Vision  ad on bangla Tribune

ভোটকেন্দ্রে গুলিতে শিশু হত্যার বিচার দাবিতে ফুঁসে উঠছে কেরানীগঞ্জশুভর বাবাকে গাড়ি কিনে দিয়ে মীমাংসা করতে চান আ.লীগের চেয়ারম্যান!

আমানুর রহমান রনি২২:০১, এপ্রিল ০৪, ২০১৬

শুভ কাজীভোটকেন্দ্রে শিশু শুভ কাজীকে(৯) গুলি করে হত্যার বিচারের দাবিতে কেরানীগঞ্জের হযরতপুরের সব শ্রেণির মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে এলাকাবাসী একট্টা হয়ে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি পালন করছে। তবে এখনও গ্রেফতার হয়নি শুভর হত্যাকারীরা। এদিকে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আয়নাল শুভর বাবাকে গাড়ি কিনে দেওয়ার কথা বলে মীমাংসার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার দুপুরে হযরতপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর মোড়ে শুভ হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন হয়। এতে এলাকার নারী ও শিশুসহ সব শ্রেণির মানুষ অংশ নেয়। এসময় এলাকাবাসী শুভ হত্যার বিচারের দাবিতে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করে।
গত ৩১ মার্চ সকালে হযরতপুর ইউনিয়নের ঢালিকান্দি এলাকার মধুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নয় বছরের শিশু শুভ কাজীকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। শুভ ওই স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাবা হালিম কাজী অটোরিকশা চালক। দুই ভাই-বোনের মধ্যে শুভ ছিল বড়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসীর অভিযোগ, হত্যাকারীরা আওয়ামী লীগের মনোনীত নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আয়নালের কর্মী। তার অনুসারী রানা মোল্লার নেতৃত্বে ওই ভোটকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়।
নিহত শুভর চাচা সালাল কাজী ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এক থেকে দুই মিনিট গোলাগুলি হলো। গুলি করতে করতে তারা (সন্ত্রাসীরা) ভোটকেন্দ্র থেকে বের হয়ে যায়। সবার বুকে নৌকার ব্যাজ লাগানো ছিল। ভোটকেন্দ্র থেকে দৌড়ে বাইরে আসা অনেকেই ওই সময় একটি বাচ্চাকে স্কুল মাঠে উপুর হয়ে পড়ে থাকতে দেখে। তারা ধারণা করছিল ছেলেটি আমার। আমি দৌড়ে ভেতরে গিয়ে দেখি সে আমার ছোটভাই হালিমের ছেলে শুভ। আমি বাবা বলে চিৎকার করি, তাকে কোলে নিয়ে দৌড় দেই। কিন্তু স্কুলের মাঠের বাইরে আসার সঙ্গে সঙ্গে শুভ দুটি শব্দ করে। তখনই আমি বুঝতে পারি বাবা আমার নেই। এরপর স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেই। তারা সেখান থেকে শিকদার মেডিক্যালে নিতে বলে। সেখানে নিয়ে যাই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান শুভ আর নেই। আমরা শুভকে বাড়িতে নিয়ে আসি। পরে গুলি বের করার কথা বলে পুলিশ শুভর লাশ নিয়ে যায়। তারা রাতে আবার লাশ ফেরত দিয়ে যায়।’

শুভ কাজীর হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

নিহতের বাবা হালিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ৪০ থেকে ৫০ জন একসঙ্গে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেন। তাদের প্রত্যেকের বুকে নৌকার ব্যাজ লাগানো ছিল। এদের মধ্যে ১০ থেকে ১৫ জনের হাতে অস্ত্র ছিল। তারা গুলি করতে করতে বের হয়। কিন্তু কোনও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে দেখলাম না। তারা কাদের গুলি করে তাও বুঝতে পারিনি। গোলাগুলি যখন শুরু হয় আমি তখন দৌড়ে বের হয়ে আসি। ভোট দেইনি। এসময় ভোটকেন্দ্রে ৩ থেকে ৪ জন পুলিশ ছিলেন। তারা স্কুলের গেটে তালা দিয়ে দোতলায় বসে ছিলেন। এক মিনিটের মধ্যে ভোটকেন্দ্রটি খালি হয়ে যায়। এরপর শুনি আমার ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আমি সিএনজি নিয়ে শিকদার মেডিক্যালে যাই। গিয়ে শুনি ছেলে আমার বেঁচে নেই।

আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আয়নালের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর তিনি কয়েকবার আমার কাছে এসেছে। আমাকে গাড়ি কিনে দেওয়ার কথা বলেছেন। তিনি এসব কথা কেন বলেন আমি জানি না। আমার ছেলে মারা গেছে, আমি গাড়ি দিয়ে কি করব? আমার এসবের দরকার নাই। আমি তাদের বলে দিয়েছি, তারপরও তারা সকাল-বিকাল আমার বাড়ি এসে বসে থাকে।’

এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা হলেও তাতে কারও নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়নি। তবে পুলিশ স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজনের নাম জানতে পেরেছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদাউস হোসেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিহতের পরিবার মামলাই করতে চায়নি। তারা গরিব বলে ভয় পায়। পরে আমরা তাদের বুঝিয়ে একটা মামলা দায়ের করেছি। মামলাটি নিয়ে থানা-পুলিশ কাজ করলেও ডিবি ও পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন ইউনিট কাজ করছে। আমরা রানা মোল্লা নামে একজনসহ আরও কয়েকজনের নাম পেয়েছি। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘হামলাকারীরা সবাই বহিরাগত। তাদের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন ছিল যারা গাঢাকা দিয়েছে। তবে তাদের গ্রেফতার করা হবে। কেউ ছাড় পাবে না।’

/এআরআর /এএইচ/

লাইভ

টপ