আবরার হত্যা: অধিকতর তদন্তেও নতুন তথ্য মেলেনি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:২১, জুন ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৪৬, জুন ২৪, ২০১৯




আবরার আহমেদ চৌধুরীসুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাসের চাপায় বিইউপি শিক্ষার্থী আবরার চৌধুরী নিহতের ঘটনায় অধিকতর তদন্তের পরও নতুন কোনও আসামি খুঁজে পাননি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক কাজী শরীফুল ইসলাম। অথচ তিনি নিজেই অধিকতর তদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করেছিলেন।

গত ২৮ মে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের সংশ্লিষ্ট জিআর শাখায় অধিকতর তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) এটি আদালতে উপস্থাপনের কথা।

তদন্ত কর্মকর্তা শরীফুল তার প্রতিবেদনে বলেন, সাক্ষীরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামি এবং ঘটনাসংক্রান্ত নতুন কোনও তথ্যপ্রমাণ দিতে পারেননি।

এর আগে গত ২৫ এপ্রিল আদালতে এ মামলায় পৃথক দুটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন এই তদন্ত কর্মকর্তা।

মিরপুর আইডিয়াল গার্লস ল্যাবরেটরি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সিনথিয়া সুলতানা মুক্তা বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় সুপ্রভাত পরিবহনের বাসচালক সিরাজুল ইসলাম, মালিক ননী গোপাল সরকার, কন্ডাক্টর ইয়াছিন আরাফাত ও হেলপার ইব্রাহিম হোসেনকে অভিযুক্ত করে দণ্ডবিধির ২৭৯/৩৩৮-ক/১০৯ ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরারের নিহতের ঘটনায় বাসমালিক ননী গোপাল সরকার ও কন্ডাক্টর ইয়াছিন আরাফাতের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২৭৯/৩০৪/১০৯ ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এতে বলা হয়, যমুনা ফিউচার পার্কের কাছে নর্দ্দার আইকন টাওয়ারের সামনে বিইউপি শিক্ষার্থী আবরার চৌধুরীকে চাপা দেওয়ায় তিনি মারা যান।

এরপর গত ৩০ এপ্রিল ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে অধিকতর তদন্তের জন্য আবেদন করেন শরীফুল। তিনি বলেন, ‘মামলাটির অভিযোগপত্র দাখিলের পর আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে আরও আসামি জড়িত আছে। তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেন। ন্যায়বিচারের স্বার্থে অধিকতর তদন্ত করা প্রয়োজন।’

আবরার নিহতের ঘটনার পর সুপ্রভাত পরিবহন অবৈধভাবে রুট পরিবর্তন করে। টাকার বিনিময়ে পারমিট দেওয়ায় রুটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উভয়ের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। তবে প্রতিবেদন পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা নিয়েছে কিনা, এ ব্যাপারে কিছু জানেন না তদন্ত কর্মকর্তা শরীফুল।

বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভালো জানে, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।’

প্রসঙ্গত, ১৯ মার্চ সকালে ভিক্টোরিয়া পার্ক থেকে সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাস ছাড়ে। তখন চালক ছিল সিরাজুল ইসলাম। বাসটি গুলশানের শাহজাদপুর এলাকা অতিক্রম করার সময় মিরপুর আইডিয়াল গার্লস ল্যাবরেটরি কলেজের শিক্ষার্থী মুক্তাকে চাপা দেয়। এ ঘটনায় বাসের যাত্রীরা চালক সিরাজুলকে ট্রাফিক পুলিশে সোপর্দ করে। তখন ঘটনাস্থলের কিছু দূরে বাসটি রাখা হয়। এ সময় কন্ডাক্টর ইয়াসিন আরাফাত বাসের মালিককে ফোন করে জানায়, বাস এখানে থাকলে জনগণ পুড়িয়ে দিতে পারে বা ভাঙচুর করতে পারে। তখন মালিক আরাফাতকে বাসটি নিয়ে সটকে পড়তে বলেন। এরপর চালকের আসনে বসে কন্ডাক্টর আরাফাত। সে বাস নিয়ে পালানোর সময় যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে বিইউপি শিক্ষার্থী আবরারকে চাপা দেয়।

/এইচআই/এমওএফ/

লাইভ

টপ