behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

একান্ত সাক্ষাৎকারে ইবতেদায়ি শিক্ষক সমিতির সভাপতিপেটে ক্ষুধা নিয়ে চেয়ে আছি ৩০ বছর

রশিদ আল রুহানী১৪:৪০, মার্চ ২৫, ২০১৬


ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি কাজী রুহুল আমিন চৌধুরীকোমলমতি শিশুদের অক্ষর জ্ঞান দিতে, তাদের ভেতরে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে পেটে ক্ষুধা নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি ৩০ বছর ধরে। পেটে ক্ষুধা নিয়ে বিনা বেতনে জাতিকে শিক্ষা দেওয়া কি সম্ভব? সরকারের কাছে অনেক দাবি জানিয়েছি, অনেক আন্দোলন করেছি। তবুও কোনও লাভ হয়নি। বর্তমানে ছয় হাজার ৮৪৮টি মাদ্রাসার প্রায় ৩৪ হাজার ২৪০ শিক্ষক ৩০ বছর ধরে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি কাজী রুহুল আমিন চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। তার সাক্ষাৎকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

বাংলা ট্রিবিউন: মাদ্রাসা জাতীয়করণ ও বেতনের দাবি তুলছেন কবে থেকে?

কাজী রুহুল আমিন: ১৯৮৪ সাল থেকে সারা দেশে ইবতেদায়ি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে। আর তখন থেকেই ইবতেদায়ি মাদ্রাসা আলোচনায় আসে। প্রায় ৩০ বছর ধরে আমরা ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করে আসলেও ১৫ বছর ধরে আমরা বেতনের দাবি তুলে আসছি।  

বাংলা ট্রিবিউন: আন্দোলনের ফল পেয়েছেন কি এখনও? পেলেও কতটুকু?

কাজী রুহুল আমিন:১৯৮৪ সালে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে রেজিস্ট্রেশন পাওয়া মাদ্রাসার সংখ্যা ছিল ১৯ হাজার। তবে এখন প্রায় দুই তৃতীয়াংশ মাদ্রাসা কমে গেছে। শিক্ষকদের শুধু বেতন না দেওয়ার কারণে এসব মাদ্রাসা বন্ধ হয়ে গেছে। বেশিরভাগ শিক্ষক অভিমান করে এ পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। বিনা বেতনে কত বছর এভাবে চলা সম্ভব?

১৯৯৪ সালে একই পরিপত্রে রেজিষ্ট্রার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরে বিএনপি সরকারের সময় বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ধাপে ধাপে বেতন বাড়াতে ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক স্কুল জাতীয়করণ করা হয়। অন্যদিকে ইবতেদায়ি মাদ্রাসা একটাও জাতীয়করণ করা হয়নি। বর্তমান সরকারের কাছ থেকে অনেকবার আশ্বাস পেয়েছি।

বাংলা ট্রিবিউন: আশ্বাস পাওয়ার পরে ফলাফল কি?

কাজী রুহুল আমিন: আশ্বাসের পর আশ্বাস পেয়েই যাচ্ছি, ফলাফল শূন্য। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রথম সব ইবতেদায়ি মাদ্রাসা রেজিস্ট্রিভুক্ত করার জন্য সংসদে বলা হয়। সেখানে বলা হয়, ইবতেদায়ি মাদ্রাসার সব সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে। পরে ২০১০ সালের ৯ মে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তার সভাকক্ষে শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে অলোচনা কেবল আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে যায়। ২০১২ সালের ডিসেম্বর থেকে আমরা মাঠে নামি দাবি আদায়ে। আমাদের দাবির মুখে শিক্ষামন্ত্রী ২০১৩ সালে ৫০০ টাকা বেতন থেকে আরও ৫০০ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার করে দেন। বলেন পর্যায়ক্রমে আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হবে। কিন্তু এখনও তা মেনে নেওয়া হয়নি।

২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বরে প্রেসক্লাবে  কয়েক হাজার শিক্ষকের সামনে ইবতেদায়ি শিক্ষক সমিতি আয়োজিত এক সমাবেশে আমাদের দাবি শতভাগ যৌক্তিক বলেছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার। তিনি আমাদেরকে বলেছিলেন দাবি বাস্তবায়নের বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর হাতে এবং তার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত বাস্তবায়ন করবেন। ওই দিন একই সমাবেশে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামও প্রাথমিক শিক্ষকরা যেমন সুযোগ সুবিধা পান, ইবতেদায়ি শিক্ষকরাও যেন একই সুযোগ সুবিধা পান সে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

বর্তমানে ছয় হাজার ৮৪৮টি মাদ্রাসায়  অন্তত পাঁচজন করে প্রায় ৩৪ হাজার ২৪০ শিক্ষক কর্মরত আছেন। এদের মধ্যে মাত্র প্রায় ৪ হাজার শিক্ষককে এক হাজার টাকা করে বেতন দেওয়া হয়। অন্যদিকে বাকি পাঁচ হাজার ৩২৯ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার ৩০ হাজারের বেশি শিক্ষক এখনও বিনা বেতনে মানবেতর জীবনযাপন করে শিক্ষাদান করে যাচ্ছেন।

বাংলা ট্রিবিউন: আপানাদের দাবি মেনে না নেওয়ার কারণ কি বলে মনে করেন?

কাজী রুহুল আমিন:আমরা ইদানিং শুনছি বিএনপি সরকারের সময় নাকি একটি আইন করা হয়েছে,যেখানে বলা আছে,কোনও এলাকায় বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলে ওই স্কুলের কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে কোনও ইবতেদায়ি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে,না। যদিও এখনও এ বিষয়ে পরিষ্কার কিছু জানি না। তবে আমরা জানতাম প্রতি ইউনিয়নে একটি করে মাদ্রাসা থাকার কথা। হয়তো এই আইনটাই আমাদের দাবি আদায়ে অথবা প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। বিএনপি সরকারের সময় আমাদের বেশি ক্ষতি করা হয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন: বেতন ছাড়া অন্য কোনও সুযোগ সুবিধা কি পান?

কাজী রুহুল আমিন:আমাদের সকল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সরকারের অন্য সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক, উপবৃত্তি ও দুপুরের খাবার পায়। কিন্তু শুধু শিক্ষকরাই তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত।

বাংলা ট্রিবিউন: বেতন পান না অথচ এখনও শিক্ষকতায় আছেন কেন?

কাজী রুহুল আমিন:গ্রামের দরিদ্র পরিবারের শিশুরা মাদ্রাসায় পড়তে আসে। যদি মাদ্রাসা বন্ধ করে দেই তাহলে তারা কোথায় যাবে? তাছাড়া যারা মাদ্রাসার জন্য জমি দান করেন তারাও বিভিন্ন সময় মাথায় হাত বুলিয়ে মাদ্রাসাটা ধরে রাখার জন্য বলেন। শিশুদের মায়ায় জড়িয়ে গিয়েছি আমরা। এসবের কারণে ছাড়তে পারি না।

বাংলা ট্রিবিউন: বর্তমান পরিস্থিতি কি?

সরকারের আশ্বাসে আমরা গত মাসে আন্দোলন প্রত্যাহার করেছি। প্রেসক্লাবে দীর্ঘ এক মাস অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছি। গত মঙ্গলবার শিক্ষা সচিবের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। সেখানে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন,বলেছেন দাবি মেনে নেওয়ার ব্যাপারে সব ধরনের কাজ করা হবে। আমরাও বলেছি,দাবি যদি সরকার না মানতে পারে, তাহলে তা স্পষ্ট করে বলে দিক, আমরা ভিন্ন পথ বেছে নেব। শিক্ষকতা ছেড়ে আমরা অন্য কাজ করবো।

/আরএআর/ এমএসএম/এপিএইচ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ