গার্মেন্টসকর্মীর মাকে পঙ্গু করে দেওয়ায় ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০২:২৩, এপ্রিল ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:২৭, এপ্রিল ২৪, ২০১৯

হাইকোর্টমিরপুরের অ্যাটান ফ্যাশন গার্মেন্টসের কর্মী লিজা আক্তারের মা বেদানা খাতুনকে (৪৫) মারধর করে জখম এবং ধাক্কা দিয়ে দোতলা থেকে ফেলে পঙ্গু করে দেওয়ার ঘটনায় প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসার জন্য ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে পল্লবী থানায় মামলা গ্রহণ না করায় সংশ্লিষ্টদের কেনো কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত নারীর চিকিৎসার জন্য সমস্ত খরচ এবং তার পুনর্বাসন করতে গার্মেন্টস মালিককে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আরজি জানানো হয়েছে।
বেদানা খাতুনের বড় মেয়ে পারুল আক্তারের পক্ষে মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবিএম আতাউল মজিদ এ রিট দায়ের করেন।

রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, পুলিশের আইজি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, মিরপুর জোনের ডেপুটি কমিশনার, অ্যাটান ফ্যাশন গার্মেন্টসের মালিক মাহবুবসহ মোট আটজনকে বিবাদী করা হয়েছে।

পরে এবিএম আতাউল মজিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত ১২ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে গার্মেন্টসকর্মী লিজা বকেয়া বেতন বাবদ পাওয়া টাকা আদায় করতে অ্যাটান ফ্যাশন গার্মেন্টসে যান। কিন্তু বেতন চাইতে গেলে গার্মেন্টস মালিক মাহবুব টাকা পরিশোধ না করে লিজাকে গালিগালাজ ও মারধর করতে উদ্যত হলে তার মা বেদানা (৪৫) এগিয়ে আসেন। এ পর্যায়ে গার্মেন্টসকর্মী লিজা ও তার মা বেদানাকে গার্মেন্টস মালিক মাহবুব এবং তার কর্মচারী রাবেয়া ও হাছিনা মারধর করে জখম করে। তারা বেদানাকে (লিজার মা) দোতলা হতে ধাক্কা দিয়ে নিচতলায় ফেলে দেয়। এতে লিজার মায়ের ডান হাত, ডান পা এবং কোমরের হাড় ভেঙে যায়। পরে তার চিৎকারে এলাকাবাসী এসে আহত বেদানাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজধানীর শ্যামলির জাতীয় অর্থোপেডিকস হাসপাতালে ভর্তি করে।

প্রকাশ্যে ওই ঘটনা পর পল্লবী থানা পুলিশকে অবহিত করলেও তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। এরপর ১৪ এপ্রিল মামলা করতে গেলে পল্লবী থানার কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার এজাহার গ্রহণ করেন। তিনি বিষয়টি তদন্তের পর মামলা করা হবে বলে জানান। তবে এরপরও ওই ঘটনায় কোনও মামলা গ্রহণ করেনি থানা কর্তৃপক্ষ। বরং মামলা গ্রহণের বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে উল্টো অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে তিনজন পরিদর্শক দুর্ব্যবহার করে তাদের তাড়িয়ে দেন।

এরপর মামলা গ্রহণ না করার বিষয়টি অবহিত করে গত ১৮ এপ্রিল পুলিশের মহাপরিদর্শক বরাবর একটি আবেদন পাঠানো হয়। কিন্তু সে আবেদনের কোনও জবাব না পেয়ে বেদানা খাতুনের বড় মেয়ে পারুল আক্তার ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।     

এবিএম আতাউল মজিদ বলেন, ‘আজ (মঙ্গলবার) রিট আবেদনটি বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চে উত্থাপন (মেনশন) করা হয়। আদালত আবেদনটির ওপর আগামী রবিবার (২৮ এপ্রিল) শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন।’

 

/বিআই/এমএএ/

লাইভ

টপ