টয়লেটে চায়ের দোকান (ভিডিও)

Send
শাহেদ শফিক
প্রকাশিত : ০৮:১৫, অক্টোবর ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:০৯, অক্টোবর ১৬, ২০১৯




টয়লেটে ঢোকার প্রবেশ পথে চায়ের দোকানধানমন্ডি লেকের ভেতরে ‘মসজিদ উত তাকওয়া’ সংলগ্ন একটি পাবলিক টয়লেটে চায়ের দোকান রয়েছে। টয়লেটের এক পাশে বৈদ্যুতিক কেতলিতে তৈরি চা, পান, সিগারেট, পানি, কলা ও কেকসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার বিক্রি করা হয়। লেকে ঘুরতে আসা মানুষেরা মূলত এখানকার ক্রেতা। দোকানটিকে ঘিরে পুরুষ ক্রেতাদের ভিড় থাকে সব সময়। তাদের পাশ দিয়েই মলমূত্র ত্যাগ করতে ভেতরে যান টয়লেট ব্যবহারকারীরা। এতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়  টয়লেট ব্যবহারকারী নারীদের। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকেই।

জানা গেছে, পার্ক ও টয়লেটের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
বুধবার (৯ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা গেছে, টয়লেটের ভেতরে চা তৈরি করে দরজার সামনেই তা বিক্রি করা হচ্ছে। লেক সংলগ্ন পার্কে নিয়মিত ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, বেশির ভাগ সময় টয়লেটের ভেতরেই চায়ের দোকানটি দেখা যায়। মাঝে-মধ্যে বাইরে আনা হয়। টয়লেটের বিদ্যুৎ ব্যবহার করেই কেতলিতে চা তৈরি  হয়।  

জানতে চাইলে চা বিক্রেতা শাহিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি এখানে চাকরি করি। টয়লেট দেখাশোনার পাশাপাশি চায়ের দোকানটিও চালাই। দোকানটি আমার বোন জামাইয়ের।’ 

 চা তৈরিতে ব্যস্ত শাহিনশাহিন আরও  জানান, এখানে দোকান চালানোর জন্য আগে অনেককে চাঁদা দিতে হতো। তবে বর্তমানে চাঁদা নেওয়ার জন্য আর কেউ আসছে না।

চা পান করতে আসা নাজমুল ইসলাম নামে এক খুদে ব্যবসায়ী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘টয়লেটের সামনে দোকান, এটা দেখতে খুবই খারাপ, রুচিহীন। এখানকার পরিবেশ কিছুটা ভালো হলেও এমনটা কাম্য নয়।’

জানা গেছে, এই পাবলিক টয়লেটটি নারী-পুরুষ সবার জন্যই উন্মুক্ত। প্রায়ই দোকানের সামনে চা খেতে আসা মানুষেরা সেখানে দাঁড়িয়ে ও বসে আড্ডা দেয়। এ কারণে টয়লেটে আসা নারীদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।
হাফছাহ আক্তার রিতা নামে এক নারী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটি নারী-পুরুষ সবার জন্য উন্মুক্ত। পরিবেশও অনেক ভালো। টাকা দিয়েই টয়লেট ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু টয়লেটের সামনে দোকান থাকার কারণে পুরুষরা এখানে এসে চা-কফি, পান-সিগারেট খায় আর আড্ডা দেয়।  ফলে নারীদের টয়লেটে যেতে বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হতে হয়।’

জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অঞ্চল-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জয় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিষয়টি অবশ্যই দেখার দায়িত্ব আমার। তবে এটি আমার জানা ছিল না। আমি এই অঞ্চলে নতুন এসেছি। কালই চায়ের দোকানটি উচ্ছেদ করবো।’ তিনি বলেন, ‘আমিও মনে করি, যদি এমনটা হয়ে থাকে, তা  মা-বোনদের জন্য অবশ্যই বিব্রতকর।’

 

/এপিএইচ/এমএমজে/

লাইভ

টপ