রোহিঙ্গা ও ছেলেধারা-বিষয়ক গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান নড়াইলের এসপির

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৩:২০, মে ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৫২, মে ২৩, ২০১৯

পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন

নড়াইলে আদতে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের কোনও ঘটনা ঘটেনি। রোহিঙ্গা ও ছেলেধারা-বিষয়ক যে ঘটনা এলাকাগুলোতে শোনা যাচ্ছে, সেটা পুরোটাই গুজব। আর এ ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য নড়াইলের জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশ সুপার (এসপি) মো. জসিম উদ্দিন।

নড়াইলে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও ছেলেধারা-বিষয়ক গুজব প্রসঙ্গে বুধবার (২২ মে) বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তরের একটি অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

এসপি জসিম উদ্দিন বলেন, গুজবের জেরে ইতোমধ্যে দুইজনকে আটক ও মারধর করেছে গ্রামবাসী। এর মধ্যে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন। অন্যজনেরও নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে, যার বাড়ি পটুয়াখালী এবং সে ভুলে লঞ্চ থেকে নড়াইলে এসেছে। আমরা তাকে ফেরত পাঠিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, গুজব ঠেকাতে আমরা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি, জনসংযোগ করেছি, কমিউনিটি পুলিশিং করেছি। গ্রামবাসীদের বলছি, গুজবে কান দেওয়ার কোনও দরকার নেই। এখানে পুলিশ আছে, গোয়েন্দা সংস্থা আছে; রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও তাদের দ্বারা নড়াইলের মানুষ ধরে নিয়ে যাওয়ার মতো যদি কিছু ঘটে থাকে, তবে পুলিশ প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থা ব্যবস্থা নেবে।

 রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও ছেলেধারা-বিষয়ক গুজব নিয়ে নড়াইলে মসজিদে মসজিদে মাইকিং করা হয়েছে কিনা, এ ব্যাপারে এসপি বলেন, মাইকিংয়ের কথা শুনে আমরা খবর নিয়েছি। মাইকিং হয়নি।

গুজব নিরসনে পুলিশ মসজিদে মসজিদে মাইকিং করতে পারতো, সেটা করেছে কিনা –এই প্রশ্নে জসিম উদ্দিন বলেন, এটাও আমরা করবো। তবে এখনই সেটা করলে গুজব আরও বেশি ছড়াতে পারে। মাইকিং করার ব্যাপারে জেলা প্রশাসনে আলোচনা করবো এবং প্রয়োজন মনে করলে মাইকিং করবো।

মঙ্গলবার (২১ মে) বেশ কয়েকটি অনলাইন নিউজপোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হয়, নড়াইলজুড়ে রোহিঙ্গা আতঙ্ক বিরাজ করছে। গুজব রটেছে, রোহিঙ্গারা মানুষ ধরে নিয়ে যাচ্ছে; শিশুদের হত্যা করে মাথা কেটে নিয়ে যাচ্ছে তারা। এ আতঙ্কে গ্রামের শিশুরা এখন বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে। ভয়ে অনেক শিশু ঘর থেকেও বের হচ্ছে না।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বলছে, রোহিঙ্গাদের ছেলেধরার গুজবে গত ১৫ মে নড়াইল সদরের মুলিয়া বাজার থেকে নামে এক যুবককে এলাকাবাসী গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমির হোসেন জানান, সে রোহিঙ্গা নয়। গত ১৯ মে রাত ১০টার দিকে স্থানীয় আখলিয়া বাজার থেকে ষাটোর্ধ এক ব্যক্তিকে এলাকাবাসী ধরে মারধর করে স্থানীয় একটি ক্লাবে আটকে রাখে। পুলিশ জানায়, ওই ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন।

 

/এমএ/

লাইভ

টপ