Vision  ad on bangla Tribune

সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ফসসুইস ব্যাংক থেকে নিরাপত্তা সহযোগিতা নিতে পারে এ দেশের ব্যাংকগুলো

শেখ শাহরিয়ার জামান১২:০১, এপ্রিল ০৭, ২০১৬

সুইস রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ফস
নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সুইস ব্যাংকগুলোর সুনাম সারা পৃথিবীতে। শুধু সাধারণ গ্রাহকদের জন্য রয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সম্প্রতি সংঘটিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা চুরি বা এটিএম থেকে টাকা চুরির যে ঘটনা ঘটেছে তা নিরাপত্তা ঘাটতির জন্য এবং এ বিষয়ে সুইস ব্যাংকের রয়েছে বিস্তর জ্ঞান। কথাগুলো বলছিলেন বাংলাদেশে কর্মরত সুইস রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ফস।

বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরি একটি টেকনিক্যাল বিষয়। এ বিষয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোকে সহযোগিতা দিতে পারে সুইস ব্যাংকগুলো।

১৯৭২ সালের মার্চ মাসে সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় এবং প্রথম থেকেই তারা বাংলাদেশকে উন্নয়ন সহযোগিতা দিয়ে আসছে। বাংলাদেশের জন্য সুইজারল্যান্ডের ২০১৩-১৬ সাল মেয়াদের উন্নয়ন সহযোগিতা কৌশলের অধীনে প্রতিবছর ৩০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রদূত বলেন,বর্তমানে দুই দেশ ২০১৭-২০ মেয়াদের কৌশল নির্ধারণের জন্য আলোচনা করছে এবং তিনি আশা করেন,এটিই হবে শেষ উন্নয়ন সহযোগিতা কৌশল।

তিনি মনে করেন,বাংলাদেশ সরকারের লক্ষ্য, ২০২১ সাল নাগাদ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে এবং তখন দুদেশের সম্পর্কের মূল লক্ষ্য হবে উন্নয়ন সহযোগিতা থেকে সরে গিয়ে বাণিজ্য সহযোগিতা। অবশ্যই উন্নয়ন সহযোগিতা তখনও থাকবে কিন্তু সম্পর্কের ফোকাস হবে অর্থনৈতিক সম্পর্ক।

সুইস ব্যাংকে অর্থ পাচার

রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রতিবছর সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখনই তার বৈদেশিক সম্পদের পরিমাণ ঘোষণা করে, তখনই কোন দেশ থেকে কত অর্থ সুইস ব্যাংকগুলোতে জমা করা হয়েছে, সেটির বিষয়ে সবার কৌতূহল বাড়ে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। আমরা বিষয়টি শুধু সংবাদপত্রে দেখি,কিন্তু এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কাছে কখনও জানতে চাওয়া হয়নি যে, কার কত টাকা সুইস ব্যাংকগুলোতে আছে।বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে সরকারি লেভেলে একটি বোঝাপড়া আছে, যার অধীনে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও তথ্যের জন্য অনুরোধ করলে সুইজারল্যান্ড সেটি দেবে। তবে সুইস ব্যাংকের তথ্য প্রদান সংক্রান্ত বিধিনিষেধ আগের মতো নেই। কারণ আমরা ওইসিডি গাইডলাইন্স অনুসরণ করছি এবং এ তথ্য প্রদানের বিষয়টি বেসরকারি ব্যংকগুলোর জন্যও প্রযোজ্য।

বাংলাদেশ-সুইজারল্যান্ড বাণিজ্য

রাষ্ট্রদূত বলেন,বেশির ভাগ দেশের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত থাকলেও বাংলাদেশের সঙ্গে তার বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। গত বছর দুই দেশের মোট বাণিজ্য ৫০০ মিলিয়ন ডলারের উপরে এবং বাংলাদেশের রফতানি ৩৫১ মিলিয়ন ডলার।

তিনি বলেন,প্রতিবছর দুই দেশের বাণিজ্য বাড়ছে ১০ শতাংশের উপরে। ২০১০ সালেও দুই দেশের বাণিজ্য ছিল ২৫০ মিলিয়ন ডলারের মতো অর্থাৎ পাঁচ বছরে এটি দ্বিগুণ হয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্প ও চামড়াজাত পণ্য সুইজারল্যান্ডে রফতানি করে থাকে বাংলাদেশ।আমদানি করে ওষুধ ও যন্ত্রপাতি।

রাষ্ট্রদূত বলেন,বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছে রোশ ও নোভারটিস। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জৈব-জ্বালানি, মেডিক্যাল ও ক্লিনিক্যাল ইকু্ইপমেন্ট, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সুইজারল্যান্ডের আগ্রহ আছে এবং ভবিষ্যতে এ খাতগুলোতে উজ্জ্বল সম্ভাবনা আছে।

মিডিয়ার ভূমিকা

রাষ্ট্রদূত বলেন,যেকোনও রাষ্ট্রযন্ত্রের সঠিক পথে পরিচালনের জন্য মিডিয়ার ভূমিকা আছে এবং তাদেরকে সঠিকভাবে কাজ করতে দিতে হবে। আমরা সবাই জানি বর্তমানে বাংলাদেশের বাক স্বাধীনতা নিয়ে একটি বিতর্ক চলছে এবং এ বিষয়ে আমি বলতে চাই- সাংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সব মিডিয়া যদি এক ধরনের খবর দেয় তবে সেটি হবে অর্থহীন।

সুইজারল্যান্ডের মিডিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, সে দেশের প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স কয়েক ধাপ পিছিয়ে গেছে। তবে সেটি সরকারের সেন্সরশিপ আরোপের জন্য নয় বরং অর্থনৈতিক ভূমিকার কারণে এটি ঘটেছে।

এছাড়া, সুইজারল্যান্ডের মিডিয়া মালিকরা ব্যবসায়ী এবং তারা ব্যবসায়িক স্বার্থে অনেক সময় অনেক তথ্য জনগণকে জানায় না।

উদ্বাস্তু সমস্যা

সুইজারল্যান্ড একটি বহুমুখী কালচারাল সমাজ ব্যবস্থা এবং এর ২৫ শতাংশ নাগরিক অভিবাসী। আট মিলিয়ন লোকের মধ্যে ২ মিলিয়ন বিভিন্ন দেশ থেকে এখানে এসেছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমানে ইউরোপে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মুসলিম উদ্বাস্তুরা আসছে এবং এর একটি অংশ সুইজারল্যান্ডেও আসছে। এদেরকে সুইস সমাজে একাত্ম করে নেওয়া হবে এবং সেটি তাদের নিজস্ব পরিচয়কে বাদ দিয়ে নয়। তাছাড়া একজন উদ্বাস্তুকে জোর করা উচিৎ নয়।কারণ তিনি নিজ দেশের সবকিছু ভুলে সে দেশের কালচার ও মূল্যবোধকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করতে আশ্রয় নিয়েছে।

তিনি মনে করেন, তাদের ধর্ম ও সামাজিক বন্ধনকে সম্মান জানাতে হবে এবং এভাবেই তাদেরকে সমাজে একীভূত করা সম্ভব। এছাড়া সব উদ্বাস্তুকে বস্তিতে রাখা মোটেই উচিৎ নয় বরং তাদেরকে নাগরিকদের সঙ্গে মেলামেশা করতে দেওয়া দরকার।

ছবি: নাসিরুল ইসলাম

/এএইচ/আপ-- এপিএইচ

লাইভ

টপ