পুরোদমে আভিযানিক কার্যক্রম শুরু করতে চায় অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট

Send
জামাল উদ্দিন
প্রকাশিত : ০৭:৫৬, আগস্ট ০৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩০, আগস্ট ০৫, ২০১৯

পুলিশ (ফাইল ফটো)সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমনে পুরোদমে আভিযানিক কার্যক্রম শুরু করতে চায় অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় গঠিত পুলিশের এই বিশেষায়িত ইউনিট পরিচালনায় বিধিমালা অনুমোদনের অপেক্ষায় তারা। বিধিমালাটি অনুমোদন হয়ে গেলে সারাদেশে নিজেদের অফিস স্থাপনের কাজও শুরু করা হবে। ইউনিটটির সদর দফতরে জনবল নিয়োগ-পদায়ন প্রক্রিয়াও শেষপর্যায়ে রয়েছে। জঙ্গিবিরোধী কয়েকটি আলোচিত অভিযানও চালিয়েছে তারা। সোয়াটের একটি টিমও তাদের দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সবশেষ গত ২৭ জুলাই অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর এলাকার একটি বাড়িতে জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালায়। ওই অভিযানে জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান চালায় তারা। এটিইউ’র সদস্যরা দীর্ঘ সময় দরজার কড়া নাড়তে থাকেন। একপর্যায়ে ওই পরিবারের সদস্যরা দরজা খুলে ধারালো অস্ত্র নিয়ে এটিইউ’র সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। পরে তাদের সেখান থেকে আটক করে নিয়ে আসে। যাদের আটক করা হয় তারা হচ্ছে আহমেদ আলী (৫৭), তার স্ত্রী সালমা আহমেদ (৫০), তাদের ছেলে জাকারিয়া (৩৫) ও কিবরিয়া (৩০) এবং মেয়ে আসমা ফেরদৌস দীপা (২৫)।

এছাড়া ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট তাদের কার্যক্রম শুরু করে। ঢাকা মহানগর পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট’ও দেশের বিভিন্নস্থানে পুলিশের সঙ্গে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী কার্যক্রম চালায়। অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের কার্যক্রম পরিচালনায় ৫৮১টি পদ সৃষ্টি করা হয়। একজন অ্যাডিশনাল আইজির নেতৃত্বে এই ইউনিট পরিচালিত হচ্ছে। এরইমধ্যে ৫৮১ জনবলের মধ্যে পাঁচ শতাধিক নিয়োগ হয়ে গেছে। অন্য পদগুলোতেও নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে এই ইউনিটের কার্যক্রম রাজধানীর বারিধারার বি ব্লকের ৩৫ নম্বর বাড়ি থেকে পরিচালিত হচ্ছে। স্থায়ীভাবে ইউনিটের কার্যালয় স্থাপনের জন্য পূর্বাচলের পাশে জমি দেখা হয়েছে। শিগগিরই জমির বিষয়টিও অধিগ্রহণের মাধ্যমে সুরাহা হয়ে যাবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, তখন সেখানে স্থায়ীভাবে ইউনিটের কার্যালয় স্থাপন করা হবে।

অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট সূত্র আরও জানায়, ২০১৩ সালের পর থেকে জঙ্গিরা টার্গেট কিলিং শুরু করে। একপর্যায়ে জঙ্গিরা বেপরোয়া হয়ে উঠলে ২০১৬ সালের শুরুর দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধীনে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) নামে একটি নতুন ইউনিট গঠন করা হয়। কিন্তু সারাদেশে অভিযান চালাতে এই ইউনিটের কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ঢাকার বাইরে অভিযান চালাতে গেলে আইজিপির অনুমোদন নিতে হয়। যে কারণে জাতীয়ভাবে কাজ করতে পুলিশের কাঠামোতে ‘অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট’ নামে আরেকটি বিভাগ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২০১৭ সালে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট গঠনের অর্ডার হয়। কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে। একটা ইউনিট পুরোপুরি কাজ করার সক্ষমতা অর্জনে তো সময় লাগে। ইউনিট পরিচালনায় বিধি অনুমোদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। বিধিমালাটি চূড়ান্ত হলে নিজেরা তদন্তসহ সব ধরনের কার্যক্রম করতে পারব। এটা হবে বাংলাদেশে কাউন্টার টেররিজমের ন্যাশনাল ইউনিট। সেজন্য এটাকে কার্যকর করার জন্য সরকার চেষ্টা করছে।’

মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা এখন একটি ভাড়া বিল্ডিংয়ে কাজ করি। এটিইউ’র জমির জন্য চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। লাইন ও অফিস করা হবে সেখানে। তবে এরইমধ্যে আমরা কিছু অভিযান করেছি। কাজ শুরু করতে যেগুলো লাগে, সেগুলো হলো—তথ্য সংগ্রহ, ডাটাবেজ তৈরি, এগুলোর কাজ চলছে। ডিএমপির সিটিটিসির মতো না হলেও অভিযান চালানোর মতো মোটামুটি সক্ষমতা আমাদের আছে। একটা সোয়াট টিম আছে। যে ক’টি অভিযান চালিয়েছি সেগুলো আমাদের টিম দিয়েই করেছি। এছাড়া অভিযানের বিষয়ে সবার সঙ্গে (অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) সমন্বয় করেই আমরা অভিযান চালিয়ে থাকি। যদি কারও সহযোগিতা লাগে তখন তাদের সাহায্য নেই। যেমন মিরপুরে অভিযানের সময় আমরা থানা পুলিশের সহযোগিতা নিয়েছি। অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা, বিভিন্ন বিদেশি এজেন্সি, এনজিও, এম্বাসিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে।

এটিইউ’র এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এটিইউ’র বিধিমালাটা হয়ে গেলে আইজিপির পক্ষ থেকে অ্যাডিশনাল আইজি এটিইউর কার্যক্রম কো অর্ডিনেট করবেন। বিধিমালা অনুমোদন হয়ে গেলে অনেক দূর এগিয়ে যাবে এর কার্যক্রম।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের রিজিওনাল অফিস করার প্রকল্প আছে। শুরুতে আমরা বিভাগীয় শহরগুলোতে সম্প্রসারিত করব। এরকম একটা প্রস্তাবও আমরা দিয়েছি। এরপর আস্তে আস্তে অন্য জায়গায় করব। এ মুহূর্তে আমরা ঢাকা থেকেই সবকিছু দেখছি। তাতে যে খুব একটা অসুবিধা হয় তা নয়। আমরা আগে পর্যবেক্ষণ বা নজরদারি করি। লোকজন পাঠাই।’ পরে অভিযান চালানো হয় বলেও তিনি জানান।

 

/এমএনএইচ/এমএমজে/

লাইভ

টপ