behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

বরগুনায় দুই কেন্দ্রে ভোট স্থগিত: আ. লীগ প্রার্থীসহ আহত ৩৫, আটক ৭

বরগুনা প্রতিনিধি২০:৫৬, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৫

বরগুনাবরগুনার তিনটি পৌরসভায় (বরগুনা-পাথরঘাটা-বেতাগী) হামলা ভাঙচুর, ভোট কারচুপি, ব্যালট পেপার ও বাক্স ছিনতাইসহ গুলি বর্ষণের মধ্য দিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এ সব ঘটনায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীসহ ৩৫জন আহত হয়েছেন। এসময় ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। এসব ঘটনার জেরে বরগুনা ও বেতাগীতে দুটি ভোট কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছেন প্রিজাইডিং অফিসাররা।
বরগুনা পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী কামরুল আহসান মহারাজসহ ১৫ জন আহত হন। গুরুতর আহতবস্থায় কামরুল আহসান মহারাজকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের অভিযোগে পূর্ব বেতাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল পৌনে ৯টার দিকে গগন মেমোরিয়াল হাই স্কুল কেন্দ্রে সন্ত্রাসীরা হামলা চালান। তারা বিভিন্ন বুথ থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেন। তাদের বাধা দিতে গিয়ে আহত হন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ডাক্তার শফিকুল ইসলাম ও পাঁচ পোলিং অফিসার। এ সময় যৌথ বাহীনির সঙ্গে হামলাকারীদের সংঘর্ষ হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা লাঠি চার্জ, রাবার বুলেট ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ। হামলাকারীদের প্রতিরোধ করতে এসে পুলিশের লাঠিচার্জের শিকার হয়ে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপে বরগুনা থানার ওসি রিয়াজ হোসেন পিপিএমও আহত হন। ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেওয়ায় ও ব্যালট বাক্স ভাঙচুর করায় রিটার্নিং অফিসার ওই কেন্দ্রের নির্বাচন বন্ধ করে দেন।

সকাল সাড়ে দশটার দিকে সরকারি বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারদের লক্ষ্য করে বাহিরা হাতবোমা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় প্রায় দেড় ঘণ্টা ভোটগ্রহণ স্থগিত ছিল। পুলিশের এস আই জহুরুল ইসলাম এক এজেন্টকে পিস্তল দেখিয়ে ভয় দেখালে এজেন্টেদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে নিয়ে যান। আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থীর সমর্থকরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রেসক্লাব চত্বরে সমাবেশ করে। এতে বক্তব্য রাখেন, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী কামরুল আহসান মহারাজ।

সমাবেশ শেষে মিছিলটি সরকারি কলেজ কেন্দ্রের সামনে পৌঁছলে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় আওয়ামী লীগ সমর্থীত প্রার্থী মহারাজ যৌথ বাহীনির ছোড়া বুলেটের আঘাতে আহত হন বলে দাবি করে তার সমর্থকরা। এ সময় আরও ১০/১৫ জন জন আহত হন। মহারাজকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া পর উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে নির্বাচনি পরিবেশ শান্ত রয়েছে। নির্বাচনে বিঘ্ন সৃষ্টির অভিযোগে সাত জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও এ ব্যপারে জেলা আওয়ামী লীগেরসহ সভাপতি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন,নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগ বা নির্বাচন পরিচালনা কমিটি কিছুই জানে না। দলীয়ভাবে এরকম কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

উল্লেখ্য,বরগুনা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের কামরুল আহসান মহারাজ, বিএনপি’র এস এম নজরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী শাহাদাত হোসেন ও অ্যাডভোকেট শাহজাহান, জাতীয় পার্টির এম জলিল এবং এনপিপির মাহবুবুল আলম প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া, ৯টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ৪১ জন এবং তিনটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নারী কাউন্সিলর পদে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বরগুনা পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ২২ হাজার ৫৮ জন। পুরুষ ভোটার ১১ হাজার ২শ ৬৮ জন এবং নারী ভোটার ১০ হাজার ৭শ ৯০ জন।

বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক পিপিএম বলেন, ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফাঁকা ফায়ার করে। এখন বরগুনার পরিস্থিতি স্বাভাবিক। সার্বিক পরিস্থিতি  আইশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও তিনি জানান।

/জেবি/এমএনএইচ/

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ