Vision  ad on bangla Tribune

মুক্তিযুদ্ধে ২৬ অভিযানে অংশ নেন মোক্তার আলী

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি১৯:২৩, মার্চ ২৮, ২০১৬

মহান মুক্তিযুদ্ধে ২৬টি অভিযানে অংশ নিয়ে বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখেন গোপালগঞ্জের শেখ মোক্তার আলী। এ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্র তাকে বীরপ্রতীক খেতাব দেয়।

ইপিআর কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত বাহিনীর সঙ্গে বীরশ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফ, নূর মোহাম্মদ, বীরোত্তম মজিবর, বীর বিক্রম মনিরুজ্জামান, ক্যাপ্টেন হুদা, ক্যাপ্টেন গুপ্তর নেতৃত্বে সম্মুখ সমর ও গেরিলা যুদ্ধে অংশ নেন মোক্তার আলী।

এছাড়া চৌগাছা, গরিবপুর, যশোর ও মাগুরায় যুদ্ধে তিনিই কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধের সময় তাদের কোম্পানিকে সংগ্রামি কোম্পানি বলা হতো। যেখান থেকে ২ জন বীরশ্রেষ্ঠ, ১ জন বীরউত্তম, ২ জন বীরবিক্রম ও ১২ জন বীরপ্রতীক খেতাব পান।

বীরপ্রতীক মুক্তার আলী-১

শেখ মোক্তার আলী বলেন, জীবন বাজি রেখে তারা যুদ্ধ করেন। বোমার আঘাতে আহত হলেও তারা যুদ্ধ চালিয়ে যান। তবে জরিপের সময় তিনি ছুটিতে বাড়ি থাকায় তাকে বীর উত্তমের পরিবর্তে বীরপ্রতীক খেতাব দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর আগে সকল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দেখে যেতে চান তিনি।

১৯৭১ সালে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার হরিদাসপুর গ্রামের মৃত এজাহার আলী শেখের ছেলে শেখ মোক্তার আলী সীমান্ত জেলা চুয়াডাঙ্গায় ইপিআর (বর্তমানে বিজিবি) ফোর ব্যাটেলিয়ানের এ কোম্পানিতে নায়েক পদে চাকরি করেতন। ২৫ মার্চে কালরাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তানি বাহিনী গণহত্যা চালালে ২৬ মার্চ  এ কোম্পানিতে প্রথম বিদ্রোহ শুরু হয়। এ কোম্পানির সিপাহী গোপালগঞ্জের আড়পাড়া গ্রামের আশরাফ গুলি করে পাকিস্তানি ক্যাপ্টেন সাদেকসহ তিন সিপাহীকে হত্যা করেন। পরে পাকিস্তানি সিপাহীরা আশরাফকে গুলি করে হত্যা করে।

এ দিন ওই কোম্পানির সবাইকে চৌগাছা আর্মি ব্যাটালিয়ানের কর্নেল রশিদ গ্রেফতার করে ও পরে ছেড়ে দেয়। সন্ধ্যার দিকে মেজর ওসমানি ফের সবাইকে গ্রেফতার করে রাতে ছেড়ে দেয়।

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে শেখ মোক্তার আলী ইপআির সদস্য, পুলিশ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যুক্ত হন। ২৮ মার্চ যশোর সোনানিবাস থেকে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনে ১ ব্যাটেলিয়ান সেনা আসে। সন্ধ্যায় তারা কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনে হামলা করে পুরো ব্যাটেলিয়ানের সেনাদের হত্যা করেন। তারা কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে কুষ্টিয়া-যশোর সড়কের ব্রিজ মাইন দিয়ে উড়িয়ে দেন। সেখানে বাঁশের চাটাইতে আলকাতরা  দিয়ে ব্রিজে ফাঁদ পেতে রাখেন। 

পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তারা গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় চাটাই ভেঙে ব্রিজের নিচে পড়ে যান। গাড়ির মধ্যেই পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তারা মারা যান। পরে তারা কুষ্টিয়া থেকে যশোর হয়ে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশে রওনা দেন। পথে রাজাপুর স্টেশনে আটকা পড়েন। তারপর তাদেরকে ট্রাকে করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। ৩১ মার্চ বেনাপোলের কাগজপুর পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে লড়াই শুরু হয়।

তাদের কোম্পানি ডানে ও বরকতউল্লাহর কোম্পানি বামে অবস্থান নিয়ে যুদ্ধ করতে থাকে। হঠাৎ বরকতউল্লাহর কোম্পানি ভারতে হটে গেলে পাকিস্তানি বাহিনী তাদের কোম্পানিকে ঘিরে ফেলে। পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে বীরউত্তম মজিবর ও কোম্পানির ৩ জন সিপাহী মারা যান। পরে তারা ভারতের পেট্রাপোল স্কুলে আশ্রয় নেন।

মুক্তিযুদ্ধে এই মানুষটি অংশ নিয়েছিলেন ২৬টি অভিযানে

সেখানে বেশ কয়েকদিন থাকার পর তারা মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলার আম্রকাননে ফিরে আসেন। সেখানে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহম্মেদ, কামরুজ্জমান মুজিবনগর সরকার গঠন করে শপথ গ্রহণ করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এমএজি ওসমানীও সেখানে ছিলেন। এরপর থেকে তারা বয়রায় গেরিলা যুদ্ধ শুরু করেন। গেরিলা যুদ্ধোর সূচনা লগ্নেই সিপাহী আব্দুর রউফ রীরশ্রেষ্ঠ পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে মারা যান। পরে তাকে দর্শনায় সমাহিত করা হয়।

ঝিকরাগাছ-ছুটিপুরের মাঝামাঝি কাশিমপুর দিয়ে পাকিস্তানি বাহিনী যাতায়াত করত জানতে পেরে তারা ভোরে সেখানে মাইন পুতে রাখেন। পরে পাকিস্তানি সেনারা আসলে তারা ফায়ার করে। এ অভিযানে ৮/১০ পাকিস্তানি সেনা মারা যায়।

ঝিকরগাছা পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হলে পাকিস্তানি বাহিনী তাদের ঘিরে ফেলে। তিনিসহ ১৩ জন কচুরিপানার মধ্যে লুকিয়ে আত্মরক্ষা করেন। পরে সেখান থেকে ভারতে চলে যান। ভারতে তাদের কোম্পানির নিহতদের লাশ আনতে গিয়ে তিনি পাঞ্জাবি সৈন্য দেখে ইএমজি দিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে ৮/১০ জন পাঞ্জাবিকে হত্যা করেন।

গোয়ালহাটি যুদ্ধে অংশ নিয়ে তিনি ১ নম্বর গানম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বোমার স্পিন্টারের আঘাতে আহত হন। এ যুদ্ধে ২ নম্বর গানম্যানের দায়িত্ব পালনের সময় তোপ এসে লাগে বীর শ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের বাম পায়ে। আহত হয়ে ক্রোলিং করে ২ রশি যাওয়ার পর পাকিস্তানি বাহিনী তাকে অনুসরণ করে বেওনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে।

যাদবপুর যুদ্ধে ময়মনসিংহের বীরবিক্রম সাত্তারসহ ২ জন মারা যান। পাকিস্তানি বাহিনী সেখান থেকে একজনকে ধরে নিয়ে যায়। রাতে সাত্তারের লাশ নিয়ে এসে কাশিমপুরে দাফন করেন তারা।

/এমএস/এসএনএইচ/টিএন/

samsung ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ