‘যতদিন বেঁচে থাকবো, মা ও চিকিৎসকদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৫০, জুলাই ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৪৮, জুলাই ১৮, ২০১৯

সংবাদ সম্মেলনে মা রোকসানা বেগম ও ছেলে সিরাতুল ইসলামসফলভাবে লিভার প্রতিস্থাপন হওয়ায় মা ও চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সিরাতুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমার মায়ের জন্য আমি জীবন ফিরে পেয়েছি। আর চিকিৎসকরা দরদের সঙ্গে আমার চিকিৎসা করেছেন। যতদিন বেঁচে থাকবো, আমার মা ও চিকিৎসকদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো।’ বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ডা. মিল্টন হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক আবেগঘন পরিবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ জুন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো এই লিভার প্রতিস্থাপন করা হয়। এদিন, ছেলে সিরাতুল ইসলামকে নিজের লিভারের ৬০ শতাংশ দান করেন মা রোকসানা বেগম। ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত লিভার প্রতিস্থাপনের কার্যক্রম চলে। বিএসএমএমইউর হেপাটোবিলিয়ারি ও প্যানক্রিয়েটিক এবং লিভার ট্রান্সপ্লান্ট বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. জুলফিকার রহমান খানের নেতৃত্বে বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক, নার্স ও ওয়ার্ডবয়সহ প্রায় ৬০ জনের একটি দল এই কার্যক্রমে সেদিন অংশ নেয়। সফলভাবে লিভার প্রতিস্থাপনের পর ২৫তম দিনে মা ও ছেলে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। এ উপলক্ষে তাদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সংবাদ সম্মেলনে সিরাতুল ইসলামের পাশে ছিলেন মা রোকসানা বেগম। প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সিরাতুল ইসলাম। এ সময় মা ও ছেলের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে অভিনন্দন জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

এ সময় বক্তব্য দিতে গিয়ে মা-ছেলে দু’জনই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। ছেলে সিরাতুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমার আরও চার ভাইবোন রয়েছেন। তারা তো ইচ্ছে করলে মাকে নিষেধ করতে পারতেন। কিন্তু তারা নিষেধ করেননি। আমার মা আমার জন্য তাদের বঞ্চিত করে নিজের জীবনের ‘রিস্ক’ নিয়েছেন। তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’’  

মা-ও-ছেলে

প্রধানমন্ত্রীসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি বিএসএমএমইউর অধ্যাপক ডা. সাইফ উদ্দিন আহমেদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান মা রোকসানা বেগম। তিনি বলেন, ‘আমি এই চিকিৎসকের প্রতি চিরঋণী থাকবো।’

রোকসানা বেগম বলেন, ‘গত রমজানে অনেক রাতে সিরাতুল অসুস্থ হয়ে যায়। ডা. সাইফ উদ্দিনকে ফোন করলে তিনি সিরাতুলকে নিয়ে আসতে বলেন। একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিরাতুলকে ভর্তি করা হলে সেখানে সারা রাত এই চিকিৎসক জেগে ছিলেন।’ তিনি বলেন, এই লিভার প্রতিস্থাপনের পর যেদিন সিরাতুল প্রথম ভাত খায়, সেদিন ডা. সাইফ উদ্দিন তার বাসা থেকে খাবার রান্না করে আনেন।’

কথাগুলো বলতে বলতেই ডুকরে কেঁদে ওঠেন রোকসানা বেগম। তিনি বলেন, ‘আমি যতদিন বেঁচে থাকবো, ততদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো। এই হাসপাতালের প্রত্যেক চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয়সহ সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ থাকবো।’ সিরাতুলের মতো যেন আরও অনেক ছেলে নতুন জীবন ফিরে পায়, তিনি সেই প্রার্থনাও করেন।

/জেএ/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ