behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

দেড়মাসেও ঘর গোছানো হয়নি ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের

আমানুর রহমান রনি০৭:১৮, এপ্রিল ০৪, ২০১৬

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নবগঠিত ইউনিট ‘কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটি)’ গঠনের প্রায় দেড়মাস পার হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই ইউনিট স্বয়ংসম্পূর্ণ নিজস্ব জনবল নিয়ে কাজ শুরু করতে পারেনি। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কয়েকজন কর্মকর্তা ও কয়েকটি ইউনিটকে সিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এখনও বড়পদগুলো খালি রয়েছে। ডিবির সদস্যরাই মূলত সিটির অপারেশন কাযক্রম পরিচালনা করছেন। পৃথক ইউনিট হিসেবে পুরোধমে কাজ শুরু করতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে বলে ডিএমপি থেকে জানানো হয়েছে।
জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় ও আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনসহ সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু হয় সিটি ইউনিটের। এমন একটি ইউনিট গঠনের দাবি জানিয়েছিল পুলিশ। গঠনের পাঁচদিনের মাথায় ২০ ফেব্রুয়ারি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় রাজধানীর বাড্ডা ও মোহাম্মদপুর, উত্তরা ও টঙ্গিতে একই রাতে একযোগে অভিযান চালায়। এর মধ্যে বাড্ডার সাতারকুল এলাকার জিএম বাড়ির একটি বাসায় থাকা জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালাতে গিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের এক পুলিশ পরিদর্শক গুলিবিদ্ধ হন। ওই জঙ্গি আস্তানা থেকে দুই জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ঢাকা উদ্যান সংলগ্ন নবোদয় হাউজিংয়ের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান বিস্ফোরক উদ্ধার করে ডিবি ও সিটি। এছাড়া ইয়াবা চালান ধরতে সিটি কাজ করেছে বলে জানিয়েছেন এই ইউনিটের প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম। গঠনের পরই সিটির এই অভিযান ব্যাপক প্রশংসিত হয়।  

ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে,  ইউনিটে ছয় শতাধিক জনবল নিয়ে কাজ করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত অর্ধেকেরও কম জনবল পেয়েছে। ডিসি ও যুগ্ম কমিশনার পোস্টে এখনও কেউ আসেননি। আগামী সপ্তাহে একজন যুগ্ম কমিশনার দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ডিসিদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। তবে ডিবির আগের বোম ডিস্পোজাল টিম, সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ টিমসহ কয়েকটি ইউনিটকে সিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যারা এখন কাজ করছেন।  

সিটির অর্গানোগ্রামে ডিআইজি পদ একটি, অতিরিক্ত ডিআইজি পদ একটি, ডিসি পদ ৪টি, এডিসি পদ ১০টি, এসি পদ ২০টি, ইনসপেক্টর ৪০টিসহ অন্যান্য অফিসার ও ফোর্সের সমন্বয়ে ইউনিটটির কাজ করার কথা রয়েছে। এছাড়া, চারটি বিভাগে বিভক্ত হয়ে কাজ করবে এ ইউনিট। বিভাগগুলো হলো কাউন্টার টেররিজম বিভাগ, সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগ, ক্রাইমসিন ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগ। এসব বিভাগ আগেই ডিবিতে ছিল। যা এখন সিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ডিবির সব গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট এখন সিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাই ডিবির পদ কমে যাবে। যা সিটিতে যোগ হবে। ডিএমপির এক কর্মকর্তা বলেন, ৬০৩ জন সদস্য সিটিতে কাজ করবেন। ইতোমধ্যে ৩শয়ের মতো সদস্যের পোস্টিং হয়েছে। তারা ক্রমান্বয়ে যোগ দিচ্ছেন। বাকিরাও ধীরেধীরে যোগ দেবেন। ডিবি থেকে কিছু পদ কমে যাবে। যা সিটিতে চলে যাবে। যেমন ডিবির কাউন্টার টেররিজম সেল ছিল। এটা থাকবে না। সাইবার ক্রাইম টিম, অর্থ সংক্রান্ত অপরাধ যে টিম দেখতো, তাও থাকবে না। বোম ডিস্পোজাল টিম থাকবে না। এ রকম ২০ থেকে ২২ টি টিম নিয়ে কাউন্টার টেররিজম থাকবে। তাই এসব টিমের পদ এখন থেকে সিটির। তারা সিটির হয়ে কাজ করবেন। তিনি বলেন, আগের অভিযানের মামলাগুলো ডিবি করেছে। ডিসিরা সিটির অন্তর্ভুক্ত ইউনিটগুলোর দায়িত্ব গ্রহণের পর তারাও মামলা তদন্ত শুরু করবেন।

সিটিতে শিগগিরই জনবল দিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ ইউনিট করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অ্যাডমিন) শাহাবুদ্দিন কোরাইশি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ডিএমপিতে এই মুহূর্তে পুলিশ সুপার (এসপি) বা উপকমিশনার (ডিসি) মর্যাদার কোনও কর্মকর্তা নেই। এসপি পদ মর্যাদার কর্মকর্তা ডিএমপিতে এলে তাদের সিটিতে পোস্টিং দেওয়া হবে। দ্রুত কাউন্টার টেররিজম ইউনিটে জনবল দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনও যুগ্ম কমিশনার ও ডিসি দেওয়া হয়নি। কবে নাগাদ দেওয়া হবে, তাও এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। তবে পেলেই দেওয়া হবে। 

সিটি গঠনের পর এর প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেছিলেন, সন্ত্রাসবাদ, সন্ত্রাবাদে অর্থায়ন, সন্ত্রাসবাদে সহায়ক অপরাধগুলো প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা এ ইউনিটের মূল উদ্দেশ্য। এতে ইন্টেলিজেন্স কালেকশন, অপারেশন পরিচালনা, মামলা রুজু, মামলা তদন্ত এবং তদন্ত-উত্তর সন্ত্রাসীদের পর্যবেক্ষণে রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

/এমএনএইচ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ