিৎসার একটি আদেশ দেন। এরপর খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। চিকিৎসার শেষ না করেই উনাকে আবার কারাগারে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে উনার শারীরিক অবস্থা ভালো না। উনার শারীরিক সমস্যাগুলো বাড়ছে। এখানে ব্যক্তিগত চিকিৎসক এনে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হোক।’
এরপর বিচারক বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশটি আদালতে দাখিল করেন। আমি দেখে পরে আদেশ দেবো।’
এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুর রেজ্জাক খান, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বোরহান উদ্দিনসহ অনেকে।
প্রসঙ্গত, ছাতকের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন দুই দফা অগ্নিকাণ্ড ঘটে। দুর্ঘটনার কারণে নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে পেট্রোবাংলা। নাইকোর গাফিলতির জন্যই এই দুর্ঘটনা হয়েছে বলে বাপেক্স দাবি করে। কিন্তু ক্ষতির পরিমাণ ও গাফিলতি নিয়ে মতভেদ হয়। নাইকো ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। তারা দাবি করে, এ বিষয়ে তাদের কোনও গাফিলতি হয়নি। এই ক্ষতিপূরণ দেবে না বলে নাইকো লন্ডনে বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে (ইকসিড) মামলা করে। একইসঙ্গে বাপেক্সও এই ক্ষতি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের পাওনা অর্থ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন।
এরপর ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম সাহেদুর রহমান। অভিযোগপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়। মামলাটি বিশেষ জজ আদালত ৯-এ বিচারাধীন রয়েছে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সাংসদ এম এ এইচ সেলিম এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া-বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

/টিএইচ/এফএস/এমওএফ/

লাইভ

টপ